logo
বৃহস্পতিবার , ৩ নভেম্বর ২০২২ | ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ক্যারিয়ার ভাবনা
  5. খেলা
  6. জাতীয়
  7. টেক নিউজ
  8. দেশের খবর
  9. প্রবাস
  10. ফিচার
  11. বিনোদন
  12. রাজনীতি
  13. লাইফস্টাইল
  14. সম্পাদকীয়
  15. সাফল্য

রপ্তানি বৃদ্ধি ও বিদ্যুতের ভর্তুকি কমানোর পরিকল্পনা জানতে চেয়েছে আইএমএফ

প্রতিবেদক
admin
নভেম্বর ৩, ২০২২ ৮:৪২ পূর্বাহ্ণ

রপ্তানি আয় বাড়াতে সরকারের পরিকল্পনা জানতে চেয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। পাশাপশি বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি কমাতে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও জানতে চেয়েছে সংস্থাটি। গতকাল বুধবার সফররত আইএমএফ প্রতিনিধিদল বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সঙ্গে পৃথক পৃথক বৈঠক করেছে। বৈঠক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

ঋণ নিয়ে সরকারের সঙ্গে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আগামী তিন বছরের রপ্তানি আয় প্রাক্কলনের তথ্য জানতে চায় সংস্থাটি। সম্প্রতি রপ্তানি আয় কমার কারণ এবং রফতানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনতে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কেও জানতে চাওয়া হয়। বৈঠকে পাঁচ সদস্যের আইএমএফ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন সংস্থাটির দক্ষিণ এশীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান রাহুল আনান্দ। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণে বাংলাদেশের প্রস্তুতি, উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পদক্ষেপ, ট্যারিফ কাঠামো যৌক্তিকীকরণ, পণ্যের বহুমুখীকরণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আইএমএফ কর্মকর্তাদের জানান, রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ নিয়ে কাজ করছে সরকার। বর্তমানে রপ্তানি পণ্যে ৮০ শতাংশ আসছে তৈরি পোশাক শিল্প খাত থেকে। এর বাইরে প্লাস্টিক, তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্য অর্জনে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। রপ্তানি আয় কমার কারণ সম্পর্কে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চলতি অর্থবছরের আগস্ট পর্যন্ত আয় ভালো ছিল। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে তা কিছুটা কমে গেছে। বাংলাদেশি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপ। ইউরোপে অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হওয়ার প্রভাব পড়েছে রপ্তানি আয়ে। ইতিমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ঘোষণা দিয়েছে, এলডিসি উত্তোরণ হলেও তারা ২০২৬ সালের পর আরো তিন বছর বাংলাদেশের পণ্যকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে। এ ছাড়া এই সুবিধা অব্যাহত রাখতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) কাছে বাংলাদেশ ছয় বছর সময় চেয়েছে। এই সময়ের মধ্যে প্রস্তুতি নেওয়া যাবে। কাজেই রপ্তানি নিয়ে বাংলাদেশের শঙ্কার কারণ নেই।

বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় রিজার্ভের চাপ কমাতে আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বৈঠকে এলসি খোলার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে এর প্রভাব সম্পর্কে জানতে চায় আইএমএফ। জবাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, ভোগ্যপণ্য ও অপ্রয়োজনীয়সহ নির্দিষ্ট কিছু পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশ্ববাজারে ঐসব পণ্যের দাম কমছে। ফলে বাংলাদেশেও ঐসব পণ্যের দাম কমে আসবে শিগিগরই। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, সরকার ট্যারিফ কাঠামো যৌক্তিকীকরণ নিয়ে কাজ করছে। এটি চূড়ান্ত হলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বাস্তবায়ন করবে। তা ছাড়া রাজস্ব আয় বাড়াতে কর-জাল সম্প্রসারণসহ নানামুখী সংস্কারমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে এনবিআর। বাণিজ্য নীতি বা ট্রেড পলিসির খসড়া প্রায় চূড়ান্ত করেছে ট্যারিফ কমিশন। এসব পদক্ষেপের ফলে রাজস্ব আহরণ আরো বাড়বে বলে প্রত্যাশা করা হয়েছে বৈঠকে।

পিডিবিকে দুই প্রশ্ন আইএমএফের

তথ্য সংগ্রহের জন্য আইএমএফ প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সঙ্গে গতকাল বুধবার পৃথক বৈঠক করেছে। এতে সরকারের কাছ থেকে ভর্তুকি গ্রহণ এবং ক্যাপাসিটি পেমেন্ট—এ দুটি বিষয় সামনে আনে আইএমএফ প্রতিনিধিদল। বাজেটে চাপ কমাতে ভর্তুকি হ্রাসে পিডিপির পরিকল্পানও জানতে চাওয়া হয়। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আইএমএফের প্রতিনিধিদল জানতে চেয়েছে সরকারি ঋণের বাইরে বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে পিডিবির লোকসান হয় কি না। এই প্রশ্নের জবাবে পিডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সঙ্গত কারণেই সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনে পিডিবিকে ভর্তুকি দেয়। বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে পিডিবিকে ঋণের অর্থ এবং সুদ দুটি পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু সরকারের কাছ থেকে ভর্তুকি নিলে তা পরিশোধ করতে হয় না।

সরকার ভর্তুকি বন্ধ করে দিলে পিডিবি কী করবে জানতে চাইলে পিডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তখন পিডিবি সরকারের নীতি মেনেই কাজ করবে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকার প্রতি বছর বাজেটে নির্দিষ্ট পরিমাণ বরাদ্দ রাখে। ভর্তুকি হিসেবে এই অর্থ পিডিবিকে দেওয়া হয়। যদিও অর্থ বিভাগ বরাবরই বলে থাকে ২ শতাংশ সুদে এটি পিডিবির জন্য ঋণ-সহায়তা। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, আইএমএফের প্রতিনিধিদল জানতে চায়—২০৩০ সালের পর ক্যাপাসিটি পেমেন্ট আর পরিশোধ করতে হবে কি না? এই প্রশ্নের জবাবে পিডিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা এখনো বিষয়টি পর্যালোচনা করেনি। বেশ কয়েকটি নতুন বেসরকারি বিদ্যুেকন্দ্র আসছে। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদনে আসলে ক্যাপাসিটি পেমেন্ট পরিশোধ করতে হবে। এখনই ক্যাপাসিটি পেমেন্টের বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। বৈঠকে পিডিবি চেয়ারম্যান ছাড়াও পিডিবির কয়েক জন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তবে পিডিবি চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

সর্বশেষ - দেশের খবর