logo
বৃহস্পতিবার , ১৩ অক্টোবর ২০২২ | ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ক্যারিয়ার ভাবনা
  5. খেলা
  6. জাতীয়
  7. টেক নিউজ
  8. দেশের খবর
  9. প্রবাস
  10. ফিচার
  11. বিনোদন
  12. রাজনীতি
  13. লাইফস্টাইল
  14. সম্পাদকীয়
  15. সাফল্য

রাজশাহীতে এজেন্ট ব্যাংকের প্রতারণার শিকার ১৫০ যুবা

প্রতিবেদক
admin
অক্টোবর ১৩, ২০২২ ৯:০৪ পূর্বাহ্ণ

রাজশাহীতে আরব বাংলাদেশ (এবি) ব্যাংকের ১২টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট খুলে চাকরি দেওয়ার কথা বলে দেড় শতাধিক তরুণ-তরুণীর কাছ থেকে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রাজশাহী মহানগরীর কোর্ট এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী প্রতারিত যুবক-যুবতিরা এবি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়েও অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি নিয়ে সেলিমকে ১১ অক্টোবর এবি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে ডেকে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

জানতে চাইলে ব্যাংকটির এজেন্ট ব্যাংকিং লিড কর্মকর্তা জানান, এ ধরনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহীর ঐ আউটলেটগুলোর স্বত্বাধিকারীকে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তিনি কী উত্তর দেন, তার ওপর নির্ভর করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্যাংকের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ যুবকদের সঙ্গে কোনোরকম প্রতারণা হোক, তা তারা চান না বলেও দাবি করেন তিনি।

রাজশাহীর দুর্গাপুরে এবি ব্যাংকের আমগাছীহাট এজেন্ট আউটলেটে গিয়ে দেখা যায়, পাঁচ-সাত জন তরুণ-তরুণী আউটলেটে বসে আছেন। কেউ গল্প করছেন, কেউ মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত। তেমন কাজকর্ম না থাকায় তারা প্রতিদিন এভাবেই অধিকাংশ সময় কাটিয়ে বাড়ি চলে যান বলে জানান আদরি খাতুন নামে এক তরুণী।

তিনি বলেন, এখানে তেমন কাজ নেই। প্রতিদিন প্রায় বসে থেকেই সময় কাটে। দুই-এক জন নতুন গ্রাহক আসলে ফরম পূরণ করে দেই। গত জানুয়ারি মাসে তিনি নিয়োগ পেয়েছেন। এখানে আউটলেট খুলেছেন সেলিম রেজা নামে একজন। তাকে ৩ লাখ টাকা জামানত হিসেবে দিয়ে নিয়োগ পেয়েছেন তিনি। প্রথম দুই মাস ৬ হাজার টাকা করে বেতন দিয়েছে। এর পর থেকে আর কোনো বেতন দেওয়া হয়নি।

আদরি জানান, ধারদেনা করে টাকা দিয়ে এখানে চাকরি নিয়েছেন। এখন বেতন না পেয়ে খুব কষ্টে আছেন।

ঐ আউটলেটের ইনচার্জ মিঠুন আলী বলেন, তাকে ১২ হাজার টাকা বেতন দেবেন বলে ২ লাখ টাকা নিয়েছেন সেলিম রেজা। কিন্তু প্রথম দুই মাস মাত্র ৬ হাজার টাকা বেতন দিয়েছে। এরপর গত আট মাস ধরে আর বেতন দেওয়া হয়নি। একইভাবে এখানে ১২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয় ২ থেকে ৪ লাখ টাকা করে নিয়ে। তাদের মধ্যে কয়েক জন আর আসেননি বেতন না পেয়ে। কিন্তু আমরা এখনো আশা ছাড়িনি। আমাদের টাকা ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা ঢাকাতেও এ বিষয়ে অভিযোগ করেছি।

মিঠুন আলী বলেন, তাদের কাজ হলো আউটলেটে বসে গ্রাহকদের সেবা দেওয়া। কিন্তু তাদের দিয়ে প্রথম দিকে এনজিও করানোর চেষ্টা করেন সেলিম রেজা। এনজিওর মাধ্যমে গ্রাহক তৈরি ও সেই টাকা ডিপোজিট করানোর চেষ্টা করেন সেলিম রেজা। তার স্ত্রী সাদিয়া রোমানা আউটলেটের স্বত্বাধিকারী। কিন্তু লোক নিয়োগ এবং প্রতিষ্ঠান দেখভালের কাজ করেন সেলিম রেজা। তবে গত প্রায় ছয় মাস ধরে তিনি আর অফিসে আসেন না। বেতন চাইলেও ‘দেব-দিচ্ছি’ বলে ঘুরানো হচ্ছে। বাধ্য হয়ে তারা ঢাকায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অভিযোগ করেছেন।

ব্যাংকটির আলিপুর আউটলেটের ইনচার্জ ফরহাদ রেজা বলেন, তার কাছ থেকে ৪ লাখ টাকা নিয়েছেন সেলিম রেজা। কিন্তু তাকেও ঠিকমতো বেতন দেওয়া হয়নি। তাকে সেখান থেকে সরিয়ে আবারও টাকা নিয়ে আরেক জনকে নিয়োগ দিয়েছে। মূলত নিয়োগের নামে প্রতারণা ও অর্থ হাতিয়ে নেওয়াই সেলিম রেজার মূল উদ্দেশ্য। আউটলেটের আরেক যুবক রবিউল ইসলাম বলেন, রাজশাহী জেলার বিভিন্ন স্থানে ব্যাঙের ছাতার মতো ১২টি আউটলেট খুলে প্রায় দেড় শ কর্মী নিয়োগ দিয়েছেন সেলিম রেজা, যাদের কাছ থেকে অন্তত কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু কাউকেই দুই মাসের বেশি বেতন দেওয়া হয়নি। প্রত্যেককে বেতনের জন্য ঘোরানো হচ্ছে। প্রভাবশালীদের সঙ্গে যাদের সম্পর্ক আছে, তারা এরই মধ্যে সেলিম রেজার কাছ থেকে জামানতের টাকা আদায় করেছেন। কিন্তু অন্যরা টাকা তুলতে পারছেন না। রবিউল জানান, তিনি জমি বন্ধক রেখে সেলিমকে ৩ লাখ টাকা দিয়েছিলেন।

এদিকে মোবাইল ফোনে সেলিম রেজার কাছে এসব বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি টাকা নিয়ে নিয়োগের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেন। তবে তিনি বিষয়টি নিয়ে সাক্ষাতে ‘কথা বলবেন’ বলে এই প্রতিবেদককে প্রস্তাব দেন।

এ বিষয়ে এবি ব্যাংকের রাজশাহী শাখার ম্যানেজার এ টি এম নূরুল্লাহ বলেন, ‘আমরা কিছু শর্তসাপেক্ষে আউটলেটের অনুমোদন দিয়েছি। বিষয়টি প্রধান কার্যালয়ের এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা বলতে পারবে।’ উত্থাপিত অভিযোগ নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

সর্বশেষ - দেশের খবর

আপনার জন্য নির্বাচিত