logo
শুক্রবার , ১০ জুন ২০২২ | ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ক্যারিয়ার ভাবনা
  5. খেলা
  6. জাতীয়
  7. টেক নিউজ
  8. দেশের খবর
  9. প্রবাস
  10. ফিচার
  11. বিনোদন
  12. রাজনীতি
  13. লাইফস্টাইল
  14. সম্পাদকীয়
  15. সাফল্য

বাজেট ২০২২-২৩ সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বাড়ল বরাদ্দ

প্রতিবেদক
admin
জুন ১০, ২০২২ ৯:২৭ পূর্বাহ্ণ

২০২২-২৩ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী খাতে বরাদ্দ ও উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এ খাতে নতুন অর্থবছরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা বাজেটের ১৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ ও জিডিপির ২ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

২০২১-২২ অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ৭ হাজার ৬১৪ কোটি টাকা। এ হিসাবে বরাদ্দ বেড়েছে ৫ হাজার ৯৬২ কোটি টাকা। এছাড়া ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১১ লাখ উপকারভোগী বাড়ানো হচ্ছে।

দেশে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী খাতের আওতায় ১২৩টি কর্মসূচি বা বিষয় রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করছে ২৪টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। এগুলোর মধ্যে ৮টি কর্মসূচি হচ্ছে নগদ ভাতা, আর ১১টি খাদ্য সহায়তা।

নতুন বাজেটে খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক কল্যাণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কর্মসৃজন, অবসর ও পারিবারিক ভাতা এবং অন্যান্য এই মোট ছয় খাতে ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী বাজেটে খাদ্য নিরাপত্তায় ১৯ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি বাজেটে এ খাতে ১৮ হাজার ৪৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। সে হিসাবে বরাদ্দ বাড়ছে ৫৭০ কোটি টাকা।

খাদ্য নিরাপত্তায় ওএমএস, ভিজিডি, ভিজিএফ, কাবিখা, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি রয়েছে। নতুন বাজেটে সামাজিক কল্যাণ খাতে ৩৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

চলতি বাজেটে ৩২ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা রয়েছে। এ খাতের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র, বেদে, হিজড়া, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে সাহায্য করা হয়। আগামী বছরের বাজেটে মানবসম্পদ উন্নয়নে ৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি বাজেটে রয়েছে ৫ হাজার ৯২১ কোটি টাকা। প্রতিবন্ধীদের শিক্ষা উপবৃত্তি, প্রাথমিক ছাত্রছাত্রী উপবৃত্তি, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক উপবৃত্তিতে এ টাকা খরচ করা হবে।

কর্মসৃজন খাতে আগামী বছরের নতুন বাজেটে ১৯ হাজার ৭০০ কোটি বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি বাজেটে এই খাতে বরাদ্দ রয়েছে ১৮ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা। কাবিখা, উন্নয়ন প্রকল্প বা কর্মসূচিতে এই বরাদ্দের টাকা ব্যয় হয়। অবসর ও পারিবারিক ভাতায় নতুন বাজেটে ২৭ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হচ্ছে। চলতি বাজেটে রয়েছে ২৬ হাজার ৬৯০ কোটি টাকা।

বয়স্ক, বিধবা, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী, মাতৃত্বকালীন ভাতা, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানি দিতে এ টাকা ব্যয় করা হবে। এছাড়া নতুন বাজেটে ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে ৬ হাজার কোটি টাকার প্রস্তাব করা হয়েছে। চলতি বাজেটে এ খাতে ৪ হাজার ৯৭০ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।

আগামী অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে আওতা বাড়ছে শুধু বয়স্ক ও বিধবাদের ক্ষেত্রে। এই কর্মসূচির আওতায় নতুন করে আরও ১০০ উপজেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এতে যুক্ত হবে ১১ লাখ নতুন উপকারভোগী। সব মিলিয়ে নতুন বাজেটে এর সংখ্যা দাঁড়াবে ৬৮ লাখ। তবে ভাতার পরিমাণ বাড়বে না। এ কর্মসূচির আওতায় গত তিন অর্থবছর ধরে উপকারভোগীরা প্রতি মাসে ৫০০ টাকা হারে ভাতা পাচ্ছেন, যা আগামী বছরেও অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিবন্ধী ভাতা বাড়ল ১০০ টাকা : প্রতিবন্ধীদের জন্য ৭৫০ টাকা করে ভাতা রয়েছে বর্তমানে। আগামী অর্থবছর থেকে এটা ১০০ টাকা বাড়িয়ে ৮৫০ টাকা করা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে ২০ লাখ ৮ হাজার প্রতিবন্ধীর জন্য ভাতা বরাদ্দ ছিল। উপকারভোগীর সংখ্যা আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩ লাখ ৫৭ হাজার বাড়িয়ে ২৩ লাখ ৬৫ হাজারে উন্নীত করা হবে। নতুন অর্থবছরে প্রতিবন্ধী ভাতা বাবদ ২ হাজার ৪২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

মা ও শিশুসহায়তা কর্মসূচি : এ ছাড়া শহর ও গ্রাম মিলিয়ে ৭ লাখ ৭০ হাজার দরিদ্র মায়ের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতা এবং ২ লাখ ৭৫ হাজার কর্মজীবী মায়ের জন্য ভাতা দিয়ে আসছে সরকার। দুটি কর্মসূচিকে এক করে আগামী অর্থবছর থেকে নতুন নাম দেওয়া হচ্ছে ‘মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি’। ২০২১-২২ অর্থবছরে এ কর্মসূচিতে মোট উপকারভোগীর ১০ লাখ ৪৫ হাজার থেকে ২ লাখ ৯ হাজার বৃদ্ধি করে আগামী অর্থবছরে ১২ লাখ ৫৪ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে। এ খাতে ২০২২-২৩ অর্থবছরে মোট বরাদ্দ ১ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা।

মুক্তিযোদ্ধা ভাতা বাড়ছে না : নতুন বাজেটে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানো হয়নি। ২০২১-২২ অর্থবছর হতে সব শ্রেণির বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানি ভাতা ন্যূনতম ২০ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংবলিত ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) ও সমন্বিত তালিকা করা হয়েছে।

এছাড়া, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পরিচিতি নিশ্চিত করতে তাদের অনুকূলে স্মার্ট কার্ড ও ডিজিটাল সনদপত্র প্রদান কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে দেশের সব জেলা-উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

সর্বশেষ - দেশের খবর