logo
মঙ্গলবার , ৭ জুন ২০২২ | ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ক্যারিয়ার ভাবনা
  5. খেলা
  6. জাতীয়
  7. টেক নিউজ
  8. দেশের খবর
  9. প্রবাস
  10. ফিচার
  11. বিনোদন
  12. রাজনীতি
  13. লাইফস্টাইল
  14. সম্পাদকীয়
  15. সাফল্য

মূল্যস্ফীতিই চ্যালেঞ্জ, বাজেট ৬,৭৮,০০০ কোটি টাকার

প্রতিবেদক
admin
জুন ৭, ২০২২ ৯:১৩ পূর্বাহ্ণ

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল এমন এক সময়ে বাজেট দিতে যাচ্ছেন, যখন ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে অর্থনীতি টালমাটাল। মূল্যস্ফীতি গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। ডলারের বিপরীতে দেশের টাকার মান কমছে।

ডলার সাশ্রয়ে অপ্রয়োজনীয় ও বিলাসী পণ্য আমদানিতে নিরুৎসাহ করতে বাধ্য হচ্ছে সরকার। রপ্তানি, রেমিট্যান্সে সুখবর নেই। রাজস্ব আয়েও সুখবর নেই।

তবে এত কিছুর পরও আগামী বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী বিশাল বাজেট সংসদে উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন। বাজেটের আকার চূড়ান্ত করা হয়েছে ছয় লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা, চলতি অর্থবছরে যা ছিল ছয় লাখ তিন হাজার ৬৮১ কোটি টাকা। সেই হিসাবে নতুন বাজেটের আকার বাড়ছে ৭৪ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা। কিন্তু ব্যয়ের বিপরীতে অর্থের সংস্থান কম।

সরকার আয়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ওপর। চলতি অর্থবছরের মোট বাজেটের ৫৫ শতাংশ অর্থ জোগান দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে এনবিআরকে; সব মিলিয়ে তিন লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে (জুন-মার্চ) মাত্র দুই লাখ চার হাজার কোটি টাকার শুল্ক-কর আদায় হয়েছে। অর্থাৎ ঘাটতি লাখ কোটি টাকার বেশি।

এই যখন অবস্থা তখন আগামী অর্থবছরের নতুন বাজেটে মোট কর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে চার লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা, চলতি অর্থবছরে যা ছিল তিন লাখ ৮৯ হাজার কোটি টাকা। আর এনবিআরকে তিন লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে। চলতি বাজেট থেকে এটি ৪০ হাজার কোটি টাকা বেশি।

এনবিআরবহির্ভূত কর থেকে আদায় করা হবে ১৮ হাজার কোটি টাকা এবং কর ব্যতীত প্রাপ্তি খাত থেকে আদায়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরে তিন হাজার ২৭১ কোটি টাকা বিদেশি অনুদান পাওয়া যাবে বলে বাজেটে উল্লেখ থাকবে।

জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ও অর্থনীতিবিদ মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রতি অর্থবছরেই বিশাল বাজেট দেওয়া হয়। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা থাকে অযৌক্তিক। এগুলো বাস্তবতাবিবর্জিত টার্গেট। রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ অসম্ভব হবে। এসব সংখ্যা প্রশ্নবিদ্ধ।

বাড়বে ব্যয় ও ধার

আয়ের অবস্থা যেমনই থাক, খরচ তো করতেই হবে। সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, দেশি-বিদেশি ঋণের সুদ ব্যয় করতেই হবে। আগামী অর্থবছরে দেশি-বিদেশি ঋণের সুদই দিতে হবে ৮০ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা। এ ছাড়া বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য উন্নয়ন ব্যয় তো আছেই।

আয় তেমন নেই। তাহলে উপায়? ধার করে ঘাটতি পূরণ হবে। আগামী বাজেটে ঘাটতিই থাকবে দুই লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা, জিডিপির অংশ হিসেবে যা সাড়ে ৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ ছিল দুই লাখ ১৪ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা।

নতুন অর্থবছরে বাজেট ঘাটতি পূরণের জন্য সরকারকে বেশি নির্ভর করতে হবে ব্যাংক খাতের ওপর। এই খাত থেকে নিট ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য দেওয়া হচ্ছে এক লাখ ছয় হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের পরিমাণ ৬৮ হাজার ১৯২ কোটি টাকা। স্বল্পমেয়াদি ঋণ নেওয়া হবে ৩৮ হাজার ১৪২ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরে ব্যাংক থেকে ঋণের লক্ষ্য আছে ৭৬ হাজার ৪৫২ কোটি টাকা। পরবর্তী সময়ে সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ৮৭ হাজার ২৮৭ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আগামী অর্থবছরের ব্যাংকবহির্ভূত ঋণের মধ্যে শুধু সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা, চলতি অর্থবছরে যা রয়েছে ৩২ হাজার কোটি টাকা।

ঘাটতি অর্থায়নের ব্যাপারে মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। আয় কম হবে। ঘাটতি বাড়বে। এতে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। তবে সার্বিক বিষয়ে নজর রাখতে হবে।

কোথায় অর্থ ব্যয় করা হবে

আগামী অর্থবছরের বাজেটে পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে চার লাখ ১১ হাজার ৪০৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে সুদ দিতেই ব্যয় করতে হবে তিন লাখ ৭৩ হাজার ২৪২ কোটি টাকা। এই সুদের মধ্যে আবার দেশের অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ ব্যয় ৭৩ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা। বিদেশি ঋণের সুদ গুনতে হবে সাত হাজার ২০০ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ ব্যয়ের জন্য ধরা রয়েছে ৬২ হাজার কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ৬৫ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)

আগামী অর্থবছরের জন্য এডিপির আকার ধরা হয়েছে দুই লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা, চলতি অর্থবছরে যা ছিল দুই লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা। সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে দুই লাখ ৯ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে।

চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখাই আগামী বাজেটের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আমদানি ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর দেশ। ফলে একদিকে যেমন বাড়ছে মূল্যস্ফীতির চাপ, অন্যদিকে নিত্যপণ্যের দামে লাগাম টানা যাচ্ছে না। টানা তিন মাস মূল্যস্ফীতির হার ৬ শতাংশের বেশি। মানুষকে চাল, ডাল, তেলসহ সব নিত্যপণ্যই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।

গত এপ্রিল মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৬.২৯ শতাংশ। মার্চ মাসে ছিল ৬.২৪ শতাংশ এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ৬.১৭ শতাংশ। গত দুই বছরে এমন মূল্যস্ফীতি আর ওঠেনি। এর আগে ২০২০ সালের অক্টোবরে মূল্যস্ফীতি উঠেছিল ৬.৪৪ শতাংশে। এই তথ্যগুলো বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস)। গত মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতির বিপরীতে মজুরি বেড়েছে ৬.১৫ শতাংশ হারে। ফেব্রুয়ারি মাসেও মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৬.০৩ শতাংশ।

এর অর্থ, দৈনিক আয়ের মানুষ বাড়তি আয় দিয়ে বাজার থেকে আগের মতো পণ্য ও সেবা কিনতে পারছে না। কারণ মজুরি বা বেতন বাড়লেও মূল্যস্ফীতি তা খেয়ে ফেলছে। নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৫.৬ শতাংশ।

মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রাকে ‘অবাস্তব’ উল্লেখ করে অর্থনীতিবিদ মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সব দেশেই মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। এ জন্য অভ্যন্তরীণ কিছু পলিসি সরকার নিতে পারে। বাজার মনিটর করতে হবে। দরিদ্রদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তার আওতা বাড়াতে হবে। তবে মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য যদি ৫.৬ শতাংশ ধরা হয় তা হবে অবাস্তব। আগামী অর্থবছরও এটি ৬ শতাংশের ওপরে থাকবে বলে আমার ধারণা। ’

জিডিপির উচ্চাশা বহাল

অর্থনীতির খারাপ অবস্থার মধ্যেও জিডিপির উচ্চাশা থেকে সরে আসেনি সরকার। আগামী অর্থবছরে তাই জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭.৫ শতাংশ। এ জন্যই হয়তো নতুন বাজেট বত্তৃদ্ধতার শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘কভিডের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তন’।

সর্বশেষ - দেশের খবর