আ.লীগ ও বিএনপিপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা

adminadmin
  প্রকাশিত হয়েছেঃ   20 May 2022

সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার) সম্পাদকের পদ নিয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমর্থক আইনজীবীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা করা হয়েছে।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক গাজী কামরুল ইসলাম সজলসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৫০-৬০ জনের বিরুদ্ধে সমিতির প্রশাসনিক কর্মকর্তা রবিউল হাসান এই মামলা দায়ের করেন।

এদিকে আওয়ামীপন্থী আইনজীবী নজরুল ইসলাম প্রামানিকের ওপর হামলার প্রতিবাদে সুপ্রিমকোর্ট বার ভবনে বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়েছে।

গত বুধবার বার ভবনে বিএনপি ও আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের মধ্যে সংঘর্ষে নজরুল ইসলাম প্রামানিক আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল করে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ। পরে এদিন বিকাল চারটার দিকে সুপ্রিমকোর্ট বারের এক নাম্বার হলে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির (আওয়ামীপন্থী) একাংশের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন- সুপ্রিমকোর্ট বারের সভাপতি অ্যাডভোকেট মোমতাজ উদ্দিন ফকির, সম্পাদক আব্দুন নূর দুলাল, সাবেক সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ মেহেদী ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল সাইফুর রহমান সিদ্দিকী প্রমুখ।

সাইফুর রহমান সিদ্দিকী যুগান্তরকে বলেন, আমাদের আইনজীবীদের ওপর বিএনপি-জামায়াতের আইনজীবীরা অতর্কিত হামলা চালায়। তারা আইনজীবী নজরুল ইসলাম প্রামানিককে গুরুতর আহত করে। এক পর্যায়ে সম্পাদক আব্দুন নূর দুলালের নেমপ্লেট ভাঙচুর করে।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় বারের পক্ষ থেকে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি। মামলার অন্য আসামিরা হলেন- অ্যাডভোকেট নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ, কামরুল ইসলাম ও সাগর হোসেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৫ ও ১৬ মার্চ সুপ্রিমকোর্ট বার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হয়। গণনা করা হয় পরদিন ১৭ মার্চ। নির্বাচনে ভোট গণনায় বিএনপি সমর্থিত প্যানেল থেকে সম্পাদক মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, কোষাধ্যক্ষ, সহসম্পাদক দুইজন এবং চারজন সদস্যসহ মোট আটটি পদে এগিয়ে থাকে। অপরদিকে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ সমর্থিত প্যানেল থেকে সভাপতি, দুটি সহসভাপতি এবং তিনজন সদস্যসহ মোট ছয়টি পদে এগিয়ে থাকে।কিন্তু ভোট গণনা শেষ হওয়ার পর আওয়ামীপন্থী সম্পাদক প্রার্থী আব্দুন নূর দুলাল ভোট পুনর্গণনার জন্য একটি আবেদন দিয়ে এসে নির্বাচন কমিশনের আহ্বায়ককে ভোট পুনরায় গণনা করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। ফলে নির্বাচন কমিশনের আহ্বায়ক পদত্যাগ করেন। এজন্য দীর্ঘদিন আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা হয়নি।

মেয়াদোত্তীর্ণ কার্যকরী (২০২১-২২) কমিটির আওয়ামীপন্থী সাতজন সদস্য গত ১২ এপ্রিল নির্বাচন সাব-কমিটি গঠন করেন। ওই সাব-কমিটি ২৭ এপ্রিল সমিতির কনফারেন্স রুমে প্রবেশ করে পুনরায় ভোট গণনা করে আব্দুন নূর দুলালকে সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করে।

এদিকে সুপ্রিমকোর্ট বারে নির্বাচিত বিএনপি সমর্থিত সাত সদস্য গত সোমবার এক সভায় আব্দুন নূর দুলালকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে একটি রেজুলেশন করে। বর্তমানে সুপ্রিমকোর্ট বারে চরম অচলাবস্থা বিরাজ করছে।

দেশের খবর

আপনার মতামত লিখুন :