দলীয় অনৈক্য, বিএনপিতে পদত্যাগের হিড়িক!

adminadmin
  প্রকাশিত হয়েছেঃ   05 January 2021

নিউজ ডেস্ক: দলীয় কোন্দল, পদ ও মনোনয়ন বাণিজ্য এবং নেতৃত্বের সমন্বয়হীনতা, এ যেন বিএনপির সমার্থক শব্দ। পুরনো এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের অনুসারী হয়ে সৃষ্টিলগ্ন থেকে অদ্যাবধি, এভাবেই দলটির পথচলা। এ কারণে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র, সর্বত্রই অনৈক্যের সুর। জানা গেছে, শুধুমাত্র মনোমালিন্য আর গভীর অভিমানে দল ত্যাগ করেছেন অসংখ্য নেতাকর্মী।

দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের একাংশের দাবি, এ সবই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বৈরাচারী ও একগুঁয়ে নেতৃত্বের ফসল। যার প্রেক্ষিতে আজও বিএনপিসহ এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছেড়ে যাচ্ছেন ‘প্রিয় আদর্শের’ প্রাণের রাজনৈতিক দল। তারই ধারাবাহিকতায় এবার টাঙ্গাইলে স্বেচ্ছায় যুবদল নেতাদের পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে। জেলার কালিহাতী উপজেলা, পৌর ও এলেঙ্গা পৌর যুবদলে বিতর্কিতদের নিয়ে কমিটি গঠন করায় পদত্যাগের এ হিড়িক পড়েছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

সূত্রটির তথ্যমতে, টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা, পৌর ও এলেঙ্গা পৌর যুবদলের কমিটি গঠন নিয়ে ক্ষুব্ধ ৩৭ যুবদল নেতাকর্মী স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। শনিবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে উপজেলা যুবদল নেতা রফিকের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পদত্যাগ করেন বঞ্চিত নেতারা।

পদত্যাগকারীরা হলেন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মজনু মিয়া, সদস্য রফিকুল ইসলাম, রাশেদ তালুকদার, রোকনুজ্জামান স্বপন, আমিনুল ইসলাম লিটন, শফিকুল ইসলাম খান, জাহাঙ্গীর আলম, হামিদুর রহমান, আরিফুল ইসলাম, কালিহাতী পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আজগর আলী, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল বারেক, আবু সাঈদ, বাহাদুর, সদস্য সোনা মিয়া, শাহ আলী, মামুন ভূঁইয়া, মীর মুন্না, আব্দুল বাছেদ, জিয়াউল হক, পলাশ, শুকুর মাহমুদ, নুরুজ্জামান, এলেঙ্গা পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোজাম্মেল ফকির, চাঁন মিয়া, ফারুক হোসেন, মির্জা শরিফুল ইসলাম বাবলু, মাসুদ রানা, সদস্য আলমগীর হোসেন, খালেকুজ্জামান মানিক, আলতাফ হোসেন, শাহ আলম, স্বপন দাস, মনোয়ার হোসেন, রফিকুল ইসলাম, হেকমত আলী ও শাহ আলম।

পদত্যাগকারীদের সঙ্গে কথা হয় বাংলা নিউজ ব্যাংকের এই প্রতিবেদকের। অভিযোগের সুরে তারা বলেন, ঘোষিত কমিটির সদস্য সচিব শামীম আল মামুন প্রামাণিককে গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে মনোনয়ন দেয়া হয়। কিন্তু তিনি আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থীর সঙ্গে ‘আঁতাত করা’সহ মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। এছাড়া কালিহাতী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন মোল্লা একজন কট্টর আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান। পাশাপাশি উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাসমত আলীর রেজা বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাকা খেয়ে আওয়ামী প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা করেন। নুরুজ্জামান আহমেদ এবং ইদ্রিস আলীও অন্যের হয়ে দালালি করে যাচ্ছেন। যেটা আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন বৈ অন্যকিছু নয়।

পদত্যাগকারীরা আরো বলেন, ‘লোক দেখানো’ দলীয় কর্মী, যারা মূলত আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী, তাদের নিয়ে কমিটিগুলোতে গঠন করায় ও প্রকৃত এবং ত্যাগী নেতাদের বাদ দেওয়ায় তারা স্বেচ্ছায় সজ্ঞানে পদত্যাগ করেছেন। আর এর দায় তারেক রহমান কোনভাবেই এড়াতে পারেন না। কারণ তার নির্দেশনা ছাড়া বিএনপি এক পাও অগ্রসর হয় না!

রাজনৈতিক বিজ্ঞজনরা বলছেন, বিএনপির রন্ধ্রে রন্ধ্রে অনিয়ম-দুর্নীতি। যার বলির শিকার হন দলের দুর্দিনের ত্যাগী নেতারা। কারণ একটাই। যেখানে টাকা, সেখানেই তারেক রহমান। তিনি টাকা হলে অযোগ্যকে যোগ্য বলে উপস্থাপন করেন। দিয়ে দেন দলীয় পদ-মনোনয়ন। যে কারণেই আজ বিএনপিতে এতো ভাঙন, এতো কোন্দল। অদ্বিতীয়ভাবে এর জন্য দুর্নীতির বরপুত্র ও লন্ডনে পলাতক ফেরারি আসামি তারেকই দায়ী।

আপনার মতামত লিখুন :