সংসদের বিশেষ অধিবেশন শুরু আজ

adminadmin
  প্রকাশিত হয়েছেঃ   08 November 2020

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আজ রোববার থেকে শুরু হচ্ছে জাতীয় সংসদের বিশেষ অধিবেশন।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সন্ধ্যা ৬টায় এই অধিবেশন শুরু হবে।

এ উপলক্ষে সংসদ ভবনজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে নানা আয়োজন। নতুন সাজে সাজানো হয়েছে পুরো সংসদ ভবন এলাকা।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, আজ সংসদ বসলেও মুজিববর্ষের বিশেষ কার্যক্রম আগামীকাল ৯ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টায় রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে।

বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য ও কর্মময় রাজনৈতিক জীবন নিয়ে রাষ্ট্রপতির স্মারক বক্তৃতার পর তা নিয়ে আলোচনার জন্য একটি সাধারণ প্রস্তাব আনা হবে। ওই প্রস্তাবের ওপর সরকার ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের দীর্ঘ আলোচনা শেষে তা পাস হবে।

করোনা পরিস্থিতির কারণে বিদেশি অতিথিরা না থাকলেও এই অধিবেশনকে স্মরণীয় করে রাখতে সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে স্পিকার যেখানে বসেন, তার পেছনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি টানানো হয়েছে। লেকে ভাসানো হয়েছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্য দৃষ্টিনন্দন দুটি নৌকা।

দেশের স্বাধীনতা ও উন্নয়নের প্রতীক এই নৌকা তৈরি করেছে বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন। সংসদ লাইব্রেরিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০০ বাণী নিয়ে আলো-ছায়ার দৃষ্টিনন্দন কোলাজ করা হয়েছে।

প্রথম দিনে আইন প্রণয়ন কার্যা বলিতে থাকবে তিনটি বিল উত্থাপন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) বিল-২০২০’ আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২০’ এবং শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ‘বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বিল-২০২০’ উত্থাপন করবেন।

এরপর বিলগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হবে।

এ বিষয়ে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী জানান, করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে সতর্কতার সঙ্গে বিশেষ অধিবেশন বসবে। করোনা নেগেটিভ ব্যক্তিরাই এতে যোগ দিতে পারবেন। অধিবেশনের বঙ্গবন্ধুর কর্মময় জীবনের ওপর স্মারক বক্তৃতা ও সাধারণ আলোচনা হবে।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, শোক প্রস্তাব উত্থাপনের মধ্য দিয়ে প্রথম দিনের কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর প্রশ্নোত্তর ও জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণীয় নোটিশ নিষ্পত্তি হবে। অধিবেশনে ‘তথ্য কমিশনের বার্ষিক প্রতিবেদন-২০১৯’ সংসদে উত্থাপন করবেন তথ্যমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ।

সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট উত্থাপন করবেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম মেহের আফরোজ এবং জাতীয় সংসদের সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি ডা. মো. রুস্তম আলী ফরাজী।

সংসদে উত্থাপিত বিল পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সে সম্পর্কিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি তোফায়েল আহমেদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি মো. শহীদুজ্জামান সরকার, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি মো. আফছারুল আমীন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত অধিবেশন চলার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আগামী ৯ থেকে ১২ নভেম্বর বিশেষ কার্যক্রম চললেও বাকি দিনগুলো সাধারণ কার্যক্রম চলবে।

এর আগে মুজিববর্ষ উপলক্ষে গত ২২ মার্চ সংসদের বিশেষ অধিবেশন (সপ্তম অধিবেশন) আহ্বান করা হলেও দেশে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় তা স্থগিত করেন রাষ্ট্রপতি। অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় সর্বশেষ নতুন করে ডাকা হয়। এতে বঙ্গবন্ধুর ওপর সাধারণ আলোচনা ছাড়াও সংসদ ভবন চত্বরে প্যান্ডেল করে প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

সেখানে আলোকচিত্র ও প্রামাণ্য দলিলে পাকিস্তানের গণপরিষদ, স্বাধীন দেশে নতুন সংবিধান প্রণয়ন ও সংসদে বঙ্গবন্ধুর কাজগুলো তুলে ধরা হবে। একটি রাষ্ট্রের জন্ম, সংবিধান প্রণয়ন ও সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য বঙ্গবন্ধু যা কিছু করেছেন তা তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি সংসদে বঙ্গবন্ধুর দেয়া বক্তব্যও বাজানো হবে।

জাতীয়

আপনার মতামত লিখুন :