যান চলাচলের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত বঙ্গবন্ধু টানেল


admin প্রকাশের সময় : অগাস্ট ১৭, ২০২৩, ৯:৫৬ পূর্বাহ্ন | 732
যান চলাচলের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত বঙ্গবন্ধু টানেল

যান চলাচলের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত স্বপ্নের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল। টানেলের রাস্তা এবং অ্যাপ্রোচ রোডসহ যাবতীয় কাজই শতভাগ শেষ হয়েছে। তবে সার্ভিস এরিয়ায় কিছু কাজ বাকি রয়েছে। যা যান চলাচলে কোনো প্রভাব ফেলবে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ২৮ অক্টোবর টানেল উদ্বোধন করবেন। এটি দক্ষিণ এশিয়ার নদীর তলদেশে প্রথম টানেল।

সূত্র জানিয়েছে, বন্দরনগরীকে চীনের সাংহাই নগরীর আদলে ‘ওয়ান সিটি, টু টাউন’ মডেলে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কর্ণফুলীর তলদেশে টানেল নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। বহুদিন ধরে টানেলের বিষয়টি আলোচিত হলেও এটি বাস্তবায়নের পর্যায় শুরু হয় ২০১৩ সালে। ওই সময় এক সমীক্ষায় দক্ষিণ চট্টগ্রামের উন্নয়ন, অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধির জন্য টানেল অর্থনৈতিকভাবে খুবই জরুরি ভূমিকা রাখবে বলে উল্লেখ করা হয়। ওই সমীক্ষায় বলা হয় যে, টানেলের ভিতর দিয়ে বছরে ৬৩ লাখ গাড়ি চলাচল করতে পারবে। প্রতিদিন চলাচল করতে পারবে অন্তত সাড়ে ১৭ হাজার গাড়ি। ২০২৫ সাল নাগাদ টানেল দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২৮ হাজার ৩০৫টি যানবাহন যাতায়াত করার কথাও সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়। কর্ণফুলীর তলদেশে টানেল নির্মাণ প্রকল্প অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দেয়ার পর বিস্তারিতভাবে প্রজেক্ট প্রোফাইল তৈরি করা হয়। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ২০১৫ সালের নভেম্বরে ৮ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মাল্টি–লেন রোড টানেল প্রকল্পটি অনুমোদন করে। ওই সময় প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয় ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

২০১৬ সালের ১৪ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং যৌথভাবে বঙ্গবন্ধু টানেলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ এশিয়ার নদীর তলদেশের প্রথম টানেল হিসেবে দুইটি টিউবের একটির বোরিং কাজ উদ্বোধন করেন।

চীনের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চায়না কমিউনিকেশনস কনস্ট্রাকশন কোম্পানি লিমিটেড (সিসিসিসি) টানেল নির্মাণ কাজ পরিচালনা করছে।

শুরুতে ৮ হাজার ৪৪৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হলেও নির্মাণ সামগ্রির মুল্যবৃদ্ধি, মজুরি বৃদ্ধি, ভূমি অধিগ্রহন খরচ বৃদ্ধি এবং করোনাকালে কাজের বহুমুখী ক্ষতি হওয়ায় খরচ বেড়ে যায়। ইতোমধ্যে প্রকল্প ব্যয় ১০ হাজার ৫৩৮ কোটি ৪২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ আগামী ৩০ ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ও চীন সরকারের যৌথ অর্থায়নে টানেল প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। চীনের এঙ্মি ব্যাংক ৫ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে এবং বাকি অর্থ দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। চীনের এঙ্মি ব্যাংক দুই শতাংশ হার সুদে এই ঋণ দিয়েছে।

সূত্র জানিয়েছে, মুল টানেলের দৈর্ঘ্য হবে ৩ দশমিক ৪০ কিলোমিটার। এছাড়া ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটারের অ্যাপ্রোচ রোডের পাশাপাশি ৭২৭ মিটারের একটি ওভারপাসও রয়েছে। এই টানেলের সাহায্যে দক্ষিন চট্টগ্রামের চেহারা পাল্টে যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলা হয়েছে এই টানেল এশিয়ান হাইওয়েকে ঢাকা–চট্টগ্রাম–কঙবাজার মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।

টানেলের প্রকল্প পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হারুনুর রশিদ বলেন, টানেল নির্মাণকাজকে দুইভাবে ভাগ করতে হবে। একভাগ হচ্ছে রাস্তা, অ্যাপ্রোচ রোডসহ যান চলাচলের ব্যবস্থা। এগুলো শতভাগ শেষ হয়েছে। অর্থাৎ টানেলে ভিতর দিয়ে গাড়ি চলাচলে কোন সমস্যা নেই। এটি পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে সার্ভিস এরিয়ায় কিছু কিছু কাজ বাকি রয়েছে। যেগুলো যান চলাচলের জন্য কোন সমস্যা নেই। প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর উপর দিয়ে গাড়ি চলছে। টোলও আদায় হচ্ছে। কিন্তু প্রকল্পের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। হয়তো আরো কয়েক মাস সময় লাগবে। তেমনি টানেলের কিছু কিছু কাজও বাকি রয়েছে। আমরা দ্রুত এসব কাজ শেষ করার চেষ্টা করছি। তিনি প্রকল্প হিসেবে ধরলে এর কাজ ৯৮ শতাংশ শেষ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।

উদ্বোধন ২৮ অক্টোবর কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মিত বহুল প্রতীক্ষিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল ২৮ অক্টোবর উদ্বোধন করা হবে। ওই দিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টানেলের উদ্বোধন করবেন।