logo
মঙ্গলবার , ৩ জানুয়ারি ২০২৩ | ২৬শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ক্যারিয়ার ভাবনা
  5. খেলা
  6. জাতীয়
  7. টেক নিউজ
  8. দেশের খবর
  9. প্রবাস
  10. ফিচার
  11. বিনোদন
  12. রাজনীতি
  13. লাইফস্টাইল
  14. সম্পাদকীয়
  15. সাফল্য

বিএনপির সমাবেশে অর্থদাতা কারা?

প্রতিবেদক
admin
জানুয়ারি ৩, ২০২৩ ৯:৩০ পূর্বাহ্ণ

বিদায়ি বছরে রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়ানো বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশগুলোতে অর্থের জোগান কারা দিয়েছেন, এ নিয়ে বারবারই প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। বিভিন্ন মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতেই এই প্রশ্ন খাড়া করেছিলেন তিনি। জানা গেছে, ২০০৯ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার সুবাদে খোলস পালটে বিএনপি-জামায়াত থেকে যারা বিভিন্ন সময়ে, এর-ওর হাত ধরে দলটিতে অনুপ্রবেশ করেছেন—সেই ‘হাইব্রিড আওয়ামী লীগ’-এর কেউ কেউ বিএনপিকে অর্থায়ন করছেন। গত ১৩ বছরে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে যারা বিপুল অর্থ-বৈভবের মালিক বনেছেন, তাদেরও কেউ কেউ রয়েছেন বিএনপির সভা-সমাবেশে অর্থ জোগানদাতার তালিকায়। প্রতিষ্ঠিত কয়েকটি ব্যবসায়ী গ্রুপ এবং হালআমলে আলোচিত কয়েক জন কথিত শিল্পপতিও আছেন অর্থদাতার কাতারে।

জানা গেছে, বিএনপির সভা-সমাবেশে অর্থ জোগানের অভিযোগ রয়েছে রাজধানীর উপকণ্ঠ কেরানীগঞ্জের আলোচিত দুই সহোদর ছলিমউল্যাহ ও হাবিবুর রহমান হাবিবের বিরুদ্ধেও। সেখানকার সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আমান উল্যাহ আমানের সক্রিয় অনুসারী ছিলেন ছলিম-হাবিবের বাবা প্রয়াত মধু মাঝি। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর হাবিব প্রথমে কৌশলে বাগিয়ে নেন ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদকের পদ। গত বছর আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ‘নৌকা’ প্রতীকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন শাক্তা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও নির্বাচিত হন।

গত বছর কেরানীগঞ্জ মডেল থানা আওয়ামী লীগের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক হতেও জোরালোভাবে মাঠে নেমেছিলেন হাবিবুর রহমান হাবিব। তবে দলের স্থানীয় ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ জানালে হাবিব আর লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেননি। সহোদার ছলিমউল্যাহকে নিয়ে হাবিব কেরানগীগঞ্জে গড়ে তুলেছেন ‘মধুসিটি’ নামের আবাসন প্রকল্প। স্থানীয় প্রশাসন ও ক্ষমতাসীন দলের কমিটিকে ম্যানেজ করে বুড়িগঙ্গার শাখা নদী, খাল, সরকারি খাসজমি এবং স্থানীয়দের পৈতৃক বসতভিটা ও কৃষিজমি বেদখলের অভিযোগ রয়েছে এই দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে। সূত্রের দাবি, গত বছর বিএনপির আলোচিত ১০ ডিসেম্বরের গণসমাবেশে অন্যদের সঙ্গে ছলিম-হাবিবও অর্থায়ন করেছেন। বিএনপির ঐ সমাবেশে সভাপতিত্বকারী আমান উল্যাহ আমানের ছেলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছলিম-হাবিবের ছোট ভাই প্রিন্স।

গত বছরের ১০ ডিসেম্বর সাভারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘কোন ব্যবসায়ী, কোন শিল্পপতি বিএনপিকে কত টাকা দিয়েছে, সব খবর জানি। সময়মতো জবাব দিতে হবে।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, মুড়ি বিক্রি করে টাকা জমিয়ে কেরানীগঞ্জের জয়নগর মৌজায় এক খণ্ড জমি কিনেছিলেন মন্টু নামের একজন। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার পর হাবিবুর রহমান হাবিব তার সেই জমিটিও দখল করে নেন। বালুরচরের মধ্যেরচর এলাকায় তিতাসের সড়ক দখল করে নিজেদের আবাসন কোম্পানির অন্তর্ভুক্ত করেছেন। হাবিব ও তার ভাইয়েরা মিলে ঘাটারচরে দখল করে নিয়েছেন সাউথব্রিজ স্কুলেরও জায়গাও। অসহায় মানুষ জমি দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের বিরুদ্ধে দেওয়া হয় ‘গায়েবি মামলা’। শুধু রাতারাতি খাল আর জলাশয় দখলেই ছলিম-হাবিব দক্ষ নন, এই দুই ভাইয়ের সব সময় চোখ থাকে অন্যের জমিতেও। স্থানীয়দের জমি দখল ও বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদে কেরানীগঞ্জে গড়ে তোলা হয়েছে ‘মোটরসাইকেল বাহিনী’। ১৩০ থেকে ১৪০ জন এই বাহিনীর সদস্য। জমি দখল ও প্রতিবাদকারীদের নির্যাতনে ‘দক্ষতা’ অনুযায়ী এই মোটরসাইকেল বাহিনীর সদস্যদের মাসিক ‘সম্মানি’ও দেওয়া হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘মোটরসাইকেল বাহিনী’ চক্রের সদস্যরা মধুসিটির কাছ থেকেই পেয়েছেন এই মোটরসাইকেল।

কেরানীগঞ্জের কাঁঠালতলী গ্রীন সিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেলোয়ার হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, ‘অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই আমাদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়। একটি জমিতে ভাড়া দিয়ে সাইনোবোর্ড লাগিয়ে পরে আশপাশের জমি জোরপূর্বক দখল করে নেওয়া হচ্ছে। রাতের আঁধারে মোটরসাইকেল বাহিনীর পাহারায় অন্যের জমি বালু দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। আমরা রাতে ঘুমাতে পারি না। প্রশাসনেরও সহযোগিতা পাই না।’

শুধু কেরানীগঞ্জের ছলিম-হাবিব নন, দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষমতাসীন দলে রয়েছেন এরকম বহু হাইব্রিড নেতা। ছলে-বলে তারা ঢুকে পড়েছেন ক্ষমতাসীন দলের ছাতার নিচে। আওয়ামী লীগ এবং এর বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনেও জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পর্যায়ে এবং পৌরসভা কমিটিতে ঢুকে পড়েছেন রাজাকারসহ অনেক বিতর্কিতরা। এসব হাইব্রিড, বিতর্কিত এবং রাজাকার ও তাদের পোষ্যদের দাপটে কোথাও কোথাও দলের প্রকৃত নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে কোণঠাসা। বিএনপির সভা-সমাবেশে অর্থ জোগান দেওয়ার তালিকায়ও তাদের সংখ্যাই বেশি।

জানা গেছে, দেশে-দেশের বাইরে চলমান নানা গুজবে হাইব্রিড আওয়ামী লীগ হিসেবে খ্যাত এবং দুর্নীতির মাধ্যমে রাতারাতি বিপুল অর্থের মালিক হওয়া কেউ কেউ ভাবছেন—সামনে হয়তো সরকার পরিবর্তন হতেও পারে। এমন ভাবনা থেকেই তারা বিএনপির সভা-সমাবেশে অর্থায়ন করতে শুরু করেছেন।

সর্বশেষ - রাজনীতি