logo
বৃহস্পতিবার , ২১ জুলাই ২০২২ | ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ক্যারিয়ার ভাবনা
  5. খেলা
  6. জাতীয়
  7. টেক নিউজ
  8. দেশের খবর
  9. প্রবাস
  10. ফিচার
  11. বিনোদন
  12. রাজনীতি
  13. লাইফস্টাইল
  14. সম্পাদকীয়
  15. সাফল্য

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিডনি কেনা-বেচা, গ্রেফতার ৫

প্রতিবেদক
admin
জুলাই ২১, ২০২২ ৯:১০ পূর্বাহ্ণ

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অবৈধভাবে কিডনি কেনা বেচার অভিযোগে সংঘবদ্ধ চক্রের অন্যতম হোতা মো. শহিদুল ইসলাম মিঠুসহ পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। গতকাল মঙ্গলবার রাত থেকে আজ বুধবার ভোর পর্যন্ত র‌্যাব অভিযান চালিয়ে রাজধানীর ভাটারা, বনশ্রী ও মিরপুর থেকে তাদের গ্রেফতার করে।

গেফতারকৃতরা হলেন- মিরপুর মডেল থানা এলাকার মৃত আজাহার মোল্লার ছেলে মো. শহিদুল ইসলাম মিঠু (৪৯), নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার মো. রফিউদ্দিন মোল্লার ছেলে মো. মিজানুর রহমান (৪৪), নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার সোহেবের ছেলে মো. আল মামুন মেহেদী (২৭), ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার মো. জসীম উদ্দিনের ছেলে মো. সাইমন (২৮) এবং চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার আবুল বাশার বকুলের ছেলে মো. রাসেল হোসেন (২৪)।

র‌্যাব জানিয়েছে, অভিযানে বিভিন্ন ভিকটিমের সঙ্গে চুক্তির এফিডেভিট কপি, ভুক্তভোগীদেরসহ মোট ১৪টি পাসপোর্ট, কিডনি ক্রসম্যাচিংয়ের দলিলাদি, দেশী ও বিদেশী মুদ্রা, বিভিন্ন ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র ও ফটোকপি, ব্যাংকের চেকবই ও এটিএম কার্ড, সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের জাল সীলমোহর, খালি স্ট্যাম্প, সিপিইউ, মোবাইল ও সীমকার্ড জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিডনি কেনা বেচা এই চক্রের মোট সদস্য সংখ্যা ১৫-২০ জন। তারা মূলত তিনটি ভাগে বিভক্ত হয়ে কিডনি ক্রয়-বিক্রয়ের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এই চক্রের সদস্যরা পার্শ্ববর্তী দেশের কিডনি কেনা-বেচা চক্রের সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রায় শতাধিক মানুষকে সেদেশে পাচার করেছে বলে জানায়।

তারা আরো জানায়, চক্রের প্রথম গ্রুপ ঢাকায় অবস্থান করে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন প্রয়োজন এমন বিত্তশালী রোগীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। চক্রের দ্বিতীয় দলটি প্রথম দলের চাহিদা মোতাবেক দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গরিব ও অভাবী মানুষদের চিহ্নিত করে। তাদের অর্থনৈতিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অর্থের বিনিময়ে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশনের জন্য ডোনার হতে প্রলুব্ধ করে ঢাকায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে তৃতীয় অন্য একটি গ্রুপ ভুক্তভোগী কিডনি ডোনারদের ঢাকায় বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন প্রত্যাশী রোগীর সঙ্গে ব্লাড ম্যাচিং এবং অন্যান্য পরীক্ষা নিরীক্ষা সম্পন্ন করে।

তারা জানায়, সবকিছু নিশ্চিত হলে, তার পাসপোর্ট, ভিসা প্রসেসিং এবং ভূয়া কাগজপত্র তৈরির মাধ্যমে ডোনারকে পার্শ্ববর্তী দেশে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত করে। এই চক্রের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী দেশে অবস্থানকারী আরেকটি চক্র পারস্পরিক যোগসাজশে ডোনারকে বিদেশের এয়ারপোর্ট অথবা স্থলবন্দরে রিসিভ করে। সেখানে হাসপাতালের প্রামাণাদি অস্ত্রপাচারসহ যাবতীয় কার্যক্রম শেষে ভিকটিমদের বৈধ/অবৈধ উপায়ে বিমান বা উত্তর পূর্বাঞ্চলের সীমান্ত এলাকার মাধ্যমে দেশে ফেরত পাঠায়।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, চক্রের মূলহোতা ও অন্যতম অভিযুক্ত মো. শহিদুল ইসলাম মিঠু ২০১৬ সালে নিজের চিকিৎসার জন্য পার্শ্ববর্তী দেশে যায়। সেখানে অবস্থানকালীন সে কিডনি প্রতিস্থাপনের রোগীদের ব্যাপক চাহিদা দেখতে পায়। এরপর সে নিজেই কিডনি প্রতিস্থাপনের অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা শুরু করে। এ পর্যন্ত তার মাধ্যমে ৫০-এর অধিক কিডনি ক্রয়-বিক্রয় হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকারোক্তি দিয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা এই চক্রের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ অবৈধ উপায়ে হাতিয়ে নিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করে। প্রতিটি কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য তারা রোগী প্রতি ২০ হতে ২৫ লাখ টাকা গ্রহণ করতো। বিপরীতে তারা কিডনি ডোনারকে মাত্র ৪ থেকে সাড়ে ৪ লাখ টাকা দেয়া হবে বলে আশ্বস্ত করে এবং অগ্রীম ২ লাখ টাকা প্রদান করতো।

র‌্যাব সূত্র জানায়, প্রতারণার মাধ্যমে মানবদেহের কিডনিসহ নানাবিধ অঙ্গের অবৈধ ট্রান্সপ্লান্টেশনের সঙ্গে সক্রিয় রয়েছে কয়েকটি চক্র। প্রলুব্ধ হয়ে এসব চক্রের ফাঁদে পড়ে অসহায় ও নিম্ন আয়ের মানুষ। ক্ষেত্র বিশেষে গ্রাহকরাও প্রতারিত হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে র‌্যাব সাইবার মনিটরিং সেল সামাজিক মাধ্যমে অবৈধভাবে কিডনিসহ অন্যান্য মানব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ক্রয়-বিক্রয় সিন্ডিকেটের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে আসছিল।

সর্বশেষ - দেশের খবর