logo
শুক্রবার , ১৫ জুলাই ২০২২ | ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ক্যারিয়ার ভাবনা
  5. খেলা
  6. জাতীয়
  7. টেক নিউজ
  8. দেশের খবর
  9. প্রবাস
  10. ফিচার
  11. বিনোদন
  12. রাজনীতি
  13. লাইফস্টাইল
  14. সম্পাদকীয়
  15. সাফল্য

জ্বালানি খাত ধুঁকছে আমদানি নির্ভরতায়

প্রতিবেদক
admin
জুলাই ১৫, ২০২২ ১১:০৬ পূর্বাহ্ণ

২০০৯ সালে ক্ষমতায় এসে বিদ্যুৎ উৎপাদনে তোড়জোড় শুরু করে আওয়ামী লীগ সরকার। এ জন্য নানা উদ্যোগও নেয়। এসব উদ্যোগের ফলে উৎপাদনে সাফল্যও আসে। ২০২২ সালের মধ্যে দেশের শতভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ উৎপাদনের যে প্রধান উপাদান, সেই প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন আশানুরূপ বাড়াতে পারেনি সরকার। ২০১৪ সালের পর নানা উদ্যোগে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের উৎপাদন বাড়ালেও ২০১৭ সালের পর সেটা আবার কমে যায়।

স্থলভাগ এবং সমুদ্রে গ্যাস পাওয়ার যে সম্ভাবনা রয়েছে, সেটা বাস্তবায়নে সরকারের জোরালো উদ্যোগ নেই। ফলে একদিকে দেশে গ্যাস উত্তোলন কমেছে, অন্যদিকে জ্বালানি তেল কিংবা গ্যাসের মতো উপকরণের আমদানি বেড়েছে। দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থা এখন প্রায় আমদানিনির্ভর। আর এ আমদানিনির্ভরতার কারণে দেশের জ্বালানি খাত ধুঁকছে। তৈরি হয়েছে বড় ধরনের ঝুঁকি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সম্প্রতি দেশজুড়ে যে বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে সেটা মূলত জ্বালানি সংকটের কারণে। দেশের চাহিদার চেয়ে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা রয়েছে সরকারের। কিন্তু জ্বালানি তেল এবং গ্যাসের অভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। যে কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে নানা উদ্যোগ নিতে বাধ্য হয়েছে।

রাজধানী এবং আশপাশের জেলাগুলোয় বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হলেও প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা বেশ খারাপ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, সেখানে সহনীয় মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণ লোডশেডিং হচ্ছে। অবশ্য এ লোডশেডিং যে হবে, সেটা সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি পণ্য আমদানি করতে সরকার হিমশিম খাচ্ছে। আমদানি খরচ বাড়ায় বিদ্যুতের উৎপাদন খরচও বেড়েছে। এ অবস্থায় সরকার একদিকে তেলভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো কম চালাচ্ছে, অন্যদিকে লিকুইড ন্যাচারাল গ্যাসের (এলএনজি) দাম অনেক বেড়ে যাওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির বাইরে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি আমদানি বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় জ্বালানি জোগান না মেলায় বন্ধ থাকছে অনেক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

করোনা মহামারীর আগে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম সহনীয় ছিল। ৪০ থেকে ৬০ ডলারে এক ব্যারেল জ¦ালানি তেল পাওয়া গেছে। এলএনজির দাম ছিল প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) ৩ থেকে ৪ ডলার। ফলে জ্বালানি তেল এবং এলএনজি আমদানিতে সরকারকে বেগ পেতে হয়নি। কিন্তু কোভিড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে যখন আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি চাহিদা বাড়তে থাকে, তখন জ্বালানি পণ্যের দামও বেড়ে যায়। প্রতি ব্যারেল জ্বালানি তেলের দাম ১৭০ ডলার এবং প্রতি এমবিটিইউ এলএনজির দাম ৪০ ডলার পর্যন্ত উঠেছে। ফলে বাড়তি দামে জ্বালানি পণ্য আমদানিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সরকারকে।

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ আমাদের সময়কে বলেন, ‘সংকট শুধু আমাদের নয়। বিশ্বব্যাপী এখন জ্বালানি সংকট চলছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে আমরা সবার সহযোগিতা চাই। আশা করছি খুব শিগগিরই পরিস্থিতি উন্নতির দিকে যাবে। সরকার এখন বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য নানা উদ্যোগ নিয়েছে।’

পেট্রোবাংলা সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। সেখানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ২ হাজার ৩০০ মিলিয়ন। এর মধ্যে সরকার প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানি করে সরবরাহ করছে। গ্যাসের অভাবে পিডিবির কয়েক হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র সব সময়ই বন্ধ থাকছে।

দেশের শিল্প কারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে। পেট্রোবাংলার অনুমান, ২০৩০ সালের মধ্যে গ্যাসের চাহিদা হবে প্রায় ৫ হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। এ সময়ের মধ্যে উৎপাদন না বাড়লে চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ঘাটতি বাড়তে থাকবে। সে ক্ষেত্রে এলএনজির বিকল্প কিছু থাকবে না।’

গত এক দশকে ছোটখাটো কয়েকটি নতুন গ্যাস ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হলেও চাহিদার তুলনায় ছিল যৎসামান্য। ভোলার নর্থ গ্যাস ক্ষেত্রটি ছাড়া বাকি গ্যাস ক্ষেত্রগুলো আশানুরূপ গ্যাস গ্রিডে যুক্ত করতে পারছে না। একমাত্র রাষ্ট্রীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কোম্পানি বাপেক্স বছরে দু-একটি কূপ খনন করছে। যদিও পেট্রোবাংলা এখন উদ্যোগ নিয়েছে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার। তবে চাহিদার তুলনায় সেটাও হবে সামান্য।

এদিকে গত এক দশকে সমুদ্রে গ্যাসের অনুসন্ধান কার্যক্রমে অগ্রগতি নেই। সিস্টেম লসের নামে বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার গ্যাস চুরি হচ্ছে। সরকারের কোনো উদ্যোগই গ্যাস চুরি ঠেকাতে পারছে না। বরং কিছুদিন পর পর গ্যাসের দাম বাড়িয়ে মানুষের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. নাজমুল আহসান বলেন, দেশে গ্যাসের উৎপাদন বাড়াতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধান কূপ খনন ও পুরনো কূপগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমরা দ্রুতই গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছি।

ভারত এবং মিয়ানমারে সঙ্গে সমুদ্রসীমা মীমাংসা হওয়ার পর প্রতিবেশী দুটি দেশই সমুদ্র থেকে গ্যাস উত্তোলন করে লাভবান হচ্ছে। পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। বঙ্গোপসাগরে বিভিন্ন সময় একাধিক বিদেশি কোম্পানি কাজ করে। এদের বেশিরভাগই নানা অজুহাত দেখিয়ে কাজ না করে চলে যায়। সাগরের ২৬টি ব্লকের মধ্যে মাত্র দুটি ব্লকে ভারতীয় দুটি কোম্পানি যৌথভাবে কাজ করছে। বাকি ২৪টি ব্লক এখনো ইজারা দিতে পারেনি পেট্রোবাংলা। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে বিশেষ বিধান আইনে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও পেট্রোবাংলা সেটা কার্যকর করতে পারছে না। এখনো সমুদ্রে তেল গ্যাস অনুসন্ধান উত্তোলনে ইজারার জন্য মডেল পিএসসি (উৎপাদন-অংশীদারিত্ব চুক্তি) সংশোধন করছে পেট্রোবাংলা।

এদিকে স্থলভাগেও তেল গ্যাস অনুসন্ধানে জোরালো পদক্ষেপ নেই। গত ৫০ বছরে মাত্র ৬৮টি অনুসন্ধান কূপ খনন করা হয়েছে। অথচ প্রতিবেশী দেশ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যেই ১৬০টি অনুসন্ধান কূপ খনন করা হয়েছে। বাংলাদেশে গত ১২ বছরে মাত্র ২০টি অনুসন্ধান কূপ খনন করে চারটি নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। যার মধ্যে শুধু ভোলা নর্থ গ্যাসক্ষেত্রে অপার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংকট মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগ

জ্বালানি সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আপাতত সরকার লোডশেডিং করেই সংকট সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত লোড ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে নানা সাশ্রয়ী উদ্যোগ গ্রহণ করবে সরকার। তবে সেপ্টেম্বরের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন জ¦ালানি খাতের নীতিনির্ধারকরা। প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী বীরবিক্রম গত ৭ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। সেখানে তিনি বলেন, সেপ্টেম্বরে দেশে বিদ্যুৎ চাহিদা তুলানমূলক কমে যাবে। আশা করছি তখন বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা যায়, দেশে ১৫২টি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ২৫ হাজার মেগাওয়াট। দেশে বিদ্যুতের চাহিদা এখনো ১৫ হাজার মেগাওয়াট পার হয়নি। তবু চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে না জ্বালানি সংকটের কারণে। এখন যত বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়বে, সরকারের ভর্তুকি তত বাড়বে। ফলে সরকার যতটা সম্ভব কম বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে।

সর্বশেষ - দেশের খবর