logo
মঙ্গলবার , ৩১ মে ২০২২ | ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ক্যারিয়ার ভাবনা
  5. খেলা
  6. জাতীয়
  7. টেক নিউজ
  8. দেশের খবর
  9. প্রবাস
  10. ফিচার
  11. বিনোদন
  12. রাজনীতি
  13. লাইফস্টাইল
  14. সম্পাদকীয়
  15. সাফল্য

নির্বাচনে না এলে বিএনপির অবস্থা ন্যাপের মতো হবে: শেখ সেলিম

প্রতিবেদক
Ahmed Muhammad
মে ৩১, ২০২২ ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেছেন, বিএনপি যদি নির্বাচনে অংশ না নেয় তাহলে তাদের অবস্থা ন্যাপের মতো হবে। নির্বাচনের বাইরে অবৈধ কোনো শক্তি ক্ষমতা নিতে পারবে না। আগামী নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী।

সোমবার (৩০ মে) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগরীর পাঁচলাইশের কিং অব চিটাগাং কমিউনিটি সেন্টারে মহানগর আওয়ামী যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

‘বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশের মতো, ভারত, লন্ডন, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডায় যেভাবে নির্বাচন হয়, বাংলাদেশেও সেভাবে নির্বাচন হবে। ২০২৩ সালে দেশে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই নির্বাচন হবে। সংবিধানের বাইরে কোনো নির্বাচন হতে পারবে না। ইয়াজউদ্দিনের মতো কোনো তত্ত্বাবধায়ক সরকার হবে না।’

মহানগর যুবলীগের সভাপতি মহিউদ্দিন বাচ্চুর সভাপতিত্বে যুগ্ম সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকা ও ফরিদ মাহমুদের সঞ্চালনায় সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় প্রধান অতিথি বলেন, প্রত্যেক দলের অংশগ্রহণে আগামী নির্বাচন হবে। নির্বাচনে বিএনপি আসলে আসবে, না আসলে আসবে না। নির্বাচনে না আসলে তাদের দশা ন্যাপের মতো হবে। নির্বাচন না করলে দল কোথায় হারিয়ে যায় তার বর্তমান উদাহরণ ন্যাপ। বিএনপিকে টিকে থাকার জন্য নির্বাচন করতে হবে।

শেখ সেলিম বলেন, বিএনপি যতই সরকার পতনের কথা বলে, ততই সরকারের মেয়াদ বাড়ে। ২০১৩ সাল থেকে তারা সরকার পতনের কথা বলে আসছে। বিএনপির সৃষ্টি ক্যান্টনমেন্টে। ক্যান্টনমেন্টে সৃষ্ট রাজনৈতিক দল কখনো গণতান্ত্রিক হতে পারে না।

প্রধান অতিথি বলেন, যতদিন শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকবেন, ততদিন জনগণ কষ্টে থাকবে না। বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার মতো হবে না। শ্রীলঙ্কার মতো হওয়ার অবস্থা দেশে হয়নি। বাংলাদেশে তেল-গ্যাসের দামসহ জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে। আমেরিকায়ও দ্রব্যমূল্যের দাম ৭০ ভাগ বেড়েছে।

তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ক্রয়-ক্ষমতা মানুষের নাগালে রাখার চেষ্টা করছেন। ইউরোপ আমেরিকার চেয়ে বাংলাদেশের অবস্থা ভালো। শেখ হাসিনা বেঁচে থাকলে বাংলাদেশ হবে সিঙ্গাপুরের মতো। আওয়ামী লীগ সরকার ২০৪০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবে।

সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিএনপি অনেক চক্রান্ত করেছে। স্বার্থ হাসিলের জন্য তারা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। আজকে যে উন্নয়ন, তা এমনিতে হয়নি। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যখন সরকার গঠন করা হয়, তখন এদেশে মাথাপিছু আয় কত ছিল তা দেখুন।

‘এখন তা দুই হাজার ৮০০ ডলার ছাড়িয়েছে। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করেছি। মানুষ আওয়ামী লীগকে সুযোগ দিয়েছে। পরপর তিনবার আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেছে। এরপরও মানুষ আওয়ামী লীগকে চায়।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল বলেন, চট্টগ্রামের নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য দেখা যায় না। যদি নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকতো তাহলে বিএনপি জামায়াত ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এই বাংলায় যে তাণ্ডবলীলা চালিয়েছিল সেদিন যদি চট্টগ্রামের নেতারা ঐক্যবদ্ধ থাকতেন তাহলে তাদের প্রতিরোধ করতে এই নেতৃত্বই যথেষ্ট ছিল।

‘নেতাদের মধ্যে যদি ঐক্যের সৃষ্টি না হয় তাহলে কর্মীদের মাঝে ঐক্য আসার কোনো সুযোগ নেই। ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। ঐক্য না থাকলে বিএনপি জামায়াত নতুন করে ষড়যন্ত্রের সুযোগ পাবে।’

আ জ ম নাছির ও নওফেলের অনৈক্যের বিষয়ে বলেন, নওফেল ভাই নাছির ভাই ঐক্যের ডাক দিয়েছেন। আমি কষ্ট পাই, আমার চেয়ারম্যানসহ নেতারা কষ্ট পাই, কী কারণে জানেন? আমরা কি শেখ হাসিনার সৈনিক? বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে কী বুকে ধারণ করেছি? তাহলে নাছির ভাই, নওফেল ভাই কার আদর্শ ধারণ করেছেন? যদি তারা শেখ হাসিনার সৈনিক হন, তাহলে তাদের নাম বললেই আলাদা আলাদাভাবে স্লোগান হয় কেন? কীসের ঐক্যের ডাক? এটা ঐক্যের ডাক হতে পারে না।

উদ্বোধনী বক্তব্যে যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, বর্তমান সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণের পরিকল্পিত নীলনকশা বাস্তবায়ন চলছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে যাতে সাধারণ মানুষ সরকারের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলে।

আর এই নীলনকশা বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছে এক এগারোর কুশলীরা। সুশীল সমাজের একটি অংশ এখনো জনগণকে বিভ্রান্ত করতে তৎপর। ওয়ান ইলেভেনের কুশীলবদের মাঠে নামানোর একটি পরিকল্পিত প্রয়াস চলছে।

আরও লক্ষণীয়, জাতীয় সরকারের তত্ত্ব মাঠে হাজিরের সঙ্গে সঙ্গে কিছু ব্যক্তি সরব হয়েছে। যারা এক এগারোর সঙ্গে নানাভাবে যুক্ত এবং অনির্বাচিত সরকারের সুবিধাভোগী। বাংলাদেশর উন্নয়ন নয় বরং এদেশের বাজার দখলই তাদের প্রধান স্বার্থ। মুখে ওরা গণতন্ত্র, সুশাসন, মানবাধিকারের কথা বলে। কিন্তু বাস্তবে এসব বিরোধী শক্তির সঙ্গেই গোপন সখ্য গড়ে তুলে।

যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, চট্টগ্রামে মহানগরের সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ। সম্মেলনে শুধু নতুন নেতা নির্বাচন করব না, এর মাধ্যমে যুবলীগের রাজনীতিতে একটা নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। চট্টগ্রামের মাটি রাজনৈতিকভাবে উর্বর। তারপরও জাতীয় নির্বাচনে চট্টগ্রামে সবসময় আশানুরূপ ফলাফল পাই না। এই অবস্থা পরিবর্তন হবে আজকের এই সম্মেলনের মাধ্যমে।

সর্বশেষ - দেশের খবর