আগে থেকেই জঙ্গি সংগঠনগুলোর সঙ্গে সখ্যতা রয়েছে আল জাজিরার

adminadmin
  প্রকাশিত হয়েছেঃ   02 February 2021

নিউজ ডেস্ক : কাতার ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল জাজিরা টেলিভিশনটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুড, আল কায়েদা, আইএস, হামাস, হিজবুল্লাহ, আল নুসরা ফ্রন্ট, লিবিয়ান ফাইটিং গ্রুপের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলো। বিশ্বের শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত জঙ্গিদের মধ্যে আল কায়েদার আনোয়ার আল আওলাকি, আল নুসরা ফ্রন্টের আবু মোহাম্মদ আল জোলানি, হামাসের খালেদ মাশাল, হাসান নাসরুল্লাহ, মোহাম্মদ দায়েফ, প্যালেস্টাইন জেহাদের রামাদান সাল্লাহ, লিবিয়ান ফাইটিং গ্রুপের আবদুল হাকিম বেলহাজসহ অনেক উগ্রবাদীদের সংবাদ ও অনুষ্ঠান প্রচারের মাধ্যম হিসেবে ভূমিকা রাখে আল জাজিরা।

১৯৯৬ সালে কাতারের আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানিকে আল জাজিরা মিডিয়াটি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। যাত্রার শুরু থেকেই এই নেটওয়ার্কটির পেছনে কোটি কোটি ডলার খরচ করা হয়। আল জাজিরা শুরুতে গণমাধ্যমের নীতি-নৈতিকতা বজায় রেখে সংবাদ পরিবেশন করলেও দিন গড়ার সাথে সাথে মূলধারার সাংবাদিকতা থেকে সরে এসে বিভিন্ন দেশকে টার্গেট করে উসকানিমূলক সংবাদ পরিবেশন করতে থাকে। বিশেষ করে বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে বিতর্কিত রিপোর্ট প্রকাশ, জামায়াতের এজেন্ডা বাস্তবায়ন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তথ্যচিত্র প্রচারসহ বাংলাদেশ বিরোধী বিভিন্ন সংবাদ প্রচার করে আল জাজিরা।

যেহেতু তারা একটি এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে মাঠে নেমেছে। সেহেতু তাদের এমন উদ্দেশ্য জনসম্মুখে উন্মোচিত হয়েছে একাধিকবার। আর একারণে পক্ষপাতদুষ্ট ও সহিংসতা সৃষ্টিতে উস্কানিমূলক সংবাদ প্রচারের অভিযোগে আল-জাজিরাকে সর্বপ্রথম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে আলজেরিয়া। একই বছর ইরাকও সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তবে তারপরও ইতিবাচক ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে, বিশেষত ২০১১ সাল থেকে আল-জাজিরার বিরুদ্ধে যে ধরনের অভিযোগ আসতে শুরু করে তারই পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ মাধ্যমটির বহু সাংবাদিক পদত্যাগ করেন।

প্রথমাবস্থায় অনেকের ধারনা ছিল আলজাজিরা হয়তো মুসলিমদের স্বার্থ রক্ষায় কথা বলবে। কিন্তু বস্তুত বিষয়টি মোটেও এমন নয়। একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হুকুমত কায়েম করা আলজাজিরার মূল উদ্দেশ্য। এসব দলের মধ্যে ঐতিহাসিক বন্ধন ও সমঝোতা আছে যে, প্রয়োজনে সকলে এক মঞ্চে ঐক্যবদ্ধ হবে। প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন মতাদর্শের সাংবাদিকদের নিয়ে যাত্রা হলেও লক্ষ্য ছিল মুসলিম ব্রাদারহুড সমমনা সংগঠনগুলোর সদস্য বা সমর্থকদের নিয়োগ দান করা। আল-জাজিরা সেই লক্ষ্যেই প্লাটফর্ম তৈরিতে অগ্রসর হয়েছে। এর সাড়ে চার হাজার কর্মীর উল্লেখযোগ্য অংশ ওই মতাদর্শের অনুসারী। ফলে কি ধরনের সংবাদ বা প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে, সম্পাদকীয় নীতিমালা কি হবে এ সম্পর্কে তাদের খুব বেশি ভাবতে হয় না।

আলজাজিরার মূল উদ্দেশ্য তাদের মতাদর্শ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে দেয়া। বিভিন্ন দেশের মধ্যে তাদের মূল টার্গেট ভারত, পাকিস্তানে জামায়াতে ইসলামী, জমিয়াতুল মুসলেমিন, লস্করে তৈয়বা, তুরস্কে একে পার্টির সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামকে সার্বিক সহযোগিতা করা। আর এ কারণেই ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধী আব্দুল কাদের মোল্লার ফাঁসির রায় ও পরবর্তীতে অন্যান্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচারিক কার্যক্রম নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে মনগড়া, বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক তথ্যচিত্র প্রচার করে কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরা। শুধুমাত্র নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য।

২০১২ সালে কুখ্যাত স্বাধীনতাবিরোধী ও জামায়াত নেতা গোলাম আযমকে কথিত হিরো বানিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্যচিত্র প্রচার করে গণমাধ্যমটি। ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজতের তাণ্ডবকে সমর্থন করে সেখানে কথিত গণহত্যার মিথ্যা তথ্য প্রচারের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারকে একতরফাভাবে দোষারোপ করে প্রতিবেদন তৈরি করে আল জাজিরা। এছাড়া অতিসম্প্রতি ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনকে ভিন্নপথে প্রবাহিত করতে এদেশের কিছু রাষ্ট্রবিরোধী এজেন্ট যেমন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, কনক সরওয়ারদের মতো ব্যক্তিদের মিথ্যা তথ্যকে যাচাই-বাছাই ছাড়াই প্রচার করে গণমাধ্যমটি।

আলজাজিরা বিভিন্ন দেশে তাদের মতাবলম্বী সাংবাদিকদের তৈরি করে তাদের থেকে বিভিন্ন তথ্য নিয়ে উক্ত দেশে নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করে। এ ক্ষেত্রে তারা যেসব সাংবাদিকদের টার্গেট করে, তাদের পরিবারের সকল ভরণপোষণের দায়িত্বও তারা নেয়। এমন দুজন সাংবাদিক হচ্ছেন ড. কনক সরওয়ার ও ইলিয়াস হোসেন। এবং খেয়াল করলে দেখা যায়, তারা দু’জনই পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন।

কাতার ভিত্তিক এই চ্যানেলটি যে শুধু সাংবাদিকদের অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করে তা নয়। এর বিনিময়ে উক্ত দেশের বিরোধী পক্ষ থেকে মিলিয়ন ডলারের অনুদানও পায়। মূলত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকদের পালার জন্য তাদের অর্থ সহায়তা করে উক্ত দেশগুলোর বিতর্কিত সংগঠনগুলো। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সংবাদ পরিবেশন করেও তারা পায় কোটি কোটি টাকা। সম্প্রতি আল জাজিরা তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্য হিসেবে বাংলাদেশ সরকারকে বিব্রত করে একাধিক সংবাদ পরিবেশন করছে। জানা যায়, ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে বাংলাদেশে অবস্থিত জামায়াত ও বিএনপির অর্ধশত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তি হয় আলজাজিরার। চুক্তিতে উল্লেখ থাকে, বাংলাদেশ সরকারের স্বার্থবিরোধী সংবাদ পরিবেশন করে দেশ অচল করার দায়িত্ব থাকবে আল জাজিরা টেলিভিশনের। আর সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে আল জাজিরা।

জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আল জাজিরার বিভিন্ন পালিত সাংবাদিকদের উচ্চমানের ট্রেনিং দিয়ে একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর তাদের দিয়ে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা চালানো হয়। এমন গতিবিধি কনক সরওয়ার ও ইলিয়াস হোসেনের ক্ষেত্রেও লক্ষণীয়। এ দুই সাংবাদিক বিগত পাঁচ বছর যাবত যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও কোনো কথা বলেনি। কিন্তু হঠাৎ করে নানা প্রকারের মিথ্যাচার করে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধু তাই নয়, সমগ্র পৃথিবীতেই এভাবে তারা লোভ দেখিয়ে নিজেদের জাল বিস্তৃত করেছে।

সরকারের উন্নয়ন ধরাকে ব্যাহত করতে ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ইমেজ নষ্ট করতে সরকার, পুলিশ, সেনাবাহিনীকে টার্গেট করে প্রতিনিয়ত মিথ্যাচার করছে আল জাজিরা চক্র। গুঞ্জন রয়েছে, জামায়াতের মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক একাধিক পৃষ্ঠপোষক মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ করে বাংলাদেশকে নিয়ে আল জাজিরার মাধ্যমে ভিত্তিহীন সংবাদ প্রচার করছে।

জেনে রাখা প্রয়োজন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, রোহিঙ্গা ইস্যু, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ও কোটা আন্দোলন ইত্যাদি নিয়ে একের পর এক উস্কানিমূলক ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল আল জাজিরায়। বিতর্কিত সাংবাদিক কনক সরওয়ার, তাসনিম খলিল, ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যান ও কিছু রাষ্ট্রবিরোধী চক্র মিলিত হয়ে আল জাজিরাকে বাংলাদেশ বিরোধী তথ্যচিত্র তৈরি করে প্রচার করতে সহায়তা করছে। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের সংখ্যা নিয়েও কটাক্ষ করছে আল জাজিরা। সংস্থাটি দাবি করে, মুক্তিযুদ্ধে ৩ থেকে ৫ লাখ মানুষ মারা গিয়েছে, যা নিতান্তই পরিকল্পিত মিথ্যাচার বলেই প্রতীয়মান হয়।

২০১৩ সালে আল জাজিরা যুক্তরাষ্ট্রে নতুন দপ্তর চালু করে। অন্যদিকে আল জাজিরার মধ্যস্থতায় জঙ্গি সংগঠন আল কায়েদাও কাতারে দপ্তর খোলে। কাতার চ্যারিটি নামের একটি সংগঠন হয়ে ওঠে জঙ্গিদের আর্থিক সহযোগিতা গ্রহণের বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠান থেকে পাওয়া অর্থ আল জাজিরার যুক্তরাষ্ট্র দফতরে যায়। সেখান থেকে বাংলাদেশের হয়েও নিজের মাটিকে বিক্রি করে দেয়া সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেন, কনক সরওয়ার, মুনির হায়দার ও সাহেদ আলমরা অর্থ সংগ্রহ করে।

আল জাজিরা এমন পর্যায়ের মিথ্যাচার করে যে, একটি দেশের মধ্যে দাঙা ফ্যাসাদও তৈরি হয়ে যায়। ২০১৯ সালে আল জাজিরা মিথ্যা সংবাদের কারণে বাহরাইনে দাঙা শুরু হয়ে যায়। সে সময় বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাইখ খালিদ বিন আহমেদ বিন মোহাম্মদ আল খলিফা জোর দিয়ে বলেছেন, ‘কাতারে অবস্থিত আল জাজিরা স্যাটেলাইট চ্যানেলটি সর্বশেষ প্রচারিত তথাকথিত ডকুমেন্টারি “দ্য হিডেন ইজ মোর ইমেনেস”। স্পষ্ট মিথ্যা এবং ভুল দিয়ে ভরা ছিল। অথচ এ কারণে আমাদের দেশে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়।’

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘বাহরাইন রাজ্যের বিরুদ্ধে এবং দু’দেশের সুরক্ষা ও স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে, নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে কেউ এমন কাজ করতে পারে, তা জানা ছিলো না।’

বাংলাদেশ একটি অসাম্প্রদায়িক দেশ। এখানে ধর্মী দাঙা সৃষ্টির প্রত্যয়ে কাজ করছে আল জাজিরা। ফলে তাই বাংলাদেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক তথ্যচিত্র প্রচার বন্ধে অবিলম্বে আল জাজিরার মতো সন্ত্রাসীদের পৃষ্ঠপোষক মিডিয়ার প্রচার নিষিদ্ধ করা উচিত বলে মনে করছেন অনেকেই।

দেশের খবর

আপনার মতামত লিখুন :