হেফাজতের স্টিয়ারিং বিএনপিপন্থী বাবুনগরী-কাসেমীর হাতে, সন্তুষ্ট বেগম জিয়া-তারেক


  প্রকাশিত হয়েছেঃ   17 November 2020

নিউজ ডেস্ক: বহুল আলোচিত ইসলামি সংগঠন হেফাজতে ইসলামের আমির নির্বাচিত হয়েছেন আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। সংগঠনটির মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন মাওলানা নূর হোসাইন কাসেমী। হাটহাজারী মাদ্রাসায় হেফাজতের সম্মেলনে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। সংগঠনের আমির ও মহাসচিব দুজনই বিএনপি-জামায়াতপন্থী বলে অভিযোগ রয়েছে। আল্লামা বাবুনগরী ও মাওলানা কাসেমী হেফাজতের নেতৃত্ব গ্রহণ করায় সংগঠনটি বিএনপি-জামায়াতের কব্জায় চলে গেছে বলেও গুঞ্জন উঠেছে। বিশেষ করে হেফাজতের নতুন নেতৃত্বকে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান ও জামায়াত নেতারা শুভেচ্ছা জানানোও ধর্মভিত্তিক সংগঠনটি নিয়ে এমন গুঞ্জন চাউর হয়েছে।

এদিকে সূত্র বলছে, হেফাজতে ইসলামের এই সম্মেলনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রয়াত আল্লামা আহমদ শফীর ছেলে আনাস মাদানীর সমর্থকরা। সম্মেলনের পুরো প্রক্রিয়াটিই অবৈধ। তাদেরকে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি বলেও দাবি তাদের। মূলত হেফাজতকে বিএনপি-জামায়াতের আজ্ঞাবাহী সংগঠনে পরিণত করতে কৌশল করে আহমদ শফীপন্থী কাউকে রাখা হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি-জামায়াতের নেতারা হেফাজতের নেতৃত্বে তাদের পছন্দের অনুসারীদের বসাতে নানা চেষ্টা-তদবির অব্যাহত রাখে। আল্লামা বাবুনগরী ও মাওলানা কাসেমী হেফাজতের নেতৃত্বে আসায় বিএনপি-জামায়াতের নেতৃবৃন্দ তাই তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন বলেও জানা গেছে।

গোপন একটি সূত্র বলছে, হেফাজতের নেতৃত্বে পছন্দের মানুষ আল্লামা বাবুনগরী ও মাওলানা কাসেমী গ্রহণ করার পরপরই তাদের শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এসময় বেগম জিয়া হেফাজত নেতাদের বিএনপির সাথে কাজ করতেও নিমন্ত্রণ জানান। এছাড়া ১৫ নভেম্বর লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও ফোন করে হেফাজতের নতুন নেতাদের শুভেচ্ছা জানান। ভবিষ্যতে রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে পারলে হেফাজতে ইসলামের খেদমত করারও কথা জানান তারেক। অন্যদিকে জামায়াতের কেন্দ্রীয় আমির ও সেক্রেটারি জেনারেল হেফাজতের নতুন নেতাদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলে জানা গেছে। হেফাজতকে রাজপথে নিয়ে দাবি আদায়ের সংগ্রামে একত্রিতভাবে কাজ করার কথাও ব্যক্ত করেছেন জামায়াত নেতারা।

হেফাজতের নেতৃবৃন্দকে বিএনপি-জামায়াতের শুভেচ্ছা জানানোয় রাজনৈতিক মহলে চাউর হচ্ছে নানা গুঞ্জন। অনেকে বলছেন, শেষ পর্যন্ত হেফাজতের স্টিয়ারিং বিএনপি-জামায়াতের হাতেই পড়লো। ধর্মভিত্তিক এই সংগঠনকে ব্যবহার করে বিএনপি-জামায়াত ভবিষ্যতে তাদের রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করার নানামুখী ষড়যন্ত্র করবে। তাই বিএনপি-জামায়াতের ষড়যন্ত্র থেকে হেফাজতে ইসলামকে রক্ষা করতে তারা বাবুনগরী ও কাসেমীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন :