মাতৃগর্ভে থাকাবস্থায়ই বিক্রি হয়ে গেছে মুসা!


  প্রকাশিত হয়েছেঃ   31 January 2019

দুদিন বয়সের শিশু মুসা মাতৃগর্ভে থাকাবস্থায়ই বিক্রি হয়ে গেছে। আর তাকে নিতে এসে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আটক হয়েছেন সোনিয়া (২৮) নামে এক নারী।

বুধবার রাত ৮টার দিকে হাসপাতালের ১০৬ নম্বর গাইনি ওয়ার্ড থেকে সোনিয়াকে আটক করে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. বাচ্চু মিয়া।

নবজাতকের মা জোসনা বেগম জানান, টঙ্গী রেলস্টেশনের এক ভাড়াবাড়িতে দ্বিতীয় স্বামী টুকুর সঙ্গে থাকেন জোসনা। গত সোমবার তিনি ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি হন। এর পর মঙ্গলবার সিজারের মাধ্যমে তার একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন।

তিনি জানান, কমলাপুর স্টেশনে হোটেলে হোটেলে পানি দেয়ার কাজ করতেন জোসনা। সেখানে সোনিয়ার সঙ্গে পরিচয় হয় তার। তখন জোসনা চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।

সোনিয়া সেই সময় জোসনার সন্তানকে ক্রয়ের জন্য ৫০ হাজার টাকা দিতে চান। এর পর সোনিয়া তাকে শারীরিক চিকিৎসার জন্য তিন হাজার টাকা দিয়েছিলেন। তিনি মাঝে মধ্যে যোগাযোগ করে তার খোঁজখবরও রাখতেন।

তবে জোসনার ছেলে জন্ম নেয়ার পর তিনি সোনিয়াকে বাচ্চা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং সেই তিন হাজার টাকা ফেরত দিতে চান। আর এ নিয়েই তাদের মধ্যে ঝামেলা বাধে।

আটক সোনিয়া জানান, পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজার এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকেন তিনি। জোসনা একসময় তার বাসায় কাজ করত। তার সমস্যার (অন্তঃসত্ত্বা) কারণে তাকে চিকিৎসার জন্য তিন হাজার টাকা দিয়েছি।

আজ জোসনা তাকে ফোন করে ঢামেকে আসতে বলে, তাই সকালে এসেছিলেন সোনিয়া। সারা দিন তার পাশেই ছিল। সন্ধ্যায় জোসনার স্বামী টুকু মিয়ার অভিযোগে আনসার সদস্যরা তাকে আটক করে। পরে শাহবাগ পুলিশে সোপর্দ করে।

হাসপাতালের ১০৬ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বরত নার্স কামরুন নাহার ও টুম্পা হাওলাদার বলেন, হঠাৎ সোনিয়া নামের ওই নারী নবজাতকটিকে কোলে নিয়ে ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে গেটের দিকে যেতে থাকলে আমরা তাকে আটক করি। পরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

দেশের খবর

আপনার মতামত লিখুন :