logo
সোমবার , ২ জানুয়ারি ২০২৩ | ১৯শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ক্যারিয়ার ভাবনা
  5. খেলা
  6. জাতীয়
  7. টেক নিউজ
  8. দেশের খবর
  9. প্রবাস
  10. ফিচার
  11. বিনোদন
  12. রাজনীতি
  13. লাইফস্টাইল
  14. সম্পাদকীয়
  15. সাফল্য

মেট্রোরেল যানজট নিরসনের যাদুরকাঠি

প্রতিবেদক
rakibul
জানুয়ারি ২, ২০২৩ ৫:৪৩ অপরাহ্ণ

রাষ্ট্রচিন্তায় যদি থাকে দেশ ও মানুষের কল্যাণ তার প্রতিফলন দেখা যায় সরকারের নীতি ও পরিকল্পনায়। এসব নীতি-পরিকল্পনার আলোকেই গৃহীত হয় উন্নয়ন কার্যক্রমগুলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন দর্শনের মূলে রয়েছে মানুষ। অর্থাৎ মানুষের কল্যাণ। তাঁর উন্নয়ন কার্যক্রমগুলোর দিকে আলোকপাত করলে দেখা যাবে, এ পর্যন্ত মেগা প্রকল্প থেকে শুরু করে যত উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে তার সবই দেশ ও মানুষের কল্যাণ ঘিরে। অবকাঠামো উন্নয়নের কথাই ধরা যাক।

২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার অংশ হিসেবে এ খাতে মেগা প্রকল্পসহ অসংখ্য উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, যা বাস্তবায়নের পর একের পর এক উদ্বোধন করা হচ্ছে। এবার যোগ হয়েছে মেট্রোরেল। বাংলাদেশ বিদ্যুৎচালিত মেট্রোরেল ব্যবস্থার যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে ২৮ ডিসেম্বর। এদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর রাজধানীর গণপরিবহনে নতুন দিগন্তের যাত্রা শুরু হবে। সাধারণ মানুষ এই সুবিধা পাবেন ২৯ ডিসেম্বর থেকে। বলাবাহুল্য, রাজধানীবাসীর কাক্সিক্ষত এই মেট্রোরেল ঢাকা মহানগর ও তৎসংলগ্ন এলাকার যানজট নিরসন ও পরিবেশ উন্নয়নে বিরাট ভূমিকা পালন করবে। বাংলাদেশের অব্যাহত উন্নয়ন অভিযাত্রায় স্বপ্নের পদ্মা সেতু প্রকল্প বাস্তবায়নের পর মেট্রোরেলই হতে যাচ্ছে আরও একটি বিস্ময় জাগানো মাইলফলক অর্জন।

চলতি বছরের ২৫ জুন চালু হওয়া পদ্মা শুধু একটি সেতু নয়, এটি এক সময়ের ৮৮ ভাগ বৈদেশিক সাহায্যনির্ভর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার ইতিহাস এবং দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সাহস ও সততার উদাহরণ সৃষ্টির সেতু। ২০১২ সালের ১৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট তথা মেট্রোরেল প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদন লাভ করে। প্রথম পর্যায়ে নির্মাণের জন্য এমআরটি-৬ নামক ২০.১০ কিলোমিটার দীর্ঘ পথকে নির্ধারণ করা হয়। রাজধানীর যানজট নিরসনসহ সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ উদ্যোগে শুরু হয় মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ। তিনি দেশের প্রথম উড়াল মেট্রোরেল ২০১৬ সালের ২৬ জুন এমআরটি-৬ প্রকল্পের নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ঢাকায় যত সমস্যা রয়েছে তার মধ্যে যানজট সবচেয়ে ভোগান্তিকর।

ঢাকার অসহনীয় যানজটে কেবল মানুষের দুর্ভোগই বাড়ছে না, দেশও অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রতিনিয়ত এই যানজট হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগের পাশাপাশি কর্মঘণ্টারও ক্ষতি করে। এতে স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে যেমন ব্যাঘাত ঘটে, তেমনি প্রভাব পড়ে অন্যান্য ক্ষেত্রে। যানজটে সৃষ্ট দুরবস্থা নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনা ছিল অত্যন্ত জরুরি। মেট্রোরেল লাইন-৬ চালুর মধ্য দিয়ে ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে ও পরিবেশ উন্নয়নে দ্রুতগামী, নিরাপদ, নির্ভরযোগ্য, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত, সময়-সাশ্রয়ী, বিদ্যুৎচালিত ও পরিবেশবান্ধব অত্যাধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার প্রবর্তন হয়েছে। মেট্রোরেল ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় আধনিকায়ন ও যানজট নিরসনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। ঢাকার বিপুল সংখ্যক যাত্রী ও যানবাহনের চাপ সামলাতে মেট্রোরেলের মতো গণপরিবহনই হবে একটি কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা। বর্তমানে উত্তরা থেকে মতিঝিলে যেতে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগে। কিন্তু মেট্রোরেলে লাগবে মাত্র ৩৮ মিনিট।

মেট্রোরেলে প্রতিদিন ৫ লাখ যাত্রী যাতায়াত করার সক্ষমতা রয়েছে। মেট্রোরেল চালুর মাধ্যমে ঢাকার যানজট যেমন কমবে, তেমনি জিডিপিও ১ শতাংশ বাড়বে। শুধু লাইন ৬ চালু হলেই ঢাকায় কার্বন নিঃসরণ ২ লাখ টনের মতো কমবে। এ ধরনের পরিবহন মানুষের জীবনধারা পরিবর্তন ও উৎপাদনশীল সময় বৃদ্ধি করে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।বিজয়ের মাসেই নগরবাসীর স্বপ্নের মেট্রোরেল যাত্রা শুরু করছে। এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে মহানগরী হয়ে উঠবে দৃষ্টিনন্দন। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল ও কর্ণফুলী ট্যানেলÑ এই তিনটি প্রকল্প দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমের অনন্য মাইলফলক। অচিরেই খুলে দেওয়া হবে কর্ণফুলী টানেলও। জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এসব প্রকল্পের ভূমিকা থাকবে সর্বাধিক। বিজয়ের মাসে একের পর একের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্বোধন মনে করিয়ে দেয় ৫১ বছর আগের কথা। ইতিহাসের দিকে চোখ ফেরালে দেখা যায়, ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন, তখন বাংলাদেশ ছিল বিশ্বের দরিদ্রতম দশটি দেশের একটি। ৮৮ শতাংশ মানুষ ছিল দরিদ্র। বৈদেশিক সাহায্যের নির্ভরতা ছিল ৮৮ ভাগ।

বাংলাদেশ টিকে থাকবে কিনা তা নিয়ে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জার বলেছিলেন, বাংলাদেশ হলো ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র দেশ। বঙ্গবন্ধু ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে শূন্য হাতে সুপরিকল্পিত অর্থনৈতিক কার্যক্রম শুরু করেন। প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৭৩-৭৮) প্রণয়নের দ্বিতীয় বছরে ১৯৭৪-৭৫ সালে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বাংলাদেশের জিডিপি ৯.৫৯ শতাংশে উন্নীত হয়, যা আজও পর্যন্ত রেকর্ড জিডিপি। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশ নিমজ্জিত হয় অন্ধকারে। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সামরিক ও আধা গণতন্ত্রী শাসকরা স্বাধীনতাবিরোধীদের ক্ষমতার অংশীদার করে দীর্ঘ ২১ বছর ধরে দেশ শাসন করে। তাদের আমলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কখনোই ৪/৫ শতাংশের ওপরে ওঠেনি।

দেশে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্নফুলী টানেল নির্মাণ হবে এটা ছিল কল্পনারও অতীত। কারণ, স্বাধীনতাবিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির সহযোগিতায় জিয়া, এরশাদ এবং বেগম খালেদা জিয়ার ২৯ বছর দেশ শাসিত হয়েছে উন্নয়নবিরোধী ধারায়। তাদের না ছিল কোনো ভিশন, না ছিল কোনো পরিকল্পনা। আধুনিক নগর পরিকল্পনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগ সরকারের দূরদর্শী চিন্তার ফসল মেট্রোরেল। প্রধানমন্ত্রীর সততা, সাহসিকতা, সময়োপযোগী পরিকল্পনা এবং স্বচ্ছ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই দেশের সাধারণ মানুষের মাঝে আস্থা ফিরেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনার বাংলা বিনির্মাণের স্বপ্ন অস্তমিত হয়নি। এ সকল উন্নয়ন প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নই তার প্রমাণ। অবকাঠামোগত উন্নয়ন অর্থনৈতিক, গতিশীলতা ও বৃহত্তর উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সমন্বিত, টেকসই ও গতিশীল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কারণেই উন্নত অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে দেশ। তিনি বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত করেছেন। উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল বাংলাদেশে এখন মানুষের জীবনযাত্রা অনেক সহজ, সুন্দর আর নিরাপদ। বিগত ১৪ বছরের পথ পরিক্রমায় মধ্যম আয়ের দেশ থেকে আমরা এখন উন্নত দেশের অভিযাত্রী। ২০৪১ সাল নাগাদ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলার আধুনিক রূপ সাশ্রয়ী, টেকসই, বুদ্ধিদীপ্ত, জ্ঞানভিত্তিক, উদ্ভাবনী, স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের নতুন একটি রূপকল্প দিয়েছেন জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে, মেট্রোরেলসহ সমন্বিত আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমে অচিরেই বিশ্বের অন্যতম সেরা রাষ্ট্রে পরিণত হবে বাংলাদেশ।

সর্বশেষ - রাজনীতি

আপনার জন্য নির্বাচিত

আগামী মাসেই পাটকল শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করা হবে: পাটমন্ত্রী

এনপি ইসিকে বিতর্কিত করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে

তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে অভিনব প্রতারণা করছে ছাত্রদল নেতারা!

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা সব সুবিধাবাদী!

দুর্নীতি হ্রাসে ভূমি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল নজরদারি করা হচ্ছে

প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে নজরদারি বাড়ছে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের ওপর

ফ্ল্যাটে থেকে শিশুরা ফার্মের মুরগির মতো হয়ে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর জ্বালানি, খাদ্য ও বাণিজ্য বিষয়ে অগ্রসর হচ্ছে ঢাকা-দিল্লি

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময় জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ে ভোগান্তিতে ঘরমুখো মানুষ