পিকের ব্যাংক হিসাবে ঋণের কমিশন তিনশ’ কোটি টাকা

adminadmin
  প্রকাশিত হয়েছেঃ   16 May 2022

পিকে (প্রশান্ত কুমার) হালদার ঋণ পাইয়ে দেওয়ার কমিশন নিয়েছেন তিনশ’ কোটি টাকা। এই অর্থ ব্যাংক এশিয়ার ধানমন্ডি শাখায় তার স্যালারি অ্যাকাউন্টে গেছে। আত্মীয় ও বন্ধু-বান্ধবসহ ৪০ জন সহযোগী নিয়ে পিকে তৈরি করেছেন জালিয়াতির শক্তিশালী সিন্ডিকেট।

এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই পিকে হালদার পাঁচ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। এখান থেকে পাচার করেন সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা। এছাড়া দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে জব্দ করা হিসাবে আছে এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা। বাকি টাকা স্থানান্তর করেন বিভিন্ন ব্যক্তির হিসাবে। পিকের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্তে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

এদিকে শনিবার ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেফতার পিকে হালদারকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। এদিকে প্রায় তিন ডজন মামলার আসামি পিকে হালদারকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তিন থেকে ছয় মাসের মধ্যে তাকে দেশে ফেরানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে দুদক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ্ সমৃদ্ধির বাংলাদেশকে বলেন, যত দ্রুত সম্ভব পিকে হালদারকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করব। দেশে এনে তাকে বিচারের মুখোমুখি দাঁড় করানোই আমাদের একমাত্র কাজ।

উচ্চ আদালতে নিয়োজিত দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান সমৃদ্ধির বাংলাদেশকে বলেন, মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্টের (এমএলএআর) আওতায় পিকে হালদারের বিষয়ে ইডিকে তথ্য দেয় দুদক। ওই তথ্যের ভিত্তিতে ইডি অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।

তিনি বলেন, পিকে হালদারকে দেশে ফেরত আনার ব্যাপারে আমি আশাবাদী। তবে এতে সময় লাগতে পারে। সব প্রক্রিয়া শেষে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে হয়তো তিন থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে।

এদিকে পিকে হালদারের অর্থ লোপাটের অনুসন্ধান ও তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার প্রধান যুগান্তরকে বলেন, পিকে হালদারের বিরুদ্ধে করা মামলাগুলোর মধ্যে তিনটি মামলার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

তার অর্থ লোপাটের তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে। শিগগিরই কমিশনে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অর্থ আত্মসাতের সঠিক পরিমাণ জানতে তাকে রিমান্ডে নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

যত দ্রুত সম্ভব তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার সব উদ্যোগ গ্রহণ করবেন সংশ্লিষ্টরা। দেশে আনা হলেই প্রথমে তাকে মামলাগুলোয় গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হবে।

ঋণের কমিশন ৩০০ কোটি টাকা : ৪০টি অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের ঋণের নামে প্রায় সাত হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছেন পিকে হালদার। রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের এমডি থাকার সময় শুধু ‘ঋণের কমিশন’ বাবদই পিকে হালদারের ব্যাংক এশিয়া ধানমন্ডি ব্র্যাঞ্চের স্যালারি অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে ৩০০ কোটি টাকার বেশি।

এ অর্থ পুরোটাই ঋণের কমিশন বলে জানতে পেরেছেন দুদকের তদন্ত কর্মকর্তারা। প্রতিটি ঋণ থেকে তিনি নির্ধারিত কমিশন পেতেন। কোনো গ্রাহক ঋণ নিয়ে তার একটি অংশ সরাসরি পিকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা দিতেন। মাত্র আড়াই বছর সময়ে ঋণের কমিশনের ওই বৃহৎ অঙ্কের টাকা পিকের স্যালারি অ্যাকাউন্টে জমা হয়।

৪০ সহযোগী নিয়ে পিকের সিন্ডিকেট : আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাটে পিকে হালদার তার আত্মীয় ও বন্ধু-বান্ধবসহ ৪০ জনকে ব্যবহার করেছেন। এই ৪০ সহযোগী নিয়েই তিনি আর্থিক খাতে এই জালিয়াতি করেছেন।

দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্তে এই ৪০ জনকে সহযোগী হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরা হলেন-ফাস ফাইন্যান্সের হারুনুর রশিদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী, পিকে হালদারের বন্ধু উজ্জ্বল কুমার নন্দী, সামি হুদা, পিকে হালদারের চাচাতো ভাই অমিতাভ অধিকারী, অবন্তিকা বড়াল, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের রাশেদুল হক, আবেদ হোসেন, রাফসান রিয়াজ, শামীমা, নাহিদা রুনাই, সাবেক সচিব ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ের চেয়ারম্যান আই খান, আয়কর আইনজীবী সুকুমার মৃধা, অনিন্দিতা মৃধা, তপন দে, স্বপন কুমার মিস্ত্রি, অভিজিৎ চৌধুরী, রাজিব সোম, ব্যাংক এশিয়ার সাবেক এমডি ইরফান উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, অঙ্গন মোহন রায়, নঙ্গ চৌ মং, নিজামুল আহসান, মানিক লাল সমাদ্দার, সোহেল শামস, পিকে হালদারকে তথ্য দিয়ে সহায়তাকারী মাহবুব মুসা, একিউ সিদ্দিকী, মোয়াজ্জেম হোসেন, পিকে হালদারের সহোদর প্রীতিশ কুমার হালদার, পিকে হালদারের মা লীলাবতী হালদার।

দেশের খবর

আপনার মতামত লিখুন :