মজুত করা ‘অবৈধ’ তেল জব্দের হিড়িক

adminadmin
  প্রকাশিত হয়েছেঃ   14 May 2022

সয়াবিন তেলের কৃত্রিম সংকটে নাকাল দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ। উপজেলা পর্যায় ও গ্রামাঞ্চলে খুচরা দোকানে পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে না নিত্যপণ্যটি।

এমন সংকটে একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ‘অবৈধভাবে’ তেল মজুত করে বাড়তি দামে সেগুলো বিক্রি করছে। কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে দোকান ও গুদাম থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে মজুত করা তেল। রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকায় সোম ও মঙ্গলবার পৃথক অভিযান চালিয়ে ১ লাখ ২০ হাজার লিটারের বেশ সয়াবিন তেল জব্দ করেছে কর্তৃপক্ষ।

কুষ্টিয়ায় বিভিন্ন গুদাম থেকে ৪০ হাজার লিটার সয়াবিন তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া পাবনার ঈশ্বরদীতে ১৮ হাজার লিটার ও গাজীপুরে ৭ হাজার ১৫৮ লিটার তেল জব্দ করা হয়েছে। এদিকে নতুন দর কার্যকর হওয়ার চার দিনের মধ্যেই বোতলজাত সয়াবিন তেল শূন্য হয়ে পড়েছে বরিশালের দোকানগুলোয়। নগরীর বিভিন্ন বাজার ও পাড়া-মহল্লার কোনো দোকানেই মিলছে না বোতলজাত সয়াবিন তেল। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

রাজশাহী : রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর বাজারে অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার চারটি গুদাম থেকে ৯২ হাজার ৬১৬ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকার অ্যান্ড সন্সের গোডাউন ও ট্রাক থেকে ১৩৪ ড্রাম, এন্তাজ স্টোরের গুদামে ১৪২ ড্রাম, পাল অ্যান্ড ব্রাদার্সের গুদামে ১০৩ ড্রাম ও রিয়া স্টোরের গোডাউনে ৭৫ ড্রাম তেল জব্দ করা হয়।

প্রতি ড্রামে রয়েছে ২০৪ লিটার তেল। পুঠিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোরাওয়ার্র্দী হোসেন জানান, অভিযানকালে ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। বাগমারার তাহেরপুর বাজারে দুটি গোডাউনে অভিযান চালিয়ে ২৭ হাজার ৯৪৮ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়েছে। অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ ভোজ্যতেল মজুতের অপরাধে মিলমালিক শহিদুল ইসলাম ওরফে স্বপন সাজিকে আটক করা হয়েছে। দুটি গোডাউন সিলগালা করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সোমবার রাত ৯টায় এ অভিযান চালায় পুলিশ। জব্দ করা তেল বাগমারা থানায় পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। মহানগরীর বোয়ালিয়া ও রাজপাড়ায় সয়াবিন তেল মজুত করে রাখা ও বেশি দামে বিক্রি করার অপরাধে তিন দোকানিকে ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয় এ অভিযান চালায়।

সাহেববাজার এলাকায় মেসার্স হুমায়ুন স্টোর নামের একটি দোকানে সয়াবিন তেল পাওয়া না গেলেও গুদামে মিলে ১৩২ লিটার। বিক্রি না করে মজুত রাখায় প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মেসার্স পাপ্পু অ্যান্ড ব্রাদার্স নামের একটি দোকানে গিয়ে দেখা যায়, মূল্যবৃদ্ধির আগের সয়াবিন তেলের বোতল নতুন দামে বিক্রি করা হচ্ছে। অতিরিক্ত মূল্য নেওয়ায় এ দোকানিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। বহরমপুর মোড় এলাকার নুরুন্নবী ট্রেডার্সকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়া শহরের পাইকারি মার্কেট বড়বাজারের একটি দোকানের গোডাউনে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত রাখা ৪০ হাজার লিটার সয়াবিন তেলের হদিস মিলেছে। এজন্য দোকান মালিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পাশাপাশি এসব তেল কেনা দামে আগামী তিন দিনের মধ্যে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়। ভোক্তার অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সুচন্দন মণ্ডল জানান, মা ফুড প্রডাক্টের গোডাউনে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ খোলা সয়াবিন তেল পাওয়া গেছে। ঈদের আগে এসব তেল কিনে গুদামজাত করা হয়েছিল। বেশি দামে এসব তেল বিক্রি করা হচ্ছিল।

গাজীপুর : গাজীপুর মহানগরীর বোর্ডবাজার এলাকার দুটি তেলের গুদাম থেকে অবৈধভাবে মজুত করা সাত হাজার ১৫৮ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ সময় দুই গুদাম মালিককে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর গাছা থানার বোর্ডবাজারের মেসার্স মনির জেনারেল স্টোরে ও মেসার্স আর পি ট্রেডার্সের গুদামে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ভোক্তা অধিদপ্তর গাজীপুরের সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আব্দুল জব্বার মণ্ডল।

ঈশ্বরদী (পাবনা) : পাবনার ঈশ্বরদী বাজারের শ্যামল স্টোরের গোডাউনে অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার মজুত করা ১০ হাজার লিটার খোলা (লুজ) ভোজ্য সয়াবিন তেল, এক হাজার ২৪৪ লিটার বোতলজাত তেল ও ৭ হাজার লিটার সরিষার তেল উদ্ধার করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ সময় দোকানিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও ভোজ্যতেল জনসম্মুখে ঈদের আগের দামে ৭৬০ টাকা (৫ লিটারের বোতল) ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হয়। দুমকি (পটুয়াখালী) : পটুয়াখালীর দুমকিতে তিন ব্যবসায়ীর গুদামে অভিযান চালিয়ে মজুত করা ৩ হাজার লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে ওই তেল সরকার নির্ধারিত মূল্যে খোলাবাজারে বিক্রি করা হয়। সোমবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হোসনে আরার নেতৃত্বে মুরাদিয়ার বোর্ড অফিস বাজারে এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় সয়াবিন তেল মজুত করায় এক ব্যবসায়ীকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

চাঁদপুর : জেলা শহরের প্রধান পাইকারি বাজার পুরানবাজারে পরিচালিত অভিযানে অবৈধ মজুত, তেলের বোতলের গায়ের বিক্রয়মূল্য মুছে ফেলার অভিযোগে দুই ব্যবসায়ীকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা ও ১৪ লিটার তেল জব্দ করা হয়। অভিযানে বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করা হয়।

কুড়িগ্রাম : জেলার ভুরুঙ্গামারীতে বেশি দামে সয়াবিন তেল বিক্রির অপরাধে এক ডিলারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের কাশিমবাজারের মুন্না স্টোরকে এই জরিমানা করা হয়।

বরিশাল : সরেজমিন দেখা যায়, বরিশাল নগরীর নতুন বাজারের সব কটি দোকান ঘুরেও বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যায়নি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ঈদের আগে মাত্র এক কার্টন বোতলজাত সয়াবিন তেল দিয়েছিল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা। তখন তেলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির চাল, তেল, চা পাতাসহ বেশ কিছু পণ্য কিনতে বাধ্য করা হয়েছিল। ঈদের পর মজুত নেই জানিয়ে কোনো কোম্পানির বিপণন কর্মকর্তারা তেলের অর্ডার (সরবরাহ আদেশ) নিচ্ছে না।

ফলে ক্রেতারা দোকানে দোকানে ঘুরেও বোতলজাত সয়াবিন তেল কিনতে পারছেন না। অনেকে বাধ্য হয়ে সরিষার তেল কিনে বাড়ি ফিরছেন। এছাড়া নগরীর বড় বাজার, সাগরদী বাজার, বাংলাবাজারসহ সব বাজার ও পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতেও একই দৃশ্য দেখা গেছে। বরিশালে বোতলের গায়ে লেখা আগের দামে দোকানদারকে সয়াবিন তেল বিক্রিতে বাধ্য করেছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর সাগরদী বাজারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বাজার মনিটরিং টিমের অভিযানে এই কার্যক্রম চালানো হয়। এ সময় সাগরদী বাজারের কবির স্টোরে বেশ কয়েক বোতল সয়াবিন তেল পাওয়া যায়।

মানিকগঞ্জ : অধিক মূল্যে সয়াবিন তেল বিক্রয়, অবৈধ মজুতদারি ও পণ্যের মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় ৫ দোকানদারকে ৩৭ হাজার টাকা জরিমানা করেন। মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালিত হয়। এর মধ্যে ফারুক অ্যান্ড সন্স স্টোরকে বিশ হাজার টাকা, হানিফ স্টোরকে দুই হাজার টাকা, অসীম কুমার স্টোরকে তিন হাজার টাকা, সাহা ব্রাদার্স স্টোরকে পাঁচ হাজার টাকা এবং সুমন স্টোরকে সাত হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

দেশের খবর

আপনার মতামত লিখুন :