শহীদ খানের একের পর এক মিথ্যাচার। এবার সংবিধান তৈরির মামা বাড়ীর আবদার

adminadmin
  প্রকাশিত হয়েছেঃ   12 January 2021

দুর্নীতি, জালিয়াতি, অর্থ পাচার এবং অন্যান্য অবৈধ ব্যবসা থেকে একজন সাধারণ আর্মি অফিসার কি করে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন তার এক অনন্য উদাহরন সেনাবাহিনী থেকে চাকুরী চ্যাুত লেঃ কর্নেল (অব) শহিদ উদ্দিন খান।

সম্প্রতি ফেসবুক, ইউটিউব সহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশে অস্ত্র মামলায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড প্রাপ্ত ও আয়কর ফাঁকির মামলায় নয় বছরের দন্ড প্রাপ্ত আসামী লেঃ কর্নেল (অব)শহিদ উদ্দিন খান, লন্ডনে পলাতক থেকে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে লাইভ এসে নতুন সংবিধান তৈরির দাবী তুলেন। তাছাড়া বাংলাদেশের সংবিধান নিয়ে নানা ধরনের কুরুচির পুর্ন মন্তব্য করেন, তিনি কি জানেন সংবিধান কি ??

সংবিধান হল- কোন শাসনব্যবস্থার মূল গ্রন্থ যাতে স্বায়ত্তশাসিত কোন রাজনৈতিক সত্তার কর্তব্য নির্ধারণের মৌলিক নিয়ম ও সূত্রসমূহ লিপিবদ্ধ থাকে।কোন দেশের ক্ষেত্রে এই শব্দ সেই দেশের জাতীয় সংবিধানকে বোঝায় যা রাজনৈতিক মৌলিক নিয়ম ও সরকারের পরিকাঠামো, পদ্ধতি, ক্ষমতা ও কর্তব্যকে প্রতিস্থাপিত করে।

দেশ থেকে রাতের আধারে পলাতক কয়েকজন জামায়ত-শিবিরের, বিএনপি র ঘনিষ্ঠ কয়েকজন কথিত সাংবাদিকের সাথে লাইভে এসে সাজাপ্রাপ্ত চাকরিচ্যাতু শহীদ খান বাংলাদেশ এর জন্য নতুন সংবিধান তৈরির করে দেশ পরিচালনার কাল্পনিক গালগল্প করে সাধারন মানুষ কে বিভ্রান্ত করছে।

এর আগে ভুয়া পিএইচডি ডিগ্রী অর্জনের খবর ফলাও করে প্রচার করছিলো এই শহীদ খান।যদিও এমন কোন পিএইচডি ডিগ্রি নেয়ার কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। কোন বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে বা কোন প্রফেসার এর অধীনে তিনি এমন ডিগ্রি অর্জন করেছেন তার কোন তথ্য তিনি বা তার ঘনিষ্ঠ কেউ জানাতে পারেননি।তার লাইভে সাক্ষাতকার নেয়া কথিত সাংবাদিক ও ভুয়া পিএইচডি ধারী বলে সংশ্লিষ্টরা জানায়।

তার বিরুদ্ধে সরোজমিন অনুসন্ধানে প্রাপ্ত কিছু তথ্য মধ্যে অন্যতম ২০০১ সালের নির্বাচনকালীন সময়ে বিএনপি দলীয় নেতা কর্নেল অলি আহমেদের নির্দেশ ও তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সালাউদ্দিন আহমেদের যোগসাজশে আওয়ামী লীগের ঘায়েল করে যেকোন মূল্যে বিজয়ী করার নীলনকশা প্রণয়ন করা । এ প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট ব্রিগেড কমান্ডারের পূর্ব অনুমতি ব্যতিরেকে উক্ত নির্বাচনী এলাকা হতে তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ পরিচালনা করেন এবং বিভিন্ন অস্ত্র মামলায় এরেস্ট দেখিয়ে হেনস্থা করেন। উক্ত সেনা কর্মকর্তা নিয়ম ভঙ্গ করে নির্বাচনের দিন বিভিন্ন মিডিয়ায় সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। পরবর্তীতে ২০০২ তারিখে জাতিসংঘ মিশনে মনস্কো কঙ্গোতে গমন করেন। মাত্র দুই মাস পর দেশের ছুটিতে আসেন এবং মিথ্যা শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে মিশন হতে নাম প্রত্যাহার করান।

এছাড়া শহিদ ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড সন্ত্রাসী পরেশ বড়ুয়ার সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের পেছনে অর্থলগ্নি করার মতো অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক অস্ত্র পাচারকারী সংগঠনের মূল হোতা দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে অস্ত্র ব্যবসায় প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছেন শহিদ উদ্দিন খান। শহিদ পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর সঙ্গে আঁতাত করে ভারতে জাল টাকার বাণিজ্যের সঙ্গেও জড়িত। আজ থেকে ১৫ বছর পূর্বে মাদক চোরাচালানসহ একাধিক নৈতিক স্খলনজনিত অভিযোগের কারণে তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলসে (বর্তমানে বিজিবি) প্রেষণে দায়িত্ব পালনকারী লেঃ (অবাঞ্ছিত) মোঃ শহীদ উদ্দিন খানকে বরখাস্ত করা হয়।
তাছাড়া তিনি অনেক নারী কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত ছিলেন, তাকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মেয়ের সাথে দেখা যেত, সে রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ করে বিদেশে পালিয়ে স্ত্রী-কন্যা নিয়ে বিলাসী জীবন যাপন করছে। অনলাইনে দেশের সেনাবাহিনী ও বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে লাগামহীন অপপ্রচার চালাচ্ছে। তার পুরো পরিবারটিই একটি জালিয়াত চক্র। তার স্ত্রী-কন্যারা চেক জালিয়াতির মামলায় আদালত কর্তৃক দন্ডপ্রাপ্ত।

এদেশের মানুষ এইসব বেইমান ও রাষ্ট্রদ্রোহী ব্যক্তিকে কখনোই ক্ষমা করবে না ।বিদেশ থেকে এইসব ঘৃণিত ব্যক্তি দের ধরে এনে দেশের মাটিতে বিচারের ব্যবস্থা করা হোক ,এদের দ্বারা আমাদের দেশের প্রতিনিয়ত ক্ষতি সাধন হবে, তাই সময় ক্ষেপণ না করে এখনি সবাই মিলে এইসব বেঈমানদের ষড়যন্ত্রকে রুখে দিতে হবে যাতে র কখনো কোন মানুষ নিজের দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার সাহস না পায়।

দেশের খবর

আপনার মতামত লিখুন :