বিএনপির তহবিল আত্মসাৎ

adminadmin
  প্রকাশিত হয়েছেঃ   15 December 2020

নিউজ ডেস্ক: বিএনপির কেন্দ্রীয় ফান্ডের ৩২ কোটি টাকার হিসেব নেই। দলের দু:সময়ে সংগঠন পরিচালনার জন্য যখন টাকা প্রয়োজন, তখন খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ৩২ কোটি টাকা নয় ছয় হয়েছে। ২০১৪ থেকে ২০১৮র মধ্যে এই টাকা সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এই টাকা কে, কিভাবে, কখন খরচ করেছে, সে সম্পর্কে কোন কাগজপত্রও নেই। নানা বিতর্কে জর্জরিত বিএনপিতে এখন এই তহবিল তসরুফ নিয়ে নতুন বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।

বিএনপি পরিচালনার জন্য যে অর্থ সংগ্রহ করা হয় তা কখনোই নিয়মনীতির মধ্যে ব্যয় করা হতো না। দলে একজন কোষাধক্ষ্য থাকলেও এই অর্থ ব্যয় করার একক ক্ষমতা ছিলো দলীয় চেয়ারপারসনের। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দলের মহাসচিবও কিছু অর্থ ব্যয় করতেন। কিন্তু ২০০১ সালের নির্বাচনের সময় দলীয় তহবিল পুরোটাই তারেকের দখলে চলে যায়।

ওয়ান ইলেভেনের সময় তারেক গ্রেপ্তার হবার পর দল অর্থ সংকটে পরে। প্যারোলে মুক্ত হয়ে তারেক লন্ডনে চলে গেলে, বিএনপি তহবিল শুন্য হয়ে পড়ে। এরপর বিএনপির টাকা পয়সার কর্তৃত্ব পান আবদুল আউয়াল মিন্টু। মিন্টু দলীয় ফান্ড ব্যবহারে এক নিয়ম তৈরী করেন। একটি হিসাব খাতা তৈরী করেন। যেখানে আয়-ব্যয় লেখা থাকতো। একাউন্টের মাধ্যমে পরিচালনার বাধ্য বাধকতা থাকলেও, বিএনপির অধিকাংশ ব্যয়ই নির্বাহ করা হয় নগদ টাকায়। আর একারণেই মিন্টু আয় ব্যায়ের একটি হিসাব খাতা খুলেছিলেন। কিন্তু ২০১৪ তে মিন্টু আত্মগোপনে গেলে দলের ব্যয় নির্বাহের দায়িত্ব পান, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর আর দলের তহবিল বুঝে নেননি, মিন্টু।

২০১৮র নির্বাচনের আগে, স্থায়ী কমিটির বৈঠকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য ১০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করার প্রস্তাব করেন। কিন্তু নির্বাচনের আগে ৬৭ কোটি টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব হয় বলে, দলের মহাসচিব স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে জানান। এখন দলের তহবিল পরিচালনার জন্য আবদুল আউয়াল মিন্টুর পুত্র তাবিথ আউয়ালকে দায়িত্ব দেয়া হয়। লন্ডন থেকে তারেক জিয়া এই নির্দেশ দেন। তাবিথকে তহবিল বুঝিয়ে দিতে গিয়েই দেখা যায় ৩২ কোটি টাকার হিসাব নেই। মির্জা ফখরুল দাবী করেছেন, এই টাকা তারেক জিয়ার কাছে। অন্যদিকে তারেক বলেছেন, দলের ফান্ডের টাকা তার কাছে থাকার কোন কারণ নেই। তাই কে চোর এনিয়ে বিএনপিতে চলছে তোলপাড়।

আপনার মতামত লিখুন :