ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় ৪ মাদ্রাসা ছাত্র আটক

adminadmin
  প্রকাশিত হয়েছেঃ   07 December 2020

নিউজ ডেস্ক: কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুরের ঘটনায় মাদ্রাসার চার ছাত্রকে আটক করা হয়েছে। রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ওই ঘটনায় আমরা ইতোমধ্যে চারজনকে ধরেছি। তাদের দুজন জড়িত ছিল এবং তাদের কথামতো আরও দুজনকে আটক করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তৎপর রয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘কুষ্টিয়ায় যে ঘটনাটি ঘটেছে তা আপনারা জানেন। পৌরসভা চত্বরে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপন করছিল পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। হঠাৎ করে দেখা গেল গভীর রাতে এসে…। ভিডিও ফুটেজে দুই জনকে দেখা গেছে। তারা দুইজন হাতুরি দিয়ে ভেঙেছে।’

আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘ভাঙচুরকারীরা ইবনে মাসউদ মাদ্রাসা থেকে বেরিয়ে এসে এ কাণ্ড ঘটিয়েছে। একজনের নাম আবু বকর, আরেকজনের নাম নাহিদ। তাদের বয়স বেশি না। তাদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে আরও দুই ছাত্রকে আটক করা হয়েছে। তাদের নাম আলামিন ও ইউসুফ।’

গত শুক্রবার (৪ ডিসেম্বর) রাতের কোনো এক সময়ে কুষ্টিয়া পৌরসভার পাঁচ রাস্তার মোড়ে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের ডান হাত, পুরো মুখ ও বাম হাতের অংশবিশেষ ভেঙে ফেলা হয়। ঢাকার দোলাইরপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনে হেফাজতে ইসলামের বিরোধিতার মধ্যেই এ ঘটনা ঘটলো।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ওই ঘটনায় তদন্ত চলছে। তদন্তে যাদের নাম বেড়িয়ে আসবে, তাদের নামেই মামলা হবে। বিভিন্ন দেশের উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘মুসলিম সভ্যতার যুগে, আলবেরুনি বলেন, ইবনে বতুতা বলেন, তাদের ভাস্কর্য বিভিন্ন জায়গায় শোভা পাচ্ছে। সেগুলো কেউ ভাঙছে না। আমরা বলছি, ভাস্কর্য মানেই পূজা নয়; ভাস্কর্য মানেই তাকে ধরে রাখা। তার যে অবদান দেশের প্রতি, জাতির প্রতি, সেটাকে হৃদয় দিয়ে ধারণ করা।’

তিনি বলেন, ‘অনেক ইসলামিক দেশে মুদ্রার মধ্যে বাদশাহদের ছবি রয়েছে। সৌদির বাদশাহর ছবি রয়েছে, পাকিস্তানের কায়েদে আজমের ছবি রয়েছে, ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপ্রধানের ছবি রয়েছে। সেটা পকেটে নিয়ে আমরা ঘুরছি। অথচ একটি ভাস্কর্য প্রজন্মের পর প্রজন্ম সাক্ষী হয়ে থাকবে, সেটা আমরা ধ্বংস করতে চাইছি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তাদের যে বক্তব্য…ফেসবুকে আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন। আমরাও বিভিন্ন সময় দেখেছি। একজনের নাম বারবার চলে আসছে। তারই বক্তৃতা কিংবা তারই নির্দেশে এ ঘটনাগুলো ঘটছে। আমরা অনুসন্ধানের পর তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানাব। এখন পর্যন্ত তদন্ত চলছে, তাই আমি তার নামটি বলছি না। এই যে উসকানি দিচ্ছে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে বের করে নিয়ে আসছে। এটা নিশ্চয়ই কারও কাম্য নয়। আমরা অবশ্যই এটা দেখব।’

দেশের খবর

আপনার মতামত লিখুন :