বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বৈধতা দিয়েছিল বিএনপি!

adminadmin
  প্রকাশিত হয়েছেঃ   12 November 2020

নিউজ ডেস্ক: ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর থেকে ১৯৮১ সাল ছিলো বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম সবচেয়ে ভয়ানক সময়। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সুযোগের সদ্ব্যবহার করে ক্ষমতা দখল করেন সুযোগ সন্ধানী জিয়া। তাই ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে জিয়া মেতে ওঠেন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে। ১৯৭৬ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত জিয়ার অবৈধ শাসনামলে বিভিন্ন দল, মত ও বাহিনীর প্রায় ১১ হাজারের বেশি মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। জিয়ার অবৈধ শাসনামলের পর দেশে সবচেয়ে বেশি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে।

তথ্যসূত্র বলছে, ২০০১ সালের ১ অক্টোবর কারচুপির নির্বাচনে জয়ী হয়েই দেশব্যাপী বিরোধী দল ও মতের মানুষদের হত্যায় মেতে ওঠে বিএনপি-জামায়াত সরকার। ১৯৭৫-১৯৮১ সালের পর সবচেয়ে ভয়ানক সময় ছিল ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত। ক্ষমতায় আসার পর ক্রসফায়ারের নামে সারাদেশে শুরু করে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। ২০০২ সালে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ নামে দেশে প্রথমবারের মত শুরু হয় মানুষ হত্যার রাজনীতি। তারপর ২০০৪ সালে র‌্যাব গঠন করে তাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে তৎকালীন সরকার। ২০০৫ সালে ৩৭৭ এবং ২০০৬ সালে ৩৬২ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন। তখন ‘ক্রসফায়ার’ নামে পরিচিত এ হত্যাকাণ্ডের পক্ষে জোরালো অবস্থান ছিল বিএনপির।

ক্লিনহার্ট অভিযান শুরু করে বিরোধী মতকে দমন করার নতুন এক অপকৌশল বেছে নিয়েছিল খালেদা সরকার। এই অপারেশন ক্লিনহার্ট অভিযানে হত্যা করা হয় অসংখ্য বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিককে। ক্লিনহার্ট অভিযান সমাপ্তির পর নতুন মোড়কে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড শুরু করে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। ওই সময়ে অভিযানে যারা নিহত হতো, তাদের বলা হতো ‘ক্রসফায়ারে’ মারা গেছে। দেশ-বিদেশের মানবাধিকার সংস্থাসহ রাজনৈতিক মহল বিচার বহির্ভূত এসব হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোয় ক্রসফায়ার শব্দটির পরিবর্তে কিছুদিন ‘এনকাউন্টার’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়।

মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের তথ্যমতে, ২০০২-২০০৬ সাল পর্যন্ত মোট ১ হাজার ১৫৫ জন ব্যক্তিকে বিনাবিচারে হত্যা করে বিএনপি-জামায়াত সরকার। ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসেই প্রথমেই সংখ্যালঘু নিধন, ধর্ষণ, নির্যাতন, বাড়িঘর দখল ও তাদের দেশত্যাগে বাধ্য করে সরকার দলীয় ক্যাডাররা। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হত্যা, নির্যাতন, বাড়িঘরে আগুন দেয়া, দখল করে নেয়া, বাড়ি ছাড়া করাসহ নানা ধরনের অত্যাচার নির্যাতনের মাত্রা সর্বকালের সব রেকর্ড ভঙ্গ করে তৎকালীন সরকার।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার জাতীয় সংসদে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে দায়মুক্তি দেয়ার জন্য ‘ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স’ পাস করিয়ে নেয় এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনার প্রথম বৈধতা দেয়। ‘যৌথ অভিযান দায় মুক্তি আইন ২০০৩’ করে ন্যায় বিচার চাওয়ার রাস্তাও বন্ধ করে দিয়েছিল বিএনপি-জামায়াত সরকার। এছাড়া ক্লিনহার্ট অভিযানের সময় যৌথবাহিনীর ক্যাম্পে নিয়ে অমানুষিক নির্যাতনে নিহতদের বলা হতো ‘হার্টফেল’ করে মারা গেছে। অপারেশন ক্লিনহার্টে কমপক্ষে ৬০ জন নিহত হন এবং এসব হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার করেনি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার।

আপনার মতামত লিখুন :