সরকারবিরোধী নানা রকম প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে জামায়াত!

adminadmin
  প্রকাশিত হয়েছেঃ   12 November 2020

নিউজ ডেস্ক: ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগ ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণা দিয়েছিল। আওয়ামী লীগ তার নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছিল যে ক্ষমতায় আসলে তারা ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠন করবে। সে সময় অনেকেই এই বক্তব্যকে হাস্যকর এবং অলীক কল্পনা প্রসূত বলে মন্তব্য করেছিলেন। কিন্তু গত ১২ বছরে আওয়ামী লীগ যে কাজটি সবচেয়ে সফল ভাবে করতে পেরেছে তা হলো বাংলাদেশকে সত্যি সত্যি ডিজিটাল করা করেছে। আর এই ডিজিটাল বাংলাদেশের মূল ধারার গণমাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অনেক শক্তিশালী হয়ে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে একটা তথ্য ছড়িয়ে দিলেই তা ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে এবং মানুষের কাছে চলে যাচ্ছে। মানুষ এই তথ্যগুলো সত্য-মিথ্যা যাচাই করার চেয়ে, তা নিয়ে মুখরোচক আলোচনায় মশগুল থাকছেন।

মূলধারার গণমাধ্যম সংকুচিত হয়ে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব এখন, আমাদের সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় অনেক বেশি। আর এই সুযোগটি নিচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি জামায়াত ইসলাম। রাজনৈতিক মাঠে কোণঠাসা এবং অস্তিত্ব সংকটে থাকা জামায়াত ইসলাম এখন সরকারকে কাবু করতে এবং সরকারের বিরুদ্ধে সমালোচনার প্রধান অস্ত্র হিসেবে বেছে নিয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম।

লন্ডন এবং আমেরিকার থেকে কিছু ব্যক্তি নানারকম সাক্ষাৎকার, টেলি আলাপ এবং নানা রকম গুজব-গুঞ্জন ছরিয়ে দিচ্ছে। জামায়াতের লোকজন বিভিন্ন স্থান থেকে সে গুলোকে ভাইরাল করছে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে ব্যাপকভাবে। অনেক মানুষই বিশ্বাস করছে, অনেক মানুষকে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। আর এটির মাধ্যমে সরকারকে অস্থির করে তোলা, অস্বস্তিতে ফেলার যে কৌশল, সে কৌশলটি সফলভাবে প্রয়োগ করতে পেরেছে স্বাধীনতা বিরোধী রাজনৈতিক দলটি। আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন যে, আমরা বানালাম ডিজিটাল বাংলাদেশে, আর সকল সুবিধা ভোগ করছে জামাত।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং লন্ডনে জামায়াত নিয়ন্ত্রিত অন্তত ১২ টি প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি আছে। যারা ইউটিউবে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন কন্টেন্ট ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এই কনটেন্টগুলো সুস্পষ্টভাবে, আক্রমণাত্মক রাষ্ট্র এবং সরকার ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানানো হচ্ছে এই কন্টেন গুলোর মাধ্যমে । এই কনটেন্ট গুলো যখন বিদেশ থেকে আসছে সেগুলোকে সে গুলোকে আটকানোর সম্ভব হচ্ছেনা। মুহূর্তের মধ্যেই মানুষের মোবাইলে ছড়িয়ে পড়েছে।

গত কয়েক মাসে জামাতের এ ধরনের কিছু কনটেন্ট সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনা এবং তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে কয়েকজন অবাঞ্ছিত সেনা কর্মকর্তার সাক্ষাৎকার, কথোপকথন এবং টেলিআলাপ জনগণের মধ্যে নানারকম প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, যে সমস্ত ব্যক্তিরা এসব কনটেন্ট গুলো ছড়াচ্ছেন তারা সবাই এক সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে চাকরি করতেন। অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য তারা অভিযুক্ত হন, একপর্যায়ে তারা দেশ ত্যাগ করেন। এই দেশ ত্যাগ করে তারা সেখানে গিয়ে ইউটিউব চ্যানেল ফেসবুক ইত্যাদির মাধ্যমে সরকার বিরোধী প্রপাগান্ডার করছে। প্রথম থেকেই তারা করতেন।

গত কিছুদিন ধরে এটির পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা হচ্ছে জামাত শিবিরের পক্ষ থেকে। জামাত-শিবির একটা প্রোপাগান্ডাঃ স্কোয়াট তৈরি করছে। এসব প্রোপাগান্ডা স্কোয়াডে এ সমস্ত ব্যক্তিদের কে আর্থিক সহায়তা দেয়াসহ নানারকম এবং অসত্য তথ্য সরবরাহ করে সেটি ছড়িয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে যে, দেশের বাইরে থেকে এ ধরনের কনটেন্ট গুলো ইউটিউবে বা ফেসবুকে আপলোড হচ্ছে, সাথে সাথে বাংলাদেশ জামাত শিবিরের কর্মীরা এটিকে ভাইরাল করছে। ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিচ্ছে। জামাত এর উদ্যোগে এ সমস্ত কন্টেনগুলোকে বুস্ট করা হচ্ছে। অর্থাৎ ব্যাপক ভাবে প্রচারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যার ফলে ভাইরালগুলো সহজে মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে এবং মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে।

অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, জামাত একটি সুপরিকল্পিত নীল নকশার মাধ্যমে প্রপোগান্ডা স্কোয়াট চালু করেছে। অনেকেই মনে করছেন যে, রাজপথের আন্দোলনের চেয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ধরনের উস্কানি ছড়িয়ে দেয়া সরকারের জন্য অনেক অস্বস্তিকর। এটির ফলে সরকারের যে ক্ষতি হয় সেটি এখন রাজপথের আন্দোলন করে করা সম্ভব নয়। এর জন্যই এখন জামাত প্রোপাগান্ডা স্কোয়াডের মাধ্যমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দখল করে নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম খুললেই এখন সরকারবিরোধী নানা রকম তথ্য প্রোপাগান্ডা গুজব পাওয়া যাচ্ছে। সরকার যদি এখনই এসব ব্যাপারে উদ্যোগ না নেয় তাহলে জামায়াতের প্রোপাগান্ডায় স্কোয়াডের সামনের দিনগুলোর কর্মকাণ্ড আরো ভয়াবহ হবে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।

দেশের খবর

আপনার মতামত লিখুন :