logo
মঙ্গলবার , ৬ ডিসেম্বর ২০২২ | ২০শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ক্যারিয়ার ভাবনা
  5. খেলা
  6. জাতীয়
  7. টেক নিউজ
  8. দেশের খবর
  9. প্রবাস
  10. ফিচার
  11. বিনোদন
  12. রাজনীতি
  13. লাইফস্টাইল
  14. সম্পাদকীয়
  15. সাফল্য

১০ ডিসেম্বর ঘিরে জনমনে আতঙ্ক : রাজধানীর নিরাপত্তায় শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রস্তুত

প্রতিবেদক
admin
ডিসেম্বর ৬, ২০২২ ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ

আগামী ১০ ডিসেম্বর কী হবে, কী হচ্ছে— এমন প্রশ্ন চারদিকে। জনমনে সৃষ্টি হয়েছে আতঙ্ক। সারা দেশে ধারাবাহিক গণসমাবেশ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সবশেষ ঐ দিন ঢাকায় বিভাগীয় গণসমাবেশ ডেকেছে বিএনপি।

বলা হচ্ছে, কয়েক লাখ মানুষের সমাগম হবে এদিন। কেউ বলছে ১০ লাখ, কেউ বলছে ২০ লাখ নেতাকর্মী জমায়েত হবেন ঢাকায়। বিএনপি বলছে, যে কোনো মূল্যে রাজধানীতে সমাবেশ করবে তারা। নয়াপল্টনে অনুমতি না পেয়ে গতকাল দলটি আরামবাগে সমাবেশের জন্য অনুমতি চেয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা বলেন, সমাবেশ করতে বাধা নেই। যেখানে অনুমতি দেওয়া হবে সেখানে সমাবেশ করতে হবে। বিএনপির সমাবেশ ঘিরে যাতে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য রাজধানী ঢাকার নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি থাকবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঢাকা শহরের প্রত্যেকটি প্রবেশ পথ, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, কূটনৈতিক পাড়াসহ সব স্তরে সতর্ক পাহারায় থাকবেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। গোয়েন্দা সংস্থা সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছেন।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সমাবেশ করতে কোনো বাধা নেই। বাধা দেব না। তবে আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপিকে যেখানে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, সেখানেই তারা সমাবেশ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আইজিপি বলেন, জনগণের যাতে কোনো ধরনের দুর্ভোগ না হয় এবং নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনা করেই তাদের বড় জায়গা দেওয়া হয়েছে। আইজিপি বলেন, সমাবেশকে কেন্দ্র করে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে, গাড়ি ভাঙচুর কিংবা আগুন-সন্ত্রাস করা হলে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। বিশৃঙ্খলা রুখে দিতে তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই জন্য যা যা করার তাই করবে পুলিশ। 

র‍্যাবের মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন জানান, আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশ নিয়ে মানুষের মধ্যে একটা আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভীতকর অবস্থা বিরাজ করছে। সম্প্রতি বিএনপি নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট যে, হয়তো তাদের ভেতরে ভিন্ন মতলব থাকতে পারে। তবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করা হলে র‍্যাব কোনো অবস্থাতেই বসে থাকবে না। মানুষের জানমাল নিরাপত্তার স্বার্থে পরিস্থিতি মোকাবিলায় যা দরকার তাই করব। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে র‍্যাব।

রাজধানীতে মাঠ ছাড়া রাস্তাঘাটে সমাবেশ করার অনুমতি বিএনপি পাবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক। আগামী ১০ ডিসেম্বর বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সমাবেশ সামনে রেখে সমাবেশস্থল নির্ধারণ বিষয়ে গতকাল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বিএনপির সমাবেশের জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কারণ আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে উদ্যানটি নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বেশি নিরাপদ। আমরা বিএনপিকে অনুরোধ করেছি, ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে করার জন্য। সমাবেশকে কেন্দ্র করে যত ধরনের নিরাপত্তা সহযোগিতা করার দরকার সব পদক্ষেপ আমরা নেব।

এদিকে সমাবেশ ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় র‍্যাবের সঙ্গে থাকছে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, স্পেশাল ফোর্স, স্পেশাল ডগ স্কোয়াড ও হেলিকপ্টার ইউনিট। নাশকতার পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, সেজন্য সাদা পোশাকে থাকবে র‍্যাবের গোয়েন্দা সদস্যরা। সোমবার দুপুরে রাজধানীর কাওরান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন র‍্যাব সদর দপ্তরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

এর আগে রবিবার বিকালে সমাবেশের ভেন্যুর বিষয়ে আলোচনা করতে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করে। ঐ বৈঠক শেষে ডিএমপির সদরদপ্তরের প্রধান ফটকের সামনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান বলেছিলেন, আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি নয়াপল্টনে সমাবেশ করব। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে আমাদের একাধিক বার আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে পুলিশ আমাদের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি দিয়ে চিঠি দিয়েছে।

র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশ সম্পর্কে বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে সুষ্ঠু-স্বাভাবিক রাজনৈতিক অবস্থা বিরাজ করছে। সরকারি ও বিরোধীদল পালন করছে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি। ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু স্থাপনা রয়েছে। কেপিআইভুক্ত প্রতিষ্ঠান রয়েছে, বিদেশি স্থাপনা ও অ্যাম্বাসি রয়েছে। ঢাকা শহরের নিরাপত্তার ব্যাপারে আমরা সবসময় সচেষ্ট রয়েছি। দেশীয় ভাবমূর্তি রক্ষা, বিদেশিদের কাছে যেন দেশীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন না হয় সচেষ্ট রয়েছি। বিএনপির জনসমাবেশ ঘিরে র‍্যাবের পক্ষ থেকে রুটিন প্যাট্রল থাকবে, চেকপোস্ট থাকবে, সাইবার ওয়ার্ল্ডে আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে। যাতে কোনো ধরনের উসকানিমূলক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে নাশকতার চেষ্টা না হয়।

সর্বশেষ - রাজনীতি