দক্ষিণ আফ্রিকায় ৩ বাংলাদেশি খুন


  প্রকাশিত হয়েছেঃ   29 January 2019

দক্ষিণ আফ্রিকায় ৩ বাংলাদেশি খুন হয়েছেন। তারা হলেন- ফেনীর মোহাম্মদ শাহপরাণ (৪২), নোয়াখালীর কবিরহাটের মোহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল (৪৯) ও মাদারীপুরের শিবচরের সিরাজুল ইসলাম মোল্লা (৪০)। নিহতদের পরিবারে নেমে এসেছে শোক।

ফেনী : মোহাম্মদ শাহপরাণ দক্ষিণ আফ্রিকায় কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। তিনি মধ্যম চাড়িপুর এলাকার ফাতেমা ভূঁইয়া বাড়ির এয়ার আহমদ ভূঁইয়ার ছেলে। রোববার রোতে জুলু নাটাল প্রভিন্সের পিটা মেরিজবার্গ শহরে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের ছোট ভাই আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া জানান, প্রায় ১৩ বছর আগে তার ভাই দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। পিটা মেরিজবার্গ শহরে বাংলাদেশি সুপার মার্কেটে তিনটি দোকান চালাতেন তিনি। রোববার বিকালে দোকানের ক্যাশ কাউন্টারে মালামালের দরদামকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এক কৃষ্ণাঙ্গের সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই কৃষ্ণাঙ্গ তার ভাইকে ছুরিকাঘাত করে। এ সময় শহপরাণ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার সংসারে স্ত্রী ও দুই ছেলেমেয়ে রয়েছে। লাশ দ্রুত দেশে ফেরত আনতে সরকারের সহযোগিতা চেয়েছেন তারা।

কোম্পানীগঞ্জ (নোয়াখালী) : কবিরহাটের ইব্রাহিম খলিল দক্ষিণ আফ্রিকার নর্থ ওয়েস্ট প্রভিন্সের অট্টস্যাডেল এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলি ও ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন। তিনি করিবহাট উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের নূর সোনাপুর গ্রামের কেরামত আলী মিয়াজী বাড়ির মৃত আবুল খায়েরের ছেলে। তিনি এক ছেলে ও দুই মেয়ের জনক।

ছোট ভাই মো. মাঈন উদ্দিন জানান, রোববার রাত ১২টার দিকে তার নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিলেন ইব্রাহিম খলিল। এ সময় দোকানের পেছনের দরজা দিয়ে কয়েকজন সন্ত্রাসী প্রবেশ করে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও কয়েক রাউন্ড গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয় লোকজন ইব্রাহিমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। ইব্রাহিমের মৃত্যুর খবর গ্রামের বাড়িতে পৌঁছলে হৃদয়বিদারক পরিবেশ সৃষ্টি হয়। লাশ দ্রুত ফেরতে সরকারের সহাযোগিতা চেয়েছে পরিবার।

শিবচর (মাদারীপুর) : দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত বাংলাদেশি ব্যবসায়ীর নাম সিরাজুল ইসলাম মোল্লা (৩০)। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।

তার বাড়ি মাদারীপুরের শিবচরের সন্ন্যাসীরচর গ্রামে। বাবার মৃত্যুর ১ মাস না পেরোতেই তাকে জীবন দিতে হল। ২৫ জানুয়ারি রাতে সিরাজুল ইসলাম দেশটির টেম্বিসা অকমো এলাকায় দোকান থেকে বাড়ি ফিরছিলেন।

পথে একদল সন্ত্রাসী তাকে বহনকারী গাড়ির গতিরোধ করে। এসময় গাড়ি থেকে নামতে অসম্মতি জানালে সন্ত্রাসীরা তাকে গুলি করে। পরিবারের দাবি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সরকার যেন সিরাজুল ইসলামকে দেশে ফিরিয়ে আনে।

দেশের খবর

আপনার মতামত লিখুন :