খুলছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে


admin প্রকাশের সময় : অগাস্ট ৩১, ২০২৩, ১০:০৮ পূর্বাহ্ন | 668
খুলছে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

অবশেষে খুলছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ১১ কিলোমিটার বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট। ২ সেপ্টেম্বর শনিবার যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর উদ্বোধন করবেন। তবে বাকি অংশের (তেজগাঁও-কুতুবখালী) জন্য অপেক্ষা করতে হবে আগামী বছর পর্যন্ত। এ উড়ালপথে গাড়ি চলবে অন্তত ৮০ কিলোমিটার গতিতে। প্রকল্পের পুরোটা চালু হলে দিনে অন্তত ৮০ হাজার যানবাহন চলাচল করবে নির্বিঘ্নে। ২৪ কিলোমিটার উড়ালপথে থাকবে না কোনো ট্রাফিক সিগন্যাল। এতে বদলে যাবে ঢাকার দৃশ্যপট। যানজট কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে এ প্রকল্প বলে মনে করেন সেতু বিভাগের সচিব মো. মনজুর হোসেন। তিনি বলেন, এটি এমন একটি প্রকল্প যা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের ভিত্তিতে (পিপিপি) বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য যানজট নিরসন। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি কুতুবখালী হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ে প্রবেশ করবে গাড়ি, এতে কমবে ভ্রমণের সময় ও খরচ।

জানা গেছে, ২ সেপ্টেম্বর এ প্রকল্প উদ্বোধনের দিনক্ষণ ঠিক করা হয়েছে। উদ্বোধনের পর ওইদিন ঢাকা মহানগরী উত্তর আওয়ামী লীগ এক সুধীসমাবেশের আয়োজন করবে বলে জানা গেছে। এদিকে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিমানবন্দর-তেজগাঁও অংশের নির্মাণকাজ প্রায় শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে। এখন শেষ মুহূর্তের ঘষামাজা, রং ও ট্রাফিক মার্কিংয়ের কাজ চলছে। প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিমানবন্দর থেকে তেজগাঁও অংশ যান চলাচলের জন্য প্রস্তুত। এ ছাড়া বাকি অংশ তেজগাঁও-কুতুবখালীর কাজও এগিয়ে চলছে পুরোদমে। এ প্রকল্প চালু হলে ঢাকা ও চট্টগ্রামে খাদ্যসহ অন্যান্য পণ্য পরিবহন খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে মনে করেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা। যার একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে। সেতু বিভাগের তথ্যমতে, বিমানবন্দর থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত ৪৬ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার (র‌্যাম্পসহ) প্রকল্প নেওয়া হয় তিন ভাগে। এর মধ্যে মূল উড়ালসড়কের দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণ, নকশা বদল, অর্থের সংস্থানসহ নানা জটিলতায় চারবার পিছিয়ে দেওয়া হয় নির্মাণকাজ শেষ করার সময়সীমা। প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যয় বাড়লেও প্রকল্পটি সমাপ্ত হতে যাচ্ছে, এটা একটা স্বস্তির বিষয়। তবে সময় বৃদ্ধির কারণে যে ব্যয় বেড়েছে এতে সরকারের অর্থেরও অপচয় হয়েছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে চট্টগ্রাম, সিলেটসহ পূর্বাঞ্চল ও পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যানবাহন ঢাকায় না ঢুকে সরাসরি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে প্রবেশ করবে। আবার উত্তরাঞ্চল থেকে আসা যানবাহনগুলোও ঢাকাকে পাশ কাটিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সরাসরি যাতায়াত করতে পারবে। ফলে ঢাকা ও পাশের এলাকার যানজট কমবে। কমবে ভ্রমণের সময়, খরচ। মেগা সিটি ঢাকার সঙ্গে অন্যান্য জেলার যোগাযোগব্যবস্থার সহজীকরণ ও আধুনিকায়নের পাশাপাশি এ প্রকল্প দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে। জানা গেছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে টোল দিয়ে চলাচল করবে সব ধরনের যানবাহন। ইতোমধ্যে এ পথে চলাচলের জন্য যানবাহনের টোল নির্ধারণ করা হয়েছে। একটি কার, ট্যাক্সি, জিপ, এসইউভি, মাইক্রোবাস (১৬ আসনের নিচে) এবং হালকা ট্রাক (৩ টনের নিচে) ৮০ টাকা, মাঝারি আকারের ট্রাক (ছয় চাকা পর্যন্ত) ৩২০ টাকা, ট্রাক (ছয় চাকার বেশি) ৪০০ টাকা এবং সব ধরনের বাসকে (১৬ আসন এবং তার বেশি) এক্সপ্রেসওয়েতে টোল হিসেবে ১৬০ টাকা হারে পরিশোধ করতে হবে। এলাকাবাসী, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ও বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্মাণ শুরুর প্রায় ১২ বছর পর অবশেষে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হচ্ছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একাংশ (বিমানবন্দর থেকে বনানী)। যদিও এ প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছিল পাঁচ বছর। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১১-এর জুলাই থেকে ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে। ১২ বছরে এ প্রকল্প সংশোধন হয়েছে পাঁচবার। ব্যয় বেড়েছে প্রায় সাড়ে চার গুণ। শুরুতে ২০১১ সালে ব্যয় ধরা হয় ৩ হাজার ২১৬ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। সবশেষ মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত। আর এতে ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা।