logo
Thursday , 24 August 2023
  1. সকল নিউজ

যশোর থেকে ঢাকা রেলপথ নির্মাণ শেষ পর্যায়ে

প্রতিবেদক
admin
August 24, 2023 9:45 am

এবার বেনাপোল থেকে ঢাকায় যেতে সময় লাগবে মাত্র দুই ঘণ্টা। আর ঢাকা থেকে বেনাপোল হয়ে কলকাতায় যাওয়া যাবে পাঁচ ঘণ্টায়। ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত একশ’ ৭২ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণের কাজ শেষ হলে এই সুযোগ সৃষ্টি হবে। ’২৪ সালের শেষের দিকে এই রেলপথ প্রকল্প নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রকল্পে ব্যয় করা হচ্ছে ৪১ হাজার কোটি টাকা। চীন এবং বাংলাদেশের যৌথ অর্থায়নে আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে দ্রুত গতিতে চলছে রেললাইন স্থাপন প্রকল্পের কাজ। এ প্রকল্পটি শেষ হলে শুধু রাজধানী ঢকা নয়, পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সঙ্গেও যোগাযোগের দ্বিমুখী ব্যবহার আর এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

একই সঙ্গে রেল পরিষেবায় আসবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় এক কোটি মানুষ। এতে সবচেয়ে উপকৃত হবেন এ অঞ্চলের প্রান্তিক পর্যায়ের চাষিরা। তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য সরাসরি এবং দ্রুততার সঙ্গে পৌঁছে যাবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভোক্তাদের কাছে। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির ওপর ভর করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ঘুরে দাঁড়াবে এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
জানা গেছে, ২০১৬ সালের ১ জানুয়ারি এই রেল প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়, যা ২০২৪ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এই প্রকল্পে ব্যয় করা হচ্ছে ৪১ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ২১ হাজার কোটি টাকা চীন এবং ২০ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকার বিনিয়োাগ করেছে। চীনের রেলওয়ে গ্রুপ লিমিটেড নামক একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই কাজে নিয়োজিত আছে। বিদেশী ঠিকাদার আর দেশীয় দক্ষ শ্রমিকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধায়নে ইতোমধ্যে এই রেল প্রকল্পের কাজ প্রায় ৭০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে উপশাখা হিসেবে ব্যবহৃত হবে এই রুটটি।

রেলপথটি নির্মাণের কর্মযজ্ঞ চলছে দিন-রাত। এখন অনেকটা দৃশ্যমান যশোর ঢাকা রেলপথ। রেলপথ যশোর অংশের রুপদিয়া স্টেশনের কাজ শেষ হয়েছে ৮০ শতাংশ। যশোর থেকে ভাঙা পর্যন্ত ১০টি স্টেশন নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। কাজের মান বজায় রাখতে সার্বক্ষণিক কাজের স্থানগুলোতে বিভিন্ন তদারকি চলছে। মান নিয়ন্ত্রণে উন্নতমানের যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। নড়াইল অংশের চিত্রা নদীর ওপর ছোট-বড় ব্রিজ নির্মাণকাজও এখন দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। ঢাকা থেকে যশোর এই একশ’ ৭২ কিলোমিটারজুড়ে চলছে এই রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের কাজ। এতে মোট রেলওয়ে স্টেশন থাকবে ২০টি। এর মধ্যে ১৪টি রেলওয়ে স্টেশন নতুন করা হচ্ছে। ব্রডগেজ রেললাইনে ৬৬টি বড় সেতু ও ২৪৪টি ছোট সেতু নির্মাণ করতে হচ্ছে। রেলওয়েতে গেট ক্রসিং থাকবে ৩০টি।

নির্ধারিত সময়ের আগে নির্মাণকাজ শেষ করার আশা করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। প্রকল্প সূত্র বলছে, যশোর-ঢাকা রেল সংযোগ নয়টি জেলার ওপর দিয়ে যাবে। ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ভাঙ্গা, নগরকান্দা, মোকসেদপুর, কাশিয়ানী, লোহাগড়া, নড়াইল ও জামদিয়া হয়ে যশোরের রূপদিয়ার রেললাইনে এসে মিশবে। এর মধ্যে ভাঙ্গা, কাশিয়ানী ও যশোরের পদ্ম বিলায়ে রেলওয়ে জংশন হবে। এ ছাড়া রেললাইনের সুবিধা পাবে খুলনা ঢাকা রুটের যাত্রীরাও। একই সঙ্গে ঢাকা থেকে যশোর এসে আবার বেনাপোল থেকে সরাসরি রেলপথে কলকাতায় যাওয়া যাবে খুব সহজে। এ ক্ষেত্রে কলকাতায় যেতে সময় লাগবে মাত্র পাঁচ ঘণ্টা। প্রতিবছর বেনাপোল হয়ে সড়কপথে ভারতে যায় প্রায় ২০ লাখ যাত্রী।

এসব যাত্রী রেলপথ ব্যবহার করতে পারবেন। এতে সময় ও খরচ সাশ্রয় হবে তাদের। বর্তমানে ঢাকা থেকে যমুনা সেতু হয়ে এই অঞ্চলের অল্প সংখ্যক মানুষ রেলে করে যশোর ও খুলনায় আসেন। তবে পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর রেলপথে যাত্রী যাতায়াত কমে গেছে। ঢাকা থেকে যশোর পর্যন্ত রেলপথ প্রকল্পের কাজ শেষ হলে তখন আর যাত্রীরা যমুনা সেতু হয়ে যশোর-খুলনা যাতায়াত করবে না বলে মনে করছেন অনেকেই। এ ক্ষেত্রে তারা যশোর-ঢাকা রেলপথ ব্যবহার করবেন।
জানা গেছে, স্বপ্নের পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতে যেমন সুবিধা হয়েছে, তেমনি এই রেলপথ চালু হলে এই অঞ্চলের মানুষ আরও সুবিধা ভোগ করবেন। এতে করে বদলে যাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র। কারণ এ অঞ্চলের প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ কৃষি পেশার ওপর নির্ভরশীল। শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, এ রেল সংযোগ বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও আমূল পরিবর্তন আনবে বলে আশাবাদী ব্যবসায়ীরা। এ ক্ষেত্রে খরচ কমে আসবে এক-তৃতীয়াংশে। সড়ক পথের পর রেলপথে রাজধানীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন হওয়ায় খুশির জোয়ার বইছে সাধারণ মানুষের মাঝে। বিশেষ করে স্বাধীনতা পরবর্তী ৫০ বছরের পর রেল সুবিধা পেতে যাচ্ছে নড়াইলবাসী। পদ্মা সেতু হয়ে যশোর-ঢাকা রেললাইন চালু হলে রেল পরিষেবায় আসবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় এক কোটি মানুষ। এতে সবচেয়ে উপকৃত হবেন এই অঞ্চলের প্রান্তিক চাষিরা।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ রেলওয়ের একজন ঊর্ধ্বতন দায়ীত্বশীল কর্মকর্তা জানান, পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্প চালুর পর ঢাকা থেকে যশোর হয়ে কলকাতার সঙ্গে যোগাযোগে অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটবে। এখন ঢাকা থেকে যমুনা সেতু হয়ে যশোর, আবার যশোর থেকে বেনাপোল হয়ে কলকাতায় যেতে  প্রায় ১২ ঘণ্টা সময় লাগে। এই রেলপথ চালু হলে কলকাতায় যেতে সময় লাগবে মাত্র পাঁচ ঘণ্টা। অর্থাৎ সময় কমবে প্রায় সাত ঘণ্টা। তিনি আরও জানান, ঢাকা থেকে দর্শনা হয়ে মৈত্রী এক্সপ্রেস নামে একটি ট্রেন কলকাতায় যাতায়াত করে। এ ছাড়া খুলনা থেকে বেনাপোল হয়ে বন্ধন এক্সপ্রেস নামের অপর আরেকটি ট্রেন যায়। দীর্ঘ এ পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে অন্তত ১২ ঘণ্টা। এ ক্ষেত্রে যশোর-ঢাকা রেলপথ চালু হলে ঢাকা থেকে কলকাতা যাওয়ার সময় দুই-তৃতীয়াংশ কমে আসবে। অন্যদিকে, রেলপথে কলকাতা থেকে আগরতলা যেতে সময় লাগে ৩০ ঘণ্টারও বেশি। সেই সময়ও কমে আসতে পারে প্রায় আট ঘণ্টায়।
এদিকে পদ্মা সেতু চালুর পর বেনাপোল ও সাতক্ষীরার ভোমরা বন্দর দিয়ে ভারতের সঙ্গে আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্য আরও বেড়েছে। কলকাতা থেকে সড়কপথে ট্রাকে করে বেনাপোল বন্দরে পণ্য আমদানির পাশাপাশি রেল কার্গোতে বেনাপোলে পণ্য আসছে। এ ক্ষেত্রে যশোর-ঢাকা রেলপথ চালু হলে ভারতের সঙ্গে আমদানির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।
এ প্রসঙ্গে পদ্মা সেতু রেল লিংক প্রকল্পের স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার, ইউসুফ বিন আজিজ বলেন, এখন পর্যন্ত ৭৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। আমাদের প্রকল্পের যে মেয়াদকাল রয়েছে, এ সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ কাজের গুণগত মান বজায় রেখে কাজটি দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করাই আমাদের লক্ষ্য।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক সহসভাপতি, এ এস এম হুমায়ুন কবীর কবু জানান, ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত যে রেললাইনের কাজ চলছে তা সম্পন্ন হলে এ অঞ্চলের মানুষ বিশাল উপকৃত হবে। বিশেষ করে যশোর-খুলনার মানুষ সবচেয়ে বেশি সুবিধা ভোগ করবে।
নড়াইল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি হাসানউজ্জামান জানান, রেল প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটবে। পাশাপাশি এই অঞ্চলের উৎপাদিত কৃষিপণ্য খুব সহজে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

সর্বশেষ - সকল নিউজ

আপনার জন্য নির্বাচিত

মেডিক্যাল প্রশ্নফাঁস চক্রে ১৪ চিকিৎসক, বিপুল সম্পদের খোঁজ

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে জাতিসংঘ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর ৫ দফা প্রস্তাব

নির্বাচন নিয়ে চক্রান্ত করছে বিএনপি ও জামায়াত : নানক

৮০ ইউপি, পৌরসভা ও উপজেলায় ভোট ২৭ জুলাই

রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়েছে বিএনপি

নতুন জঙ্গি সংগঠনের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী গ্রেফতার: সিটিটিসি

সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে সামরিক বাহিনীকে সবসময় প্রস্তুত থাকতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

আমি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব আমার: শেখ হাসিনা

ভাষা আন্দোলন দমাতে বঙ্গবন্ধুকে কারান্তরীণ রাখা হয় : সজীব ওয়াজেদ

পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করেছেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট: রিপোর্ট