logo
Sunday , 29 January 2023
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ক্যারিয়ার ভাবনা
  5. খেলা
  6. জাতীয়
  7. টেক নিউজ
  8. দেশের খবর
  9. প্রবাস
  10. ফিচার
  11. বিনোদন
  12. রাজনীতি
  13. লাইফস্টাইল
  14. সম্পাদকীয়
  15. সাফল্য

তারেক রহমানের এপিএস অপুর ৮ কোটি টাকা ৫৬৯টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে লেনদেন

প্রতিবেদক
admin
January 29, 2023 9:53 am

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এপিএস মিয়া নূরুদ্দীন আহম্মেদ অপুর ৮ কোটি টাকার উত্স খুঁজতে গিয়ে ৫৬৯টি ব্যাংক একাউন্টের তথ্য পেয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এসব একাউন্টে বিদেশ থেকে টাকা লেনদেনের তথ্য পেয়েছে তদন্তসংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় গত ২৪ জানুয়ারি সিআইডির পরিদর্শক সাদেক আলী রাজধানীর মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করেছেন। মামলায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ব্যক্তিগত সহকারী এবং গুলশানের আমেনা এন্টারপ্রাইজের মালিক ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মিয়া নূরুদ্দীন আহম্মেদ অপু, গুলশানের ইউনাইটেড করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার মাহমুদুল হাসান, ঐ প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এ এম আলী হায়দার ওরফে নাফিজকে আসামি করা হয়েছে।

মতিঝিল থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, চার বছর আগে মতিঝিল সিটি সেন্টারের ২৭ তলা থেকে ৮ কোটি ১২ লাখ টাকা উদ্ধার ঘটনার তদন্ত শেষে সিআইডির একজন পরিদর্শক বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মিয়া নূরুদ্দীন আহম্মেদ অপুর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটি চার বছর ধরে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিট তদন্ত করে। এর আগে ২০১৮ সালের ২৪ ডিসেম্বর মতিঝিল সিটি সেন্টারের ২৭ তলার ইউনাইটেড করপোরেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান থেকে ৮ কোটি টাকা উদ্ধার করে র্যাব। ঐ ঘটনায় মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং মামলা করা হয়। ঐ মামলার ৪ নম্বর আসামি ছিলেন তারেকের এপিএস মিয়া নূরুদ্দীন আহম্মেদ অপু। এরপর ২০১৯ সালের ৪ জানুয়ারি রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতাল থেকে অপু গ্রেফতার হন। পরে মামলাটির তদন্তভার সিআইডিতে চলে যায়। মামলার তদন্ত শেষে সিআইডি তিন জনের বিরুদ্ধে ৮ কোটি ১২ লাখ ৪১ হাজার ৪২৯ টাকা অবৈধভাবে অর্জনের অভিযোগের সত্যতা পায়। এর পরই সিআইডি গত ২৪ জানুয়ারি মতিঝিল থানায় মামলাটি করেন।

সিআইডির পরিদর্শক সাদেক আলীর দায়ের করা মামলায় বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে মতিঝিলের সিটি সেন্টারের ইউনাইটেড করপোরেশন অফিসে অভিযান চালিয়ে নগদ ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩৮ হাজার টাকা ও ১০ কোটি টাকার চেকসহ আলী হায়দার (৪২) নামে একজন ঠিকাদারকে গ্রেফতার করে র‍্যাব। ঐ অফিস থেকে ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মিয়া নূরুদ্দীন আহম্মেদ অপুর নির্বাচনি পোস্টার উদ্ধার করা হয়। পরে আলী হায়দারের দেওয়া তথ্য নিয়ে গুলশানে অপুর কোম্পানি আমেনা এন্টারপ্রাইজে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটির মহাব্যবস্থাপক (জিএম) জয়নাল আবেদীন ও অফিস সহকারী আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় র্যাব মতিঝিল থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলাটি সিআইডি তদন্ত করে।

সিআইডি টাকা উদ্ধারের সময় জব্দ হওয়া বিভিন্ন কাগজপত্র ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসের সূত্র ধরে প্রায় চার বছরের অনুসন্ধানে ৫৬৯টি ব্যাংক একাউন্টের সন্ধান পায়। ঐ সব একাউন্টে ২৭৬টি জমা স্লিপে ৮ কোটি ১২ লাখ ৪১ হাজার ৪২৯ টাকা জমা হয়েছে। মামলাটি তদন্তকালে বিভিন্ন ব্যবসার আড়ালে আসামিদের হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজে ৫৬৯টি ব্যাংক হিসাবে হুন্ডির টাকা লেনদেন ও অর্থ পাচারের তথ্য পায় সিআইডি। এছাড়া অভিযুক্তদের মোবাইল ফোন ও কম্পিউটারের ফরেনসিক রিপোর্ট এবং ব্যাংকের হিসাবের জমা স্লিপ পর্যালোচনা করে হুন্ডিতে টাকা পাচারের তথ্য নিশ্চিত হয়। ২০১৭ থেকে ২০১৮ সালের ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঐ সব টাকা লেনদেন হয়। আসামিদের গড়া চক্র সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইনসহ বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসীদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে। মাহমুদুল হাসানের ভাগিনা নাফিজ হুন্ডিতে ঐ সব টাকার বড় একটি অংশ লেনদেন করেছেন। টাকা লেনদেনের জন্য ব্যবহূত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের অ্যাডমিন নাফিজ। কোন ব্যাংকে কত টাকা জমা দিতে হবে, তা মাহমুদুল হাসান হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে জানিয়ে দিতেন। সেই মেসেজ অনুযায়ী নাফিজ ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে দিতেন। অপু, মাহমুদুল হাসান ও নাফিজ শতাধিক বার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও সৌদি আরবে ভ্রমণ করেছেন।

সর্বশেষ - রাজনীতি