logo
Tuesday , 13 December 2022 | [bangla_date]
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ক্যারিয়ার ভাবনা
  5. খেলা
  6. জাতীয়
  7. টেক নিউজ
  8. দেশের খবর
  9. প্রবাস
  10. ফিচার
  11. বিনোদন
  12. রাজনীতি
  13. লাইফস্টাইল
  14. সম্পাদকীয়
  15. সাফল্য

‘নৈরাজ্যের মাধ্যমে সরকার হটাতে চেয়েছিল বিএনপি’

প্রতিবেদক
admin
December 13, 2022 9:20 am

বিএনপি ঢাকায় গত ১০ ডিসেম্বর মহাসমাবেশকে ঘিরে নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য ছিল অসাংবিধানিকভাবে অগণতান্ত্রিক শক্তিকে ক্ষমতায় আসতে প্রলুব্ধ করা। বিএনপির ওই মহাসমাবেশের দুই দিন পর সরকারের পক্ষ থেকে ঢাকায় বিদেশি কূটনৈতিক মিশনগুলোকে পাঠানো বার্তায় এমনটিই জানিয়েছে সরকার।

সরকার বলেছে, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপি ও জোটের দলগুলো নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি তৈরি করেছিল।

তাই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী এবার কোনো ঝুঁকি নেয়নি।

ঢাকায় একাধিক কূটনীতিক গতকাল সোমবার কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন, বিএনপির ১০ ডিসেম্বরের মহাসমাবেশকে ঘিরে সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী যে উদ্যোগ নিয়েছে, সেগুলোর বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লিখিতভাবে বিদেশি কূটনৈতিক মিশনগুলোকে জানিয়েছে। এ ছাড়া এই বিষয়ে কথাবার্তা হয়েছে।

সরকারি সূত্রগুলো বলছে, নির্বাচনসহ দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বিদেশিদের হস্তক্ষেপের বিষয়ে গত রবিবার ঢাকায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সেমিনার থেকে কড়া বার্তা দিয়েছে সরকার। একইভাবে সরকার দেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলাসহ সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কী উদ্যোগ নিয়েছে, সে বিষয়ে গতকাল কূটনৈতিক মিশনগুলোকে অবহিত করেছে। কূটনৈতিক বার্তায় সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, মত প্রকাশ ও সমবেত হওয়ার স্বাধীনতাকে সরকার সম্মান করে। তবে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জননিরাপত্তাকে হুমকিতে ফেলে এমন সহিংসতা ও নৈরাজ্যের সুযোগ সরকার কাউকে দেবে না।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে বলার প্রেক্ষাপট

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকায় কূটনৈতিক মিশনগুলোকে বলেছে, বিএনপি নেতারা ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশে সারা দেশ থেকে প্রায় ২৫ লাখ মানুষকে ঢাকায় আনার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবসের আগে জননিরাপত্তা, আইন-শৃঙ্খলাসহ সার্বিক নিরাপত্তার বিষয়ে সম্ভাব্য প্রভাব মূল্যায়ন করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) বিএনপিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়। উদ্যানে বিএনপির জনসভার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা ছিল। কিন্তু বিএনপি প্রথমে ৮ ডিসেম্বর সেখানে ছাত্রলীগের পূর্বনির্ধারিত কাউন্সিলের কথা উল্লেখ করে বলেছে, সেখানে সম্মেলন আয়োজনের জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি তারা নিতে পারবে না। এমন প্রেক্ষাপটে দুই দিন এগিয়ে ৬ ডিসেম্বর ছাত্রলীগের সম্মেলন করা হয়। এরপর সংগত কারণ না দেখিয়ে নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনের ব্যস্ত সড়কে সভা করার জন্য জোর দেন বিএনপি নেতারা।

নয়াপল্টন কেন নয়

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিদেশি মিশনগুলোকে বলেছে, নয়াপল্টন ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা। সেখানে অসংখ্য সরকারি ও বেসরকারি অফিস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ভবন রয়েছে। এমনকি নয়াপল্টনে একটি ছোট জমায়েত জনসাধারণের চলাচলকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে এবং পুরো শহরে যানজট সৃষ্টি করে। সুতরাং সেখানে এত বড় রাজনৈতিক সভা অনুষ্ঠিত হলে জনসাধারণের নিরাপত্তা, সম্পত্তির নিরাপত্তা এবং জনসাধারণের চলাফেরা মারাত্মকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হতো। নয়াপল্টন বড় জমায়েতের জন্য উপযুক্ত নয়। গত ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে কর্মীরা অনির্ধারিত কর্মসূচির জন্য জড়ো হচ্ছিলেন। সেখানে অননুমোদিত জমায়েতের সময় বিএনপির কর্মীদের ভাঙচুরে পুলিশ সদস্যরা গুরুতর আহত হন এবং একজন পথচারী মারা যান।

বিকল্প ভেন্যু নিয়ে কাজ

কূটনৈতিক বার্তায় বলা হয়েছে, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ক্ষোভের মধ্যেও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি জনসভা করতে না চাওয়ায় বিকল্প ভেন্যু নিয়েও কাজ করেছে ডিএমপি। ক্ষমতাসীন দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক নেতারাও ঘটনাস্থল ইস্যুতে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধানের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ইস্যু তৈরি করতে চেয়েছিল বিএনপি

কূটনৈতিক মিশনগুলোকে পাঠানো বার্তায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সম্ভবত বিএনপি নেতারা সম্মেলনস্থল থেকে রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি করতে চেয়েছিলেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল জাতীয় নির্বাচনের আগে ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো ব্যস্ত জনপথে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা। তাঁরা তাঁদের বেআইনি দাবি আদায়ের জন্য সাধারণ মানুষকে জিম্মি করতে চেয়েছিলেন।

ঢাকা মেট্রোপলিটন অ্যাক্ট ১৯৭৬-এর ২২৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী, পুলিশ কমিশনার লিখিত আদেশের মাধ্যমে, যখনই এবং যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি এই ধরনের নিষেধাজ্ঞাকে জনসাধারণের শান্তি বা নিরাপত্তা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় বলে মনে করেন ততক্ষণ কোনো সমাবেশ বা মিছিল নিষিদ্ধ করতে পারেন। বিএনপির সমাবেশে সরকার কোনো বাধা দেয়নি। বিএনপি বেআইনি ও সহিংস উপায়ে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের সাংবিধানিক অধিকারের জন্য চাপ দেওয়ার চক্রান্ত নিয়েছে।

বিনা উসকানিতে হামলা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বিএনপির কর্মীরা ৭ ডিসেম্বর নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ে অননুমোদিতভাবে সড়ক অবরোধ করেছিলেন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। বেশ কিছুক্ষণ যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় পুলিশ বিএনপির কর্মীদের অবরোধ তুলে সেখান থেকে সরে যেতে অনুরোধ করে। কিন্তু পুলিশের অনুরোধ অমান্য করে বিএনপির কর্মীরা আগ্রাসী হয়ে ওঠেন এবং বিনা উসকানিতে পুলিশের ওপর হামলা শুরু করেন। তাঁরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ও ইটপাটকেল ছোড়েন। বিএনপির কর্মীদের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সংঘর্ষে দুর্ভাগ্যক্রমে একজন পথচারী নিহত হন।

অধিকার ও যুক্তিসংগত বিধি-নিষেধ

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, সংবিধানের ৩৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, জনশৃঙ্খলা বা জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে আইনের দ্বারা আরোপিত যুক্তিসংগত বিধি-নিষেধ সাপেক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে এবং অস্ত্র ছাড়াই জনসভা ও মিছিলে সমবেত হওয়ার এবং অংশগ্রহণের অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের থাকবে। ডিএমপি আরোপিত বৈধ ও যুক্তিসংগত বিধি-নিষেধ অমান্য করে বিএনপি নেতাকর্মীরা ভাঙচুর ও নৈরাজ্যের আশ্রয় নেন।

পরে বিএনপির দলীয় কার্যালয় থেকে ১৬০ বস্তা চাল জব্দ করে পুলিশ। পুলিশ জানায়, বিএনপির দলীয় কার্যালয়েও ককটেল পাওয়া গেছে। পরিস্থিতিগত প্রমাণ দেখায় যে বিএনপির প্রকৃত পরিকল্পনা ছিল নির্ধারিত সমাবেশের তিন দিন আগে জোরপূর্বক ও বেআইনিভাবে রাস্তা দখল করা। তিন দিন ধরে নেতাকর্মীদের খাওয়াতে চাল আনা হয়েছিল। পুলিশের ওপর হামলার পর পল্টন, মতিঝিল, রমনা ও শাহজাহানপুর থানায় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চারটি মামলা করে পুলিশ। ৮ ডিসেম্বর ডিবি পুলিশ বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও মির্জা আব্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এবং ইচ্ছাকৃত ও পূর্বপরিকল্পিত হামলার সঙ্গে তাঁদের সম্ভাব্য যোগসূত্র যাচাই করার জন্য ডিবি কার্যালয়ে তলব করে। এরপর তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়

বিদেশি মিশনগুলোকে পাঠানো বার্তায় সরকার বলেছে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সাম্প্রতিক বক্তব্য ও প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে, বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা তাঁদের কর্মীদের পুলিশের ওপর হামলা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। শান্তিপূর্ণ সমাবেশে তাঁদের অধিকার প্রয়োগের বৈধ বিকল্প থাকা সত্ত্বেও বিএনপি নেতারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখাতে চাননি। তাঁদের লক্ষ্য ছিল নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে অসাংবিধানিকভাবে স্বার্থান্বেষী মহলকে ক্ষমতায় আমন্ত্রণ জানানো।

সর্বশেষ - রাজনীতি