logo
মঙ্গলবার , ২২ নভেম্বর ২০২২ | ২২শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ক্যারিয়ার ভাবনা
  5. খেলা
  6. জাতীয়
  7. টেক নিউজ
  8. দেশের খবর
  9. প্রবাস
  10. ফিচার
  11. বিনোদন
  12. রাজনীতি
  13. লাইফস্টাইল
  14. সম্পাদকীয়
  15. সাফল্য

দুই জঙ্গি ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা কাশিমপুর কারাগারে

প্রতিবেদক
admin
নভেম্বর ২২, ২০২২ ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ

গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে পরিকল্পনা করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গিকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে ছিনতাই করা হয়। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পুলিশ হত্যারও চিন্তা-ভাবনা ছিল। পালানোর বিষয়ে বাইরে থাকা জঙ্গিরা নিয়মিত কারাগারের শীর্ষ জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ করে আসছিল। চার জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা থাকলেও দুজন ধরা পড়ে যায়।

বিজ্ঞাপগ্রেপ্তার দুই জঙ্গিকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে এমন তথ্য পাওয়ার কথা বলেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।

জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে সিটিটিসি জানায়, সহযোগীদের ছিনতাইয়ের জন্য আদালত চত্বরকেই সবচেয়ে নিরাপদ মনে করেছিলেন নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন আনসার আল ইসলামের সদস্যরা। আর এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে এক বছর ধরে চলছিল যাচাই-বাছাইয়ের কাজ। সে অনুযায়ী আশিকুজ্জামান নামের একজনের ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দিয়ে কেনা হয় অপেক্ষাকৃত দ্রুতগতির মোটরসাইকেল। তিন মাস আগে হামলার দিনক্ষণ ঠিক করা হয়। সবশেষ রবিবার আদালত চত্বরে অবস্থান নেন ১৮ জন জঙ্গি। তাঁদের একজন পিপার স্প্রে ছোড়েন, আরেকজন ছিলেন দড়ি কাটার দায়িত্বে। দুজন মোটরসাইকেল নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন।

রবিবার ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার সময় প্রকাশক দীপন হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত গ্রেপ্তার জঙ্গি আরাফাত রহমান ও আ. সবুর ওরফে রাজু ওরফে সাদ ওরফে সুজনসহ ১০ জনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে সিটিটিসি। রিমান্ডে নেওয়া অন্য আসামিরা হলেন শাহীন আলম ওরফে কামাল, শাহ আলম ওরফে সালাউদ্দিন, বি এম মজিবুর রহমান, সুমন হোসেন পাটোয়ারী, মইনুল হাসান শামীম, মোজাম্মেল হোসেন, শেখ আব্দুল্লাহ, রশিদুন্নবী ভূঁইয়া।

দুই জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় দায়িত্বে গাফিলতি থাকায় পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁরা হলেন সিএমএম আদালতের হাজতখানার কোর্ট পরিদর্শক মতিউর রহমান, হাজতখানার ইনচার্জ (এসআই) নাহিদুর রহমান ভুইয়া, আসামিদের আদালতে নেওয়ার দায়িত্বরত পুলিশের এটিএসআই মহিউদ্দিন, কনস্টেবল শরিফ হাসান ও আব্দুস সাত্তার। ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপকমিশনার জসিম উদ্দিন বলেন, আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় গাফিলতি থাকায় পাঁচ পুলিশ সদস্যকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, আদালতপাড়া থেকে দুই জঙ্গি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মেজর জিয়া নেতৃত্ব দেননি। তবে জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পেরেছেন তাঁরা। একই সঙ্গে অপারেশনে অংশ নেওয়া কয়েকজনের নাম পেয়েছেন।

তিনি আরো বলেন, যেসব আসামিকে আদালতে হাজিরার জন্য আনা হয়েছিল তাঁরা সবাই আনসার আল ইসলামের সামরিক শাখা অর্থাৎ ‘আস্কারি’ বিভাগের সদস্য ছিলেন। তাঁদের সবাইকে সিটিটিসি ২০১৬ সালে গ্রেপ্তার করেছিল। তাঁদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে অনেক ঘটনা ও হত্যার রহস্য উদঘাটিত হয়েছিল।

যা বলছে র‌্যাব : গতকাল রাজধানীতে র‌্যাব সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। তিনি বলেন, আদালত প্রাঙ্গণ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই জঙ্গির আগের অপরাধের ধরন, তাঁদের আত্মীয়-স্বজন এবং বিভিন্ন সময়ে চলাফেরা—এই সব কিছু পর্যালোচনা করছে র‌্যাব। ছিনিয়ে নেওয়া দুই জঙ্গি ও তাঁদের সহযোগীদের ধরতে র‌্যাবের সব ইউনিট কাজ করছে। আদালত প্রাঙ্গণ, অন্যান্য জায়গা, সিসিটিভি ফুটেজ এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেছে তারা।

ডিবির ভাষ্য : ডিবি বলছে, ছিনিয়ে নেওয়া দুই জঙ্গি জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন এবং লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। এই জঙ্গি সংগঠনের নেতা মেজর (বরখাস্ত) সৈয়দ জিয়াউল হক, যাঁর পরিকল্পনায় ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত একাধিক লেখক, প্রকাশক, ব্লগার ও সমকামী অধিকারকর্মীকে হত্যা করা হয়।

পুলিশ সদর দপ্তরের কমিটি : জঙ্গি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এবার একজন ডিআইজিকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। গতকাল বিকেলে পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (মিডিয়া অ্যান্ড পিআর) মো. মনজুর রহমান বলেন, তদন্ত কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

যা বলা হয়েছে এজাহারে : মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সাগর ওরফে বড় ভাই ওরফে মেজর জিয়ার (চাকরিচ্যুত মেজর) পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় আয়মান ওরফে মশিউর রহমান (৩৭), সাব্বিরুল হক চৌধুরী ওরফে আকাশ ওরফে কনিক (২৪), তানভীর ওরফে সামশেদ মিয়া ওরফে সাইফুল ওরফে তুষার বিশ্বাস (২৬), রিয়াজুল ইসলাম ওরফে রিয়াজ ওরফে সুমন (২৬) ও মো. ওমর ফারুক ওরফে নোমান ওরফে আলী ওরফে সাদ (২৮) পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দুটি মোটরসাইকেলযোগে আনসার আল ইসলামের অজ্ঞাতপরিচয় পাঁচ-ছয়জন সদস্য অবস্থান নেন। এ ছাড়া আদালতের আশপাশে অবস্থান করা অজ্ঞাতপরিচয় আরো ১০ থেকে ১২ জন আনসার আল ইসলামের সদস্য আদালতের মূল ফটকের সামনে অবস্থান করেন। এরপর তাঁরা পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নিয়ে যান।

এজাহারে আরো বলা হয়, রবিবার সকাল ৮টা ৫ মিনিটে কাশিমপুর থেকে ১২ জন আসামিকে ঢাকার আদালতে প্রিজন ভ্যানে নিয়ে আসা হয়। সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকার প্রসিকিউশন বিভাগে আসামিদের হাজিরা দেওয়ার জন্য সিজেএম আদালত ভবনের সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনাল ৮-এ নিয়ে যাওয়া হয়। মামলার শুনানি শেষে জামিনে থাকা মো. ঈদী আমিন (২৭) ও মেহেদী হাসান অমি ওরফে রাফি (২৪) আদালত থেকে বের হয়ে যান। এরপর সকাল ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে আদালতের মূল ফটকের সামনে পৌঁছামাত্র দুটি মোটরসাইকেলে করে অজ্ঞাতপরিচয় আনসার আল ইসলামের পাঁচ-ছয়জন সদস্য, আদালতের আশপাশে অবস্থানরত আনসার আল ইসলামের আরো ১০ থেকে ১২ জন সদস্য হামলা করেন। তাঁরা আসামি মইনুল হাসান, মো. আবু সিদ্দিক, আরাফাত রহমান ও মো. আ. সবুরকে ছিনিয়ে নিতে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের হত্যার উদ্দেশ্যে আক্রমণ করেন। কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা তাঁদের কর্মকাণ্ডে বাধা দিলে আসামিদের মধ্যে কোনো একজন তাঁর হাতে থাকা লোহা কাটার যন্ত্র দিয়ে কনস্টেবল আজাদের মুখে আঘাত করেন।

মামলার তদন্তে সিটিটিসি : মামলাটি সিটিটিসির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গতকাল কোতোয়ালি থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, ‘ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলার তদন্তভার আমরা সিটিটিসিকে বুঝিয়ে দিয়েছি। ’

মোটরসাইকেলটি ছিল মামুনের : আদালতের সামনে থেকে জঙ্গি আসামিদের ছিনিয়ে নিতে দুটি মোটরসাইকেলে এসেছিলেন সহযোগীরা। তাড়াহুড়া করে পালানোর সময় একটি মোটরসাইকেল সদরঘাট এলাকায় ফেলেই চলে যান জঙ্গিরা। বিআরটিএ সূত্র জানিয়েছে, মোটরসাইকেলটির প্রথম মালিক হাসান আল মামুন নামের এক যুবক।

সর্বশেষ - দেশের খবর