logo
রবিবার , ২০ নভেম্বর ২০২২ | ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ক্যারিয়ার ভাবনা
  5. খেলা
  6. জাতীয়
  7. টেক নিউজ
  8. দেশের খবর
  9. প্রবাস
  10. ফিচার
  11. বিনোদন
  12. রাজনীতি
  13. লাইফস্টাইল
  14. সম্পাদকীয়
  15. সাফল্য

ফারদিন হত্যার বিষয়ে মুখ খোলেননি  বজলু গ্রেফতারে চনপাড়ায় স্বস্তি

প্রতিবেদক
admin
নভেম্বর ২০, ২০২২ ৯:২২ পূর্বাহ্ণ

রূপগঞ্জের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চনপাড়ার ডন বজলুর রহমান বজলু গ্রেফতারে চনপাড়া পুনর্বাসনকেন্দ্রের (চনপাড়া বস্তি) লোকজনের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তবে তাদের আশঙ্কা-জামিনে বের হয়ে এসে বজলু আবারও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ নানা অপকর্ম চালাতে পারে। এছাড়া তার সহযোগীদের অনেকেই এখনো চনপাড়ায় অবস্থান করছে। এ কারণে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক কাটছে না। 
এদিকে বাংলাদেশ বুয়েট ছাত্র ফারদিন নূর পরশ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বজলু জড়িত কিনা-সে বিষয়ে র‌্যাব তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তবে এ বিষয়ে বজলু মুখ খোলেনি বলে যুগান্তরকে জানিয়েছেন র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মোমেন। তিনি বলেন, ‘শুক্রবার বজলুকে গ্রেফতারের পর আমরা তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করেছি। র‌্যাব এসব মামলা তদন্ত করতে চায়। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানাব। আমরা তদন্তের ভার পেলে ফারদিন হত্যার বিষয়ে বজলুর কাছ থেকে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করব।’
শনিবার দুপুরে চনপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, গোটা চনপাড়ায় নীরব-নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। বেশকিছু দোকানপাট খোলা ছিল। মানুষে চোখেমুখে ছিল আতঙ্কের ছাপ। কথা বলতে এগিয়ে গেলে অনেকে এড়িয়ে যান। বজলু গ্রেফতারের পরও মানুষ বজলুর বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। অন্যান্য সময় বস্তির অলিগলিতে লোকজনের জটলা থাকলেও শনিবার তেমনটা ছিল না। স্থানীয়দের প্রশ্ন-বজলু কী জামিনে বেরিয়ে আসবে?
স্থানীয় আসলাম উদ্দিন বলেন, ‘বজলু গ্রেফতারে আমরা খুশি। চনপাড়ায় শান্তি আইছে। তয় যহন জামিনে বের অইয়া আইবে তহন না জানি কি অয়।’ কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘গত ১০টা বছর আমরা অশান্তিতে ছিলাম। বজলু মেম্বারকে টাকা দিয়া ব্যবসা চালাইতে হতো। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া একটু শান্তি পাইলাম। তবে ভয়ে আছি।’ আল্লাহ জানেন, জামিনে এসে কি করে। হয়তো মরতে হবে নতুবা লাখ লাখ টাকা গুনতে হবে।’
স্থানীয় আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমি টিভি চ্যানেলে বজলুর ব্যাপারে ওপেন কথা বলছি। ও বের হয়ে এলে আমাকে মেরে ফেলবে।’ এক নারী জানান, ‘আমরা চনপাড়ায় শান্তি চাই। চনপাড়ায় আর যেন মাদক ব্যবসা না হয়, আমরা প্রশাসনের কাছে সেটা দাবি জানাই।’ স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা জানান, ‘বজলুর মতো লোক আওয়ামী লীগের মতো ঐতিহ্যবাহী দলে যদি আবার স্থান পায় তাহলে দলের বারোটা বাজবে। চনপাড়ার আওয়ামী লীগকে বজলু শেষ করে ফেলেছে।’ চনপাড়ার মহিলা লীগের এক নেত্রী বলেন, ‘গত এক যুগ ধরে বজলু চনপাড়ায় ত্রাস সৃষ্টি করেছে। বজলু ও তার বাহিনীর কাছে চনপাড়াবাসী জিম্মি হয়ে পড়েছিল। খোদ আওয়ামী লীগের লোকজন তার নির্যাতনের শিকার হয়েছে। 
চনপাড়া পুনর্বাসনকেন্দ্রের বাসিন্দারা জানান, একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদের ছত্রছায়ায় থেকে বজলু অপকর্ম চালায়। থানা আওয়ামী লীগের নবগঠিত কমিটির কার্যকরী সদস্য হওয়ার পর থেকে অধিকতর বেপরোয়া হয়ে উঠে। প্রভাবশালী রাজনীতিবিদই বজলুকে কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান বানান। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অপরাধের নিয়ন্ত্রক হিসাবে চিহ্নিত বজলুকে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক সভায়ও করা হতো অতিথি। এ কারণে এলাকাবাসী তার ভয়ে থাকত সব সময়। 
স্থানীয়রা জানান, এক সময়ে নুন আনতে পানতা ফুরাত বজলুর। ছিল কুলি। গত কয়েক বছর ধরে পিএস, এপিএস, গানম্যান নিয়ে চলত। বজলুর বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে হামলা-মামলার শিকার হতে হয় স্থানীয় দলীয় কর্মীদেরও। এ জন্য কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বলত না। তারা জানান, গ্রেফতার হওয়ার পরও বজলুর উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটির কার্যকরী সদস্য পদ বহাল রয়েছে। এতে বোঝা যায়, অপরাধের নিয়ন্ত্রক বজলুকে কমিটির নেতারা এখনও প্রশ্রয় দিচ্ছেন। শুক্রবার বিকালে র‌্যাব-১ এর একটি দল তাকে চনপাড়া থেকে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছ থেকে বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন, ৫ রাউন্ড গুলি, জাল টাকা উদ্ধার করা হয়। শনিবার দুপুরে র‌্যাব-১ এর সদস্যরা বজলুর রহমান বজলুকে রূপগঞ্জ থানায় সোপর্দ করেন।
র‌্যাব জানায়, বজলুর রহমান ওরফে বজলু চিহ্নিত অস্ত্রধারী, দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী। সে চনপাড়া বস্তি এলাকার মাদক ব্যবসার অন্যতম মূলহোতা ও নিয়ন্ত্রক। সে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। এছাড়া নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলাতে তার বেশ কয়েকজন সহযোগী রয়েছে। বজলুর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যকলাপসহ বিভিন্ন অপরাধে এখন পর্যন্ত ২৩টি মামলার রেকর্ড পাওয়া গেছে। সে চনপাড়া বস্তি এলাকাসহ আশপাশের এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ হতে মাসিক ভিত্তিতে টাকা নিত। 
চনপাড়া পুনর্বাসনকেন্দ্রটি প্রকৃতপক্ষে চনপাড়া বস্তি নামে অধিক পরিচিত। এ বস্তিতে লক্ষাধিক মানুষের বসবাস। অপেক্ষাকৃত নিু আয়ের মানুষ এ বস্তিতে বসবাস করেন যার অধিকাংশই দিনমজুর। অত্যন্ত ঘিঞ্জি এবং ঘনবসতিপূর্ণ এ চনপাড়া বস্তিটি ৯টি এলাকায় বিভক্ত। এই এলাকার শীর্ষ ৫-৬টি মাদক কারবারির প্রধান সমন্বয়ক ও গডফাদার ছিলেন বজলুর রহমান ওরফে বজলু। বস্তি এলাকার মাদকের প্রায় ২০০টি স্পট থেকে কয়েকটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বজলু অপকর্ম চালাচ্ছিল।
র‌্যাব জানায়, বজলু কায়েতপাড়া ইউপির ৯নং ওয়ার্ডের মেম্বার। সে স্থানীয় উঠতি বয়সের ছেলেদের কাছে বজলু ভাই নামে পরিচিত। বিভিন্ন সোর্স তার ছত্রছায়ায় এলাকার ছেলেদের টাকা প্রদান করে বিভিন্ন প্রকার অপকর্ম চালায়। এসবের মধ্যে আছে হত্যা, মাদক বেচাকেনা, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি, কিশোর গ্যাং, ধর্ষণ, যৌন হয়রানি এবং পতিতালয় পরিচালনা ইত্যাদি। কেউ বজলুকে চাঁদা না দিলে তার কপালে নেমে আসত নির্যাতনের ভয়াবহতা। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গত এক-দেড় বছরে নিহত হয়েছেন ছয়জন। ২৭ সেপ্টেম্বর র‌্যাব চনপাড়া এলাকায় অভিযান চালালে বজলুর নির্দেশে অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর আক্রমণ করে অপরাধী ছিনিয়ে নেওয়ারও অপচেষ্টা চালায়। সম্প্রতি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অভিযানে গেলে তাদের ওপরও হামলা চালায় বজলুর লোকজন।
স্থানীয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ শাহজাহান ভূঁইয়া বলেন, বজলুর অপকর্মের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। এ ব্যপারে বৃহস্পতিবার সকালে মুড়াপাড়া বাজারে অবস্থিত উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রধান কার্যালয় এক জরুরি সভা ডাকা হয়েছে। ওই সভায় বজলুর রহমান বজলুর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এএফএম সায়েদ বলেন, বজলুর বিরুদ্ধে র‌্যাব মাদক, জাল টাকা ও অস্ত্র আইনে পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করেছে। তাকে বিকালে নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়েছে। ওসি আরও জানান, বজলুর বিরুদ্ধে আগের যেসব মামলা আছে, সেগুলোর সবকটিতেই জামিনে রয়েছে। শনিবার বজলুকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রোববার রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

সর্বশেষ - দেশের খবর