logo
মঙ্গলবার , ২ আগস্ট ২০২২ | ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ক্যারিয়ার ভাবনা
  5. খেলা
  6. জাতীয়
  7. টেক নিউজ
  8. দেশের খবর
  9. প্রবাস
  10. ফিচার
  11. বিনোদন
  12. রাজনীতি
  13. লাইফস্টাইল
  14. সম্পাদকীয়
  15. সাফল্য

বিমানবন্দরে স্বর্ণ ‘রেখে দেওয়ার’ নাটক সাজিয়ে জরিমানা গুনলেন প্রবাসী

প্রতিবেদক
admin
আগস্ট ২, ২০২২ ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ

সৌদি থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসেন প্রবাসী মাহমুদুল ইসলাম। সৌদি আরবে পরিচিত আরেক প্রবাসী তাকে দিয়েছিলেন ২টি সোনার বার। ওই প্রবাসীর ভাগিনা জাহিদ এই বার দুটি নিতে বিমানবন্দরে এসেছেন। জাহিদ বার চাইলে মাহমুদুল জানান, বিমানবন্দরের ভেতরে তার কাছ থেকে ২টি বার আর ১৬ শ রিয়াল রেখে দেওয়া হয়েছে। সেই বার উদ্ধারের জন্য অভিযোগও দিয়েছেন বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের কাছে। তবে দিনভর নাটকীয়তা শেষে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে নিজেই সোনার বার দুটি আত্মসাৎ করার চেষ্টা করেছিলেন মাহমুদুল। আত্মসাৎ করতে গিয়ে উল্টো মাহমুদুলকে বিমানবন্দরের ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে গুনতে হয়েছে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা।

জানা গেছে, সৌদি প্রবাসী মাহমুদুল ইসলামকে নিতে বিমানবন্দরে এসেছেন তার বাবা-মা। অন্য দিকে, বিমানবন্দরে মাহমুদুলের কাছ থেকে সোনার বার নিতে এসেছেন জাহিদ ও তার ভগ্নিপতি নূর নবী। তারা দুজন সোনার বার চাইলে, মাহমুদুল জানান, তিনি কাস্টম জোনে ট্যাক্স দিতে গেলে একজন ব্যক্তি তার কাছ থেকে সোনার বার ‍দুটি নিয়ে যায় আর সঙ্গে থাকা ১৬ শ রিয়ালও নিয়ে নেয়। মাহমুদুলের দাবি— ওই ব্যক্তি বিমানবন্দরে কর্মরত কোনও সংস্থার কর্মকর্তা, যদিও তার নাম-পরিচয় জানেন না তিনি। কিছু সময় পর ওই ব্যক্তিকে দেখতে না পেয়ে বিমানবন্দরের ভেতর থেকে বের হয়ে আসেন মাহমুদুল। তারপর বাবা-মায়ের সাথে নোয়াখালীতে নিজের গ্রামের বাড়িতে যেতে প্রস্তুতি নিতে থাকেন। তবে বার ২টি না দিয়ে চলে যেতে চাইলে আপত্তি জানান জাহিদ। তিনি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানাতে বলেন মাহমুদুল ইসলামকে।

এ প্রসঙ্গে সৌদি প্রবাসীর ভাগিনা জাহিদ বলেন, আমরা দেখেছি, বিমানবন্দরে যাত্রী অভিযোগ না দিলেও হারানো জিনিস ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। বিমানবন্দরের ভেতরে এতো মানুষের মধ্যে সোনার বার কেউ নিয়ে যাবে বিশ্বাস হচ্ছিল না। আমরা মাহমুদুলকে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের কাছে অভিযোগ দিতে বলি। শুরুতে তিনি অভিযোগ না দিয়েই বাড়িতে চলে যেতে চেয়েছিলেন। পরে তাকে অভিযোগ দিতে জোর করলে তিনি অভিযোগ জানান।

এ প্রসঙ্গে বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, মাহমুদুল ইসলাম অভিযোগ করলেন বিমানবন্দরের ভেতরে বিমানবন্দরের কর্মরত কোনও কর্মকর্তা তার কাছ থেকে ২টি সোনার বার আর ১৬ শ রিয়াল রেখে দিয়েছেন। তৎক্ষণাৎ মাহমুদুলকে নিয়ে যাওয়া হয় বিমানবন্দরে যেসব জায়গা দিয়ে তিনি এসেছেন সেখানে। তখন তিনি একেক বার একেক রকমের তথ্য দিতে থাকেন। কখনও বলছেন কাস্টম জোনে আবার কখনও লাগেজ বেল্ট এলাকায় তার কাছ থেকে বার নিয়ে যাওয়ার কথা। পরে উড়োজাহাজ থেকে মাহমুদুলের নামা থেকে শুরু করে টার্মিনাল ত্যাগ করার আগ পর্যন্ত সব জায়গার সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ চেক করা শুরু হয়।

মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, কিন্তু সিসি ক্যামেরায় দেখা যাচ্ছে, মাহমুদুল এ সময়ে কারও সাথেই কথা বলেননি, কারও কাছে যাননি। তখন অভিযোগকারী ওই যাত্রী মাহমুদুলকেই সন্দেহ করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে স্বীকার করে— স্বর্ণের বার (২৩৬ গ্রাম ওজনের) দুটি বিমানবন্দরের কোনও ব্যক্তি তার কাছ থেকে নেয়নি। সিসি ক্যামেরার ফুটেজেও দেখা যায়, সে অন্য এক ব্যক্তিকে বার দুটি দিয়েছে।

বিমানবন্দর আর্মড পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সৌদি প্রবাসী মাহমুদুল জানান, ফারুক নামে তার ভগ্নিপতিও এসেছিলেন তাকে নিতে। তার কাছে ২টি বার ও রিয়াল দিয়ে দেয় সে। এগুলো নিয়ে দ্রুত বিমানবন্দর ত্যাগ করে ফারুক। তারপর তিনি ওই বার দুটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে বিমানবন্দর থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, মাহমুদুলের ভগ্নিপতি ফারুক আশুলিয়ায় থাকেন। পরে আশুলিয়া থেকে বার ২টি ও ১৬ শ রিয়াল উদ্ধার করা হয়। শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে কাস্টমসের কাছে পাঠালে তারা বার ২টি জব্দ করে। পরে শুল্ক ও জরিমানা দিয়ে যথাযথ প্রক্রিয়ায় বার ২টি ফেরত পেতে পারেন তারা। বিমানবন্দরের ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মাহমুদুলকে পাঠানো হলে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

জিয়াউল হক বলেন, এ ধরণের অভিযোগ প্রায় সময় আসে। কিছু প্রবাসী অন্যের দেওয়া জিনিসপত্র নিজে আত্মসাৎ করতে বিমানবন্দরে চুরি, লাগেজে কাটা কিংবা রেখে দেওয়ার অভিযোগ তুলেন, যা পরবর্তীতে তদন্তে বের হয়ে আসে।

সর্বশেষ - দেশের খবর