logo
মঙ্গলবার , ২৬ জুলাই ২০২২ | ৩১শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ক্যারিয়ার ভাবনা
  5. খেলা
  6. জাতীয়
  7. টেক নিউজ
  8. দেশের খবর
  9. প্রবাস
  10. ফিচার
  11. বিনোদন
  12. রাজনীতি
  13. লাইফস্টাইল
  14. সম্পাদকীয়
  15. সাফল্য

সাক্ষ্য আইনের সংশোধনী সরকারের যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত

প্রতিবেদক
admin
জুলাই ২৬, ২০২২ ৯:৩৬ পূর্বাহ্ণ

মামলা পরিচালনার সময় নারীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা সংক্রান্ত সাক্ষ্য আইনের দুটি ধারা ১৫৫(৪) ও ১৪৬(৩) বাতিল চেয়ে মামলা গড়িয়েছিল হাইকোর্ট পর্যন্ত। এ বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল ইতিবাচক। যার ধারাবাহিকতায় ১৮৭২ সালের পুরাতন সাক্ষ্য আইনের সংশোধনী আনা খসড়ায় চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। একইসঙ্গে আদালতে সাক্ষ্য হিসেবে ডিজিটাল কন্টেন্ট ব্যবহারের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাই সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে যুগান্তকারী বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।

সাক্ষ্য আইন, ২০২২-এর সংশোধনীর প্রস্তাবটি সোমবার (২৫ জুলাই) মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন।

সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব ড. খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, সাক্ষ্য আইনের খসড়া অনুমোদনের মাধ্যমে এখন থেকে যেকোনও মামলার বিচারের সময় আদালত ডিজিটাল কনটেন্ট, ডিজিটাল তথ্য-উপাত্ত ও নথিপত্র এভিডেন্স (প্রমাণ) হিসেবে গ্রহণ করতে পারবে। একইসঙ্গে মামলার শুনানিকালে একজনকে চরিত্রহীন প্রমাণের ক্ষেত্রে আদালতের পূর্ব অনুমতি নিতে হবে। আইনটি হালনাগাদের জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় একটি প্রস্তাব আনে। যার ধারাবাহিকতায় মন্ত্রিসভা প্রস্তাবটিতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় বলেও তিনি জানিয়েছেন।

সাক্ষ্য আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদনকে যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার কাজী মারুফুল আলম। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এমন সংশোধনী আরও আগে হওয়া উচিত ছিল। কেননা, অনেকেই হয়রানির উদ্দেশ্যে আদালতে মামলা করে থাকে। সেসব মামলার মাধ্যমে চরিত্র হননের চেষ্টা করা হয়। মামলার নথিতেও বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে। তবে সেই সুযোগ বাদ দিয়ে সাক্ষ্য আইনের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদনের ফলে হয়রানির উদ্দেশ্যে মামলা বন্ধ হবে বলে আমি মনে করি। এতে মামলাজটও কমে আসবে। মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি হবে। এখন থেকে আদালত চাইলে চরিত্র হনন হয় এমন প্রশ্নের অনুমতি নাও দিতে পারবেন। একইসঙ্গে ডিজিটাল কন্টেন্ট ব্যবহারের সুযোগের ফলে মামলায় তথ্য-প্রমাণ হাজির করাটা আরও সহজ হয়ে গেলো।

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ফৌজদারি, দেওয়ানি কার্যবিধি এবং সাক্ষ্য আইনটি অনেক আগের। সেক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইনটি যুগোপযোগী ও আধুনিক সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে সংশোধনী করার সিদ্ধান্ত অবশ্যই ভালো। বিষয়টি প্রশংসার দাবি রাখে। আর চরিত্র হনন করে—এমন প্রশ্নের বিষয়ে যে সংশোধনী আনা হয়েছে তার ফলে অন্যপক্ষকে অপ্রস্তুত করার মতো প্রশ্ন আর উঠবে না। যদিও অপরপক্ষের আইনজীবীর সুযোগ রয়েছে সেসব প্রশ্ন নিয়ে আদালতের কাছে আপত্তি জানানোর। এমন আইন করার কারণে সেসব প্রশ্ন উঠলে আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন।

সাক্ষ্য আইনের ধারা ১৫৫(৪)-এ বলা হয়েছিল, ‘কোনও লোক যখন বলাৎকার কিংবা শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে সোপর্দ হয়, তখন দেখানো যেতে পারে যে, অভিযোগকারিণী সাধারণভাবে দুশ্চরিত্রসম্পন্ন রমণী।’

এছাড়াও সাক্ষ্য আইনের ১৪৬ (৩)-এ বলা হয়েছিল, সাক্ষীর চরিত্র নিয়েও প্রশ্ন করা যেতে পারে, যাতে সে এমন তথ্য দেয় যা দোষী বা নির্দোষ সাব্যস্ত করতে সহায়ক হবে।

মানবাধিকার সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ল’ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ফ্লাড)-এর চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সাক্ষ্য আইনের সংশোধনীতে ডিজিটাল কন্টেন্ট ব্যবহারের সুযোগ রাখার বিষয়টি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। এটি খুবই ভালো এবং সময়োপযোগী চিন্তা। তবে এ বিষয়টিও সতর্কভাবে ব্যবহার করতে হবে। কারণ, অনেকেই পক্ষে-বিপক্ষে এ ধরনের তথ্য-প্রমাণ হাজির করবেন। অনুমোদিত খসড়ায় চরিত্র হনন বিষয়ক প্রশ্ন করার বিষয়ে আদালতের অনুমতির কথা বলা হয়েছে। এখন দেখা যাক, আদালত বিষয়টি নিয়ে কীভাবে কাজ করে।

প্রসঙ্গত, ধর্ষণের শিকার নারীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা সংক্রান্ত সাক্ষ্য আইনের দুটি ধারা ১৫৫(৪) ও ১৪৬(৩) বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। ২০২১ সালের ১৪ নভেম্বর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক), নারীপক্ষ ও ব্লাস্ট্রের পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন এই রিট দায়ের করেন। রিট আবেদনে আইন মন্ত্রণালয়কে বিবাদী করা হয়। মামলাটি হাইকোর্টে শুনানির পর্যায়ে রয়েছে।

সর্বশেষ - দেশের খবর