১৭ হাজার ৫শ’ কোটি টাকার সম্পূরক বাজেট পাস

adminadmin
  প্রকাশিত হয়েছেঃ   14 June 2022

চলমান ২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ১৭ হাজার ৫২৪ কোটি ৬৪ লাখ ৫ হাজার টাকার সম্পূরক বাজেট পাস করেছে জাতীয় সংসদ। সংসদে চলমানে বাজেটে আগের দেয়া মূল বরাদ্দের অতিরিক্ত ব্যয়ের দাবি মেটাতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগ কর্তৃক খরচকৃত টাকার অনুমোদন দিতেই এই সম্পূরক বাজেট পাস করা হয়। সংশোধিত বাজেটে ২৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ ১১ হাজার১৫ লাখ ৭২ হাজার ৪৪ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বরাদ্দ ৬ কোটি ৩৬ লাখ ৭৪ হাজার, ৩৬১ টাকা হ্রাস পেয়েছে।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের আজকের বৈঠকে কণ্ঠভোটে ‘নির্দিষ্টকরণ (সম্পূরক) বিল-২০২২’ ও একইসঙ্গে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট পাস হয়। এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে উপস্থিত ছিলেন। এরআগে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন।
সংযুক্ত তহবিলের উপর দায়যুক্ত সম্পূরক ব্যয় নির্বাহের জন্য এবং চলতি অর্থ বছরের ৩০ জুন সমাপ্য অর্থবছরের জন্য সরকরের অনুমিত ব্যয় সম্পর্কে জাতীয় সংসদ কর্তৃক প্রদত্ত মঞ্জুরিসমূহের বিপরীতে সংযুক্ত তহবিল প্রয়োজনীয় অর্থ ‘নির্দিষ্টকরণের’ বিধান করতে এই সম্পূরক বিলটি আনা হয়। গত ৯ জুন জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের সাধারণ বাজেট পেশ হয়। একই সাথে পেশ হয় চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট।

সম্পুরক বাজেটের আওতায় ২৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের বিপরীতে ১৭ হাজার ৫২৪ কোটি ৬৪ লাখ ৫ হাজার টাকার বরাদ্দ অনুমোদন দেয়া হয়। এর মধ্যে সর্বাধিক ৫ হাজার ৩০৭ কোটি ৫৬ লাখ ৬১ হাজার টাকা অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন অর্থ বিভাগ খাতে বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়েছে। এর পরেই রয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। এই মন্ত্রণালয়কে ২ হাজার ৭৪২ কোটি ৩৪ লাখ ৬৪ হাজার টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করা হয়। তৃতীয় সর্বোচ্চ খাদ্য মন্ত্রণালয়কে ২ হাজার ৩৩৪ কোটি ৪৬ লাখ ৮৮ হাজার টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়। সবচেয়ে কম এক কোটি ১৪ লাখ ৩১ হাজার টাকা বরাদ্দ পেয়েছে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।

সম্পূরক বাজেট পাসের আগে ২৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের ২৬টি মঞ্জুরি দাবি উত্থাপিত হয়। এসব দাবির ওপর বিরোধী দল জাতীয় পার্টি, বিএনপি ও গণফোরামের সংসদ সদস্যরা ২৩৮টি ছাঁটাই প্রস্তাব দেন। ছাঁটাই প্রস্তাবগুলোর মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য শিক্ষা পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাব নিয়ে সংসদে আলোচনা হয়।

আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামী লীগের ওয়াসিকা আয়শা খান ও আহসানুল ইসলাম টিটু, জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, রওশন আরা মান্নান ও পীর ফজলুর রহমান, বিএনপি’র মো. হারুনুর রশীদ, ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, মো. মোশাররফ হোসেন, গণফোরামের মোকাব্বির খান এবং স্বতন্ত্র সদস্য রেজাউল করিম বাবলু। তারা বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমালোচনার পাশাপাশি সম্পূরক বাজেট বরাদ্দ না দেওয়ার দাবি জানান।

সাংবিধানিক নিয়ম অনুসারে যেসব মন্ত্রণালয় বা বিভাগ বাজেটের বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয় করতে পারেনি তাদের হ্রাসকৃত বরাদ্দের জন্য সংসদের অনুমতির কোন প্রয়োজন হয় না। কিন্তু যেসব মন্ত্রণালয় বা বিভাগ অতিরিক্ত ব্যয় করেছে কেবলমাত্র তাদের বরাদ্দই সংসদের অনুমতির প্রয়োজন হয়। এরই প্রেক্ষিত্রে সংসদে এই সম্পূরক বাজেট পাস হয়।

দেশের খবর

আপনার মতামত লিখুন :