‘প্রয়োজনে খালেদার জন্য বিদেশ থেকে চিকিৎসক আনুক, অসুবিধা নেই’

Ahmed MuhammadAhmed Muhammad
  প্রকাশিত হয়েছেঃ   12 June 2022

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনে বিদেশ থেকে চিকিৎসক আনা যাবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

শনিবার (১১ জুন) বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

‘খালেদা জিয়ার দেশের বাইরে চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হোক। অন্যথায় সব দায়দায়িত্ব সরকারকে বহন করতে হবে’ মির্জা ফখরুলের এমন বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, সরকার কেন দায়দায়িত্ব নেবে। খালেদা জিয়া কি ফখরুল ইসলামদের আন্দোলনে মুক্ত হয়েছেন? শেখ হাসিনার উদারতা, মানবিকতায় খালেদা জিয়া মুক্ত হয়ে বাসায় আছেন। তার চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধা নেই। প্রয়োজন হলে বাইরে থেকে চিকিৎসক আনুক, অসুবিধা নেই। এ ব্যাপারটি আইন মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখছে, আমি আর কিছু বলতে চাই না।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা তথা উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের পথে আরেক ধাপ অতিক্রম করবে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, সফল রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার দেশপ্রেম, জনগণের প্রতি অকৃতিম ভালোবাসা, দৃঢ় মনোবল, সততা, নিষ্ঠা ও সাহসী নেতৃত্বে যে কোনো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র ও সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।

সেতুমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্ব অর্থনীতির বাস্তবতায় পৌনে ৭ লাখ কোটি টাকার এই বাজেট শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অর্জিত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রতিফলন। শেখ হাসিনার নিরবচ্ছিন্ন নেতৃত্বের কারণেই বাংলাদেশের অর্থনীতি গত দেড় দশকে একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছে।

পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার ঘোষণায় তারা উৎসাহী হবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা ঠিক সেভাবে দেখলে হবে না। দেশের অনেক টাকা পাচার হয়ে গেছে। অনেক দেশে এ ধরনের সুযোগ দেওয়া হয়। আমরাও সেই সুযোগটা দিচ্ছি। দেখি, যদি এই সুযোগের সুফল না আসে তাহলে আমরা সুযোগ উঠিয়ে নেবো। এই বাজেটের দেওয়া সুযোগে আমরা সুফল পেতে পারি।

মন্ত্রী বলেন, মির্জা ফখরুলসহ দেশের একটি চিহ্নিত মহল ক্রমাগতভাবে বাংলাদেশ থেকে বিদেশে অর্থ পাচার হচ্ছে বলে অভিযোগ করতেন। তাদের বক্তব্য যদি সত্য হিসেবে ধরে নেই, তাহলে ৭ শতাংশ করদানের মাধ্যমে যদি কেউ টাকা দেশে নিয়ে আসে তাহলে তো মির্জা ফখরুল সাহেবদের খুশি হওয়ার কথা। কিন্তু এখন তারা কেন অভিযোগ করছেন? অর্থপাচারের অভিযোগ তুলবেন, আর যখন আপনাদের কথা অনুযায়ী সে টাকা ফেরত আসে তখনও অভিযোগ করবেন সেটা তো আপনাদের দ্বিচারিতা।

তিনি বলেন, আমাকে বলতে হয় মির্জা ফখরুল সাহেব আপনি কী ভুলে গেছেন, আপনার নেত্রী খালেদা জিয়া দুই দফায় দেশের প্রধানমন্ত্রী থাকা অবস্থায় অনৈতিক ও অবৈধভাবে অর্জিত প্রায় দেড় কোটি কালো টাকা সাদা করেছিলেন এবং কর অফিসে জরিমানা হিসেবে ৩৪ লাখ টাকা দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের মানুষ জানে কারা দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে। খালেদা জিয়া দুই পুত্র দুর্নীতির টাকা সিঙ্গাপুর ও আমেরিকায় পাচার করেছে। পরে সরকার যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আংশিক টাকা দেশে ফেরত আনতে পেরেছেন।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরুল্লাহ, ড. আব্দুর রাজ্জাক, শাজাহান খান, জাহাঙ্গীর কবির নানক ও মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ ও ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও এস এম কামাল হোসেন, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন ও রিয়াজুল কবির কাওছার।

আপনার মতামত লিখুন :