সাভারে সেফলাইন বাসের সেই ঘাতক চালক মারা গেছেন

adminadmin
  প্রকাশিত হয়েছেঃ   07 June 2022

সাভারের মর্মান্তিক সড়ক দুই বিজ্ঞানীসহ ৪ জনের মৃত্যুর ঘটনায় ঘাতক বাসচালক মারা গেছেন। রবিবার সকালে সাভারে দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা সেই বাস চালককে উদ্ধার করে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ঢাকার শেরে বাংলা থানা পুলিশ প্রাথমিক সুরহাতাল করে মরদেহ ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন।

সোমবার (৬ জুন) রাত ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন রাজধানীর শেরে বাংলা থানার এস আই পলাশ চৌধুরী।

তিনি বলেন, রবিবার বিকালে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আহত অবস্থায় একজনের মারা গেছেন। এই খবরে হাসপাতালে গিয়ে নিহতের তথ্য সংগ্রহ করে মরদেহ ময়না তদন্তে পাঠানো হয়। নিহতের নাম মারুফ হোসেন মুন্না (২৪)। তিনি চাঁদপুর জেলার শাহারাস্তি থানার বোয়ালিয়া গ্রামের মোস্তাফা কামালের ছেলে। তিনি পেশায় গাড়িচালক ছিলেন। মিরপুর দারুস সালামের লালকুটি এলাকায় বসবাস করত।

এ বিষয়ে নিহতের দুলাভাই সৌরভ মিয়া বলেন, মারুফ হোসেন মুন্না সেফলাইন পরিবহনের বাস চালক ছিল। তার বয়স ২৪ বছর। গতকাল সাভারের বলিয়ারপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপালে ভর্তি করে। খবর পেয়ে হাসপাতালে যাই। জানতে পারি হাসপাতালে ভর্তির আগেই সে মারা যায়। পরে পুলিশ এসে ময়নাতদন্তে পাঠায়। ময়না তদন্ত শেষে আজ সোমবার রাতে তার মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর রওয়ানা হয়েছি। গত চার বছর ধরে গাড়ি চালায়।

এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সাভার হাইওয়ে থানার এস আই গোলাম মোস্তাফা বলেন, সেইফ লাইন পরিবহনের সেই বাসের চালক মারুফ হোসেন মুন্না মারা গেছেন। আজ সোমবার রাত ১০টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। বাসের মালিকের নাম ইকবাল। তবে মালিকরে বিস্তারিত পরিচয় পাইনি।

তিনি আরো বলেন, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি বাসটি কুষ্টিয়া থেকে ঢাকা। এই রোড়ে চলাচল করে। স্থানীয়দের মতে বাসটি সেদিন রাতে কুষ্টিয়া থেকে রওয়ানা ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। বাসটি দুই চারজন যাত্রী ছিল। কিন্তু তাদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি। যেহেতু মামলার আসামি মারা গেছে, ফলে ঊর্ধ্বতন অফিসারের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে বিআরটিএর সাভার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বলিয়ারপুরে দুর্ঘটনার জন্য দায়ী সেফলাইন নামের বাসটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৫৮৭৮। বিআরটিএর কাছে থাকা তথ্য অনুসারে বাসটির সড়কে চলাচলের অনুমতি (রোড পারমিট) নেই। এ ছাড়া বাসটির ফিটনেসের মেয়াদ ২০১৪ সালের ১৬ জুলাই এবং ট্যাক্সের মেয়াদ ২০১৫ সালের ২৪ মে শেষ হয়েছে।

প্রসঙ্গত, রবিবার (৫ জুন) সাভারের বলিয়ারপুরে সেফলাইন বাসের ধাক্কায় পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের স্টাফ বাসের চালক, ২ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও আরেক প্রকৌশলী নিহত হন। এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় ঘাতক বাসের অজ্ঞাত চালকের বিরুদ্ধে সাভার হাইওয়ে থানার এ এস আই ফজলুল হক বাদী হয়ে মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন ঘাতক বাসের চালক মারুফ।

দেশের খবর

আপনার মতামত লিখুন :