logo
শনিবার , ২১ মে ২০২২ | ২৩শে আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ক্যারিয়ার ভাবনা
  5. খেলা
  6. জাতীয়
  7. টেক নিউজ
  8. দেশের খবর
  9. প্রবাস
  10. ফিচার
  11. বিনোদন
  12. রাজনীতি
  13. লাইফস্টাইল
  14. সম্পাদকীয়
  15. সাফল্য

পানির নিচে ৫০০০ হেক্টরের ফসল

প্রতিবেদক
admin
মে ২১, ২০২২ ৫:৩২ পূর্বাহ্ণ

বন্যায় সিলেট জেলার প্রায় পাঁচ হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। এসব জমিতে বোরো ধান, আউশের বীজতলার পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন সবজির ক্ষেতও আছে। এতে কৃষকের ঘুম হারাম। ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তাঁরা। বন্যায় সহস্রাধিক পুকুরের এক হাজার ৩৩৭ মেট্রিক টন মাছও ভেসে গেছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত ৩০টি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝুঁকির মুখে আছে অন্য বাঁধগুলোও।

ভুক্তভোগী কৃষক ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বন্যায় তলিয়ে যাওয়া ফসলের মধ্যে এক হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের বীজতলা, এক হাজার ৭০৬ হেক্টর জমির বোরো ধান এবং এক হাজার ৪০০ হেক্টর জমির গ্রীষ্মকালীন সবজি রয়েছে। বন্যার আগে কৃষকের বিজতলা

ভালোভাবে প্রস্তুত করেছিলেন। কেউ কেউ বীজ লাগানো শুরু করেছিলেন।
সিলেটে বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোর অন্যতম কোম্পানীগঞ্জ। উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের কৃষক আশিক মিয়া বলেন, ‘সাত হেক্টর বোরো ধান চাষ করেছিলাম। পুরো জমিই এখন পানির নিচে। ধান সবেমাত্র পাকতে শুরু করেছিল। তোলার সময়টুকু পাইনি। ছয় দিন ধরে ফসল পানির নিচে। ধানের চিন্তায় রাতে ঘুম আসে না। ’ একইভাবে ছয় একর জমিতে বোরো ধান চাষ করা আটগ্রাম এলাকার ইসমাঈল হোসেন বলেন, ‘প্রয়োজনের তুলনায় অধিক শ্রমিক লাগিয়ে তড়িঘড়ি করে দেড় একর জায়গার ধান তুলতে পারলেও বাকিটা তলিয়ে গেছে। এখনো পানির নিচে সাড়ে চার একর জমির ধান। ডুবে থাকা ধান তোলা কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ বলে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। খুব দুশ্চিন্তায় আছি ধান নিয়ে। ’

জেলায় এক হাজার ৪০০ হেক্টরেরও বেশি জমির গ্রীষ্মকালীন সবজি এখন পানির নিচে। জকিগঞ্জ পৌরসভার হাইদ্রাবন্দ গ্রামের কৃষক নজমুল ইসলাম ধানের পাশাপাশি কুশিয়ারা নদীর তীর এলাকায় কয়েক একর জায়গাজুড়ে ঢেঁড়স, টমেটো, কাঁচকলাসহ বিভিন্ন রকমের মৌসুমি সবজি চাষ করেছিলেন। তার প্রায় সবটাই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘কয়েক হাজার টাকার কাঁচকলা তুলতে পারলেও বাকিটা সম্ভব হয়নি। আকস্মিক বন্যায় বাকিটা ডুবে গেছে। এতে ক্ষয়ক্ষতি হবে পাঁচ-ছয় লাখ টাকা।’

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার কৃষক বাছির মিয়া বলেন, ‘বন্যার পানিতে পাঁচ দিন ধরে তলিয়ে আছে আমার কষ্টের ফসল। পাঁচ হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে। এ ছাড়া এবার সবজি চাষও করেছিলাম। সেগুলোও পানির নিচে।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেটের উপপরিচালক মোহাম্মদ কাজী মজিবুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বোরো ধানের বেশির ভাগ কাঁচা ছিল। সেগুলো বন্যার পানিতে ডুবে গেছে। তা ছাড়া এবার আউশের মৌসুম বেশ ভালোভাবে শুরু হয়েছিল। কৃষকদের অনেকে বীজতলা তৈরির কাজ শেষ করেছিলেন। অনেকে চারা রোপণও শুরু করেছিলেন। কিন্তু বন্যায় সব ডুবে গেছে। ’ এখনো পুরোপুরি হতাশ হওয়ার সময় আসেনি জানিয়ে তিনি বলেন, যদি দ্রুত পানি নেমে যায়, তাহলে হয়তো ফসলের বেশির ভাগ রক্ষা করা সম্ভব হবে। গ্রীষ্মকালীন ফসল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সবজি তুলনামূলক সহজে নষ্ট হয় না। বন্যার পানি চলে গেলে সেগুলো আবার পরিচর্যা করে কাজে লাগানোর সম্ভাবনা আছে।

জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত ৩০টি বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝুঁকির মুখে আছে অন্য বাঁধগুলোও। বিশেষ করে জকিগঞ্জ উপজেলার বাঁধগুলো ২৫ থেকে ৩০ বছরের পুরনো। দীর্ঘ সময় ধরে সংস্কার না হওয়ায় এগুলো দুর্বল হয়ে পড়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সিলেট জেলার ৩০টি স্থানে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ’ অমলসিদে কুশিয়ারার ডাইক (বাঁধ) ভাঙায় অন্য উপজেলার মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই জানিয়ে তিনি বলেন, এখানে ডাইক ভাঙার কারণে জকিগঞ্জ পুরোটাই প্লাবিত হয়েছে। তবে এ কারণে অন্য উপজেলা আক্রান্ত হবে না। বাঁধ নিয়ে একটি প্রস্তাব পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘উপজেলার বাঁধগুলো আরো প্রশস্ত এবং তিন মিটার উঁচু করা দরকার। এসংক্রান্ত একটি প্রকল্প আমরা পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি ২০২০ সালে। অনুমোদিত হলে তখন বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা যাবে। ’

সর্বশেষ - রাজনীতি