বিএনপির মুখে অর্থ পাচার নিয়ে কথা মানায় না: তথ্যমন্ত্রী

adminadmin
  প্রকাশিত হয়েছেঃ   17 May 2022

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেছেন, যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও তাঁর ভাই অর্থ পাচারের দায়ে আদালতে দণ্ডিত, যাদের চেয়ারপারসন ‘কালোটাকা সাদা করেছেন’, যাদের আমলে দেশ পরপর পাঁচবার দুর্নীতিতে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়, তাদের মুখে অর্থ পাচার নিয়ে কথা বলা মানায় না।

আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মিলনায়তনে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপকমিটি আয়োজিত ‘ঐতিহাসিক ১৭ মে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রে উত্তরণ এবং সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পি কে হালদার ধরা পড়ার পর বিএনপি নেতারা অর্থ পাচার নিয়ে নানা কথা বলছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের অর্থ পাচারের বিষয়ে এফবিআই এসে সাক্ষ্য দেয়, তার ভাইয়ের অর্থ পাচার সিঙ্গাপুরে উদ্‌ঘাটিত হয় এবং সেই অর্থ ফেরত আনা হয় ও দুর্নীতির কারণে তারা তো বিশ্বচোর ছাড়া কিছু নয় এবং বয়সে আমার জ্যেষ্ঠ ফখরুল সাহেবের প্রতি যথাযথ সম্মান রেখেই অপ্রিয় হলেও সত্য একটি কথা বলতে চাই, তিনি সেই বিশ্বচোরের মুখপাত্র।’

হাছান মাহমুদ আরও বলেন, ‘যারা এই ধরনের অর্থ পাচার করেছে, আমরা সেগুলো উদ্‌ঘাটন করছি, তাদেরকে আইনের আওতায় আনছি এবং সেই কারণেই পি কে হালদার ধরা পড়েছে।’

আরও কারা অর্থ পাচার করেছে, তা জানা আছে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আস্তে আস্তে সেগুলোও আপনারা জানতে পারবেন। আমরা সেগুলো উদ্‌ঘাটন করছি। জননেত্রী শেখ হাসিনা সেগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ

সরকারকে শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক দুরবস্থার উদাহরণ দেওয়াকে বিএনপির অনর্থক অপপ্রচার হিসেবে বর্ণনা করেন হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘শ্রীলঙ্কার উদাহরণ বাংলাদেশকে দিয়ে লাভ নেই। যে দেশ নিজের টাকায় পদ্মা সেতু করে, যে দেশ শ্রীলঙ্কাকে ২০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেয় এবং ফেরত দিতে পারছে না বিধায় ঋণ পরিশোধের সময়সীমা আমরা বাড়িয়ে দিয়েছি, সেই দেশ, সেই সরকারকে এই উদাহরণ দেওয়া অনর্থক এবং অপপ্রচার।’

বিএনপি সমাবেশের নামে নিজেরাই মারামারি করে উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আন্দোলনের কথা বলে বিএনপি সারা দেশে সমাবেশের নামে নিজেরাই মারামারি করে। আমরা এখনো মাঠে নামি নাই, যদি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হয়, আমরা মাঠে নামব। যারা উঁচু গলায় বক্তৃতা করেন, কী হলে, কী করলে তারা গর্তে লুকাবেন, সেটা আমরা ভালো করেই জানি।’

এর আগে বক্তৃতায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘১৯৮১ সালের ১৭ মে প্রকৃতপক্ষে ব্যক্তি শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ছিল না, অন্যায়–অনাচারের বিরুদ্ধে বলিষ্ঠকণ্ঠের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন হয়েছিল।’

আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপকমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক খন্দকার বজলুল হকের সভাপতিত্বে বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় শেখ হাসিনার ৪১তম স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। অন্যদের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য আবদুস সামাদ, সামাজিক বিজ্ঞানের অধ্যাপক সাদেকা হালিম, প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ, কলাম লেখক সুভাষ সিংহ রায়।

আপনার মতামত লিখুন :