পদ্মার বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পকাজের অগ্রগতি, সন্তুষ্টি প্রকাশ সেনাপ্রধানের

adminadmin
  প্রকাশিত হয়েছেঃ   17 April 2022
পদ্মার বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পকাজের অগ্রগতি, সন্তুষ্টি প্রকাশ সেনাপ্রধানের

ঢাকার দোহার উপজেলার মাঝিরচর থেকে নারিশা বাজার হয়ে মোকসেদপুর পর্যন্ত পদ্মা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি পরিদর্শন করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ। প্রকল্পকাজের অগ্রগতি দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।

শনিবার (১৬ এপ্রিল) সেনাপ্রধান প্রকল্প পরিদর্শন করেন বলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

আইএসপিআর জানায়, এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা এবং দোহার-নবাবগঞ্জের (ঢাকা-১) সংসদ সদস্য সালমান এফ রহমান, সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য বক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় পদ্মা সেতুর উজানে ঢাকা জেলার দোহার উপজেলার মাঝিরচর থেকে নারিশা বাজার হয়ে মোকসেদপুর পর্যন্ত পদ্মা নদীর বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের অধীনস্থ ২৫ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন।

উন্নত দেশের মর্যাদা অর্জনের লক্ষ্যে রূপকল্প-২০৪১ অনুযায়ী শিল্পায়নকে অগ্রাধিকার প্রদান করছে বর্তমান সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকার দোহারে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলে শিল্পায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। তবে এই বিপুল সম্ভাবনার পথে হুমকি প্রমত্তা পদ্মার ভাঙন।

আরও পড়ুন: আমদানিকারক থেকে ডিজিটাল ডিভাইস রপ্তানিতে বাংলাদেশ: পলক

এই হুমকি মোকাবিলায় বাম তীর সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় যে দুটি মূল কাজ করা হচ্ছে তা হলো- দোহারে পদ্মা নদীর বাম তীর ঘেঁষে ৬ কিলোমিটার বাঁধ প্রতিরক্ষা এবং ১২.২০ কিলোমিটার ড্রেজিং।

আইএসপিআর জানায়, ইতোমধ্যে ২৫ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের সদস্যদের প্রচেষ্টায় ৬ কিলোমিটার এলাকায় জিওব্যাগ ডাম্পিং ও প্লেসিংয়ের মাধ্যমে দোহার এলাকাকে পদ্মার ভাঙন থেকে রক্ষা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ৬ কিলোমিটার স্থায়ী বাঁধ প্রতিরক্ষা কাজের ৩.৪৮ কিলোমিটার সম্পন্ন হয়েছে। বাকি ২.৫২ কিলোমিটার স্থায়ী প্রতিরক্ষামূলক কাজ চলমান রয়েছে।

প্রকল্পটি ২০১৮ সালের ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদে (একনেক) অনুমোদিত হয়। ২০১৯ সালের এপ্রিলে ২৫ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন কর্তৃক প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা হয়।

এছাড়াও, আইডব্লিউএম-এর হাইড্রোলজিক্যাল ও মরফোলজিক্যাল স্টাডির সুপারিশ মোতাবেক গত ১৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১২.২০ কিলোমিটার ড্রেজিংকাজ শুরু হয়েছে। এই বর্ষা মৌসুমের আগেই প্রকল্পের ৫০ শতাংশ ড্রেজিংকাজ সম্পন্ন করা হবে। বাকি কাজ ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে বর্ষা মৌসুমের আগেই সম্পন্ন হবে বলে।

আইডব্লিউএম-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আওরাঙ্গবাদ থেকে শাইনপুকুর পর্যন্ত ১৯.২০ কিলোমিটার প্রিকশনারী নদীর তীর প্রতিরক্ষাকাজ আরডিপিপি’তে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ২০২৪ সালের জুন মাসের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কাজ করে চলেছে বলে আইএসপিআর-এর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

জাতীয়

আপনার মতামত লিখুন :