মেয়র জাহাঙ্গীরের ভাগ্য সরকারের হাতে

adminadmin
  প্রকাশিত হয়েছেঃ   21 November 2021

দল থেকে বহিষ্কারের পর গাজীপুর সিটি করপোরেশনে জাহাঙ্গীর আলমের মেয়র পদ থাকবে কিনা তা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সিটি করপোরেশন আইন অনুযায়ী, দল থেকে বহিষ্কার হলেও মেয়র পদে থাকতে আইনগত বাধা নেই। তবে সরকার চাইলে অন্য কৌশলে তাকে অপসারণ করতে পারে। এতে তিনটি পথ খোলা আছে। শুক্রবার গাজীপুর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকারকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। দলের নেতাদের মতে, এ বহিষ্কারাদেশ দলের নেতাকর্মীদের জন্য কঠোর বার্তা।

এদিকে দলীয় প্রতীকে সিটি করপোরেশন নির্বাচন শুরুর পর এই প্রথম কোনো মেয়রকে দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনা ঘটল। সিটি করপোরেশন আইনে দল থেকে বহিষ্কার হলে প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত মেয়রের কী হবে সে বিষয়ে কিছুই বলা নেই। যেটা সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে রয়েছে। আইনে সরাসরি কিছু উল্লেখ না থাকায় জল্পনা-কল্পনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সিটি করপোরেশন আইন অনুযায়ী, মেয়রের বিরুদ্ধে আদালতে কোনো মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ হলে তাকে সরিয়ে দিতে পারে সরকার। তবে এ প্রক্রিয়াটি দীর্ঘ। মেয়রকে পদ থেকে সরানোর আরও দুটি সহজ উপায় আইনে আছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। প্রথমত, তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ আনা। দ্বিতীয়ত, কাউন্সিলরদের মাধ্যমে অনাস্থা প্রস্তাব উত্থাপন। তবে সরকার কোন পথে হাঁটবে তা এখনো পরিষ্কার নয়। শনিবার রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়রকে দলীয় সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তিনি মেয়র পদে থাকবেন কি থাকবেন না সেটা আইন পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সাবেক নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক মনে করেন, আইনে পরিষ্কার কিছু উল্লেখ না থাকলে মেয়রকে সরাসরি কিছু করা যাবে না। তবে সরকারের হাতে অনেক ধরনের সুযোগ থাকে। ইচ্ছা করলে যে কোনো একটি কাজে লাগানো যাবে।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, দলীয় পদ থেকে অপসারণ হলেই মেয়র পদ চলে যাবে এমন কোনো বিধান নেই। তবে সরকার চাইলে সিটি করপোরেশনের একজন মেয়রকে অনেক পথেই অপসারণ করতে পারে। অসদাচরণ বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য মেয়রকে প্রথমে সাময়িক বরখাস্ত করা যেতে পারে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলররা মেয়রের বিরুদ্ধে অনাস্থা আনতে পারেন। সিটি করপোরেশন আইনে ‘অসদাচরণ’র সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, ক্ষমতার অপব্যবহার, এ আইন অনুযায়ী বিধিনিষেধ পরিপন্থি কার্যকলাপ, দুর্নীতি, অসদুপায়ে ব্যক্তিগত সুবিধা গ্রহণ, পক্ষপাতিত্ব, স্বজনপ্রীতি, ইচ্ছাকৃত অপশাসন, নির্বাচনি ব্যয়ের হিসাব দাখিল না করা বা অসত্য তথ্য দেওয়াকে বোঝানো হয়েছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, মেয়র জাহাঙ্গীরের এ বহিষ্কারাদেশের মাধ্যমে দেশের নেতাকর্মীদের কঠোর বার্তা দিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির পিতাকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ালে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের অবশ্যই শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির পিতা এ দুটি বিষয়ে আওয়ামী লীগ কখনো কম্প্রোমাইজ করবে না। কেউ যদি কখনো এ দুটি বিষয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেয় তার বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের কঠোর অবস্থান থাকবে। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন বলেন, জাহাঙ্গীরের শাস্তির এ মেসেজটা সারা দেশের অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা হয়ে রইল।

জাহাঙ্গীর আলম ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে গাজীপুরের মেয়র নির্বাচিত হন। সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু এবং গাজীপুরের কয়েকজন স্থানীয় নেতার নামে আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগে শুক্রবার তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। যদিও জাহাঙ্গীর আলম দাবি করছেন তার বক্তব্য সম্পাদনার মাধ্যমে তাকে ফাঁসানো হয়েছে।

জাতীয়

আপনার মতামত লিখুন :