নেত্র নিউজ: মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের ইতিহাস বিকৃতিই যাদের মূল এজেন্ডা

adminadmin
  প্রকাশিত হয়েছেঃ   31 October 2021

বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচারের গুদামঘর হিসেবে ইতোমধ্যে মুখোশ খুলে গেছে নেত্র নিউজের। তবে তাসনিম খলিল ও ডেভিড বার্গম্যানের নেতৃত্বে প্রকাশিত এই প্রোপাগাণ্ডা ওয়েব সাইটের পরিকল্পনা আরো ভয়াবহ। মূলত মার্কিন গোয়েন্দাদের তত্ত্বাবধানে আমেরিকার বেসরকারি সংস্থা এনইডি-এর অর্থায়নে এটি প্রতিষ্ঠা করা হয়। তবে বিভিন্ন এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য বিএনপি-জামায়াত ও পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই থেকেও প্রচুর ডলার দেওয়া হয় এর দুই সম্পাদককে। একারণে বাংলাদেশের রক্তস্নাত ইতিহাস বিকৃতি করতেও উঠে পড়ে লেগেছে আন্ডারগ্রাউন্ড এই পোর্টালটি। তারই অংশ হিসেবে ১ জুলাই (২০২১) আইএসআই-এর অর্থায়নে তৈরি একটি বিকৃত গ্রন্থের সাফাই প্রকাশ করা হয়েছে নেত্র নিউজে।

এক দশক আগে “ডেড রেকনিং: মেমরিস অফ দা নাইনটিন সেভেন্টি ওয়ান বাংলাদেশ ওয়ার” নামে একটি গ্রন্থ লেখেন শর্মিলা বসু নামের এক আমেরিকান নারী। সেসময় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতির জন্য দেশ-বিদেশে ধিকৃত হতে হয় এই আমেরিকান লেখককে। এমনকি ১৯৭১ সালের যুদ্ধাকারে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সংবাদদাতা হিসেবে কর্মরত সাংবাদিকরাও প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন। কিন্তু সম্প্রতি তাসনিম খলিলের সঙ্গে যোগসাজস করে সেই বইয়ের পক্ষে সাফাই দিয়ে নেত্র নিউজে লেখা প্রকাশ করেছেন শর্মিলা বসু। তিন পুরুষ আগে শর্মিলার পূর্বপুরুষরা ভারতের অধিবাসী হলেও, আমেরিকায় থাকাকালে এক পাকিস্তানির সঙ্গে প্রণয়ে জড়ান তিনি। এরপর থেকে আইএসআই-এর সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচার চালিয়ে আসছেন।

নেত্র নিউজে প্রকাশিক তার লেখায় তিনি আবারো বলেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে কোনো গণহত্যা হয়নি। পাকিস্তানিরা কোনো গণহত্যা চালায়নি। উল্টো মুক্তিযোদ্ধাদেরই তিনি গণহত্যাকারী বলে দায় চাপিয়েছেন। এমনকি এই যুদ্ধে আত্মদানকারী মানুষদের নিয়েও ব্যঙ্গবিদ্রুপ করেছেন তিনি। তার দাবি, ১৯৭১ সালের যুদ্ধে ত্রিশ লাখ লোক প্রাণ হারায়নি, বাঙালি ও পাকিস্তানি মিলিয়ে মাত্র সর্বনিম্ন ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ১ লাখ লোক প্রাণ হারিয়েছেন। এমনকি এই যুদ্ধে পাকিস্তানি জান্তা কর্তৃক সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ইতিহাসও অস্বীকার করেছেন তিনি। নিজে গবেষণা করে তিনি এসব তথ্য আবিস্কার করেছেন বলে দাবি করেছেন।

এছাড়াও বাংলাদেশের বিএনপি-জামায়াত জোটের অন্যতম নেতা ড. কামাল হোসেনের জামাই ডেভিড বার্গম্যানের বরাত দিয়ে তিনি বলেছেন- ব্রিটিশ নাগরিক ডেভিড বার্গম্যানও গবেষণা করে কয়েকটি স্থানে গণহত্যার তথ্য পাননি। এখানে উল্লেখযোগ্য যে, জামায়াতের নেতাকর্মীরা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে ছিল। তারা বিভিন্ন বাহিনীতি ভাগ হয়ে পাকিস্তানি জান্তাদের সঙ্গে লুটপাট-খুন-ধর্ষণ-গণহত্যায় সহায়তা করেছে। পরবর্তীতে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে তাদের অনেকের বিচার অনুষ্ঠিত হয়। বিচারকে বাধাগ্রস্ত করতে কোটি কোটি ডলার খরচ করে পশ্চিমা লবিস্ট নিয়োগ করে জামায়াত-বিএনপির নেতারা। এমনকি ১৯৭১ সালে তাদের অপকর্মের সঙ্গীদের বাঁচাতে মরিয়া হয়ে ওঠে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। এসময় তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ডলার পান ব্রিটিশ নাগরিক ডেভিড বার্গম্যান। তিনি বিভিন্ন ব্লগে মানবতাবিরোধীদের বিচারের বিরুদ্ধে নিয়মিত লেখা শুরু করেন।

শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটাক্ষ করে বক্তব্য দেওয়ার কা্রণে আদালতেও দোষী প্রমাণিত হন এই শ্বেতাঙ্গ বার্গম্যান। এরপর বাংলাদেশ থেকে চলে যান তিনি। যুক্তরাজ্যে ফিরে বাংলাদেশবিরোধী উগ্রবাদী অংশটার মুখপাত্র হিসেবে কাজ করতে থাকেন। আল জাজিরার কন্ট্রিবিউটর হিসেবে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী খুনি ও ধর্ষকদের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করার লক্ষ্যে সংবাদ পরিবেশন করেন। এমনকি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে জামায়াত-বিএনপি জোটের লবিস্ট হিসেবে ম্যানেজ করে দেওয়ার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।

তাসনিম খলিল ও বার্গম্যান গংদের সূত্র হিসেবে ব্যবহার করে ইকোনোমিস্ট, আল জাজিরার মতো পত্রিকাগুলো বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণার রসদ জোগাড় করে। কিন্তু তারপরেও তাদের সব অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। এরপর করোনা মহামারিকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে প্রচারের জন্য উঠে পড়ে লাগে বার্গম্যান-তাসনিম খলিলরা। এমনকি প্রধানমন্ত্রী ও সেনাবাহিনীকে নিয়ে ড্রামা প্রকাশ করে তারা। কখনো নিজেদের অনলাইনে সরাসরি এসব বিভ্রান্তি ও উস্কানি ছড়াচ্ছে তারা আবার কখনো নিজেরাই বিশেষজ্ঞ হিসেবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোকে বাংলাদেশ সম্পর্কে মনগড়া মতামত দিচ্ছে।

তবে সম্প্রতি শর্মিরা বসুর যে সাফাই তারা প্রকাশ করেছে, সেটিতে তাদের নগ্ন বাংলাদেশবিরোধিতা সাধারণ মানুষের চোখেও লেগেছে। বেশ কয়েকজন পাকিস্তানি সেনার বই থেকে এই যুদ্ধে তাদের বর্বরতার কথা প্রতীয়মান হরেও, শর্মিলা বসু শুরু নিয়াজীর বই থেকে কয়েকটি তথ্যকে সত্য বলে দাবি করেছেন। আর তার তথ্য মতে, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে কোনো যুদ্ধাপরাধ হয়নি। কোনো গণহত্যা হয়নি। কোনো ধর্ষণ হয়নি। ধর্ষণের বিরুদ্ধে সাফাই গাইতে গিয়ে এই নারী যে যুক্তি দিয়েছেন তা শুনলে যেকোনো বিবেকবান মানুষের লোম শিউরে উঠবে।

শর্মিলা বসু দাবি করেন, ধর্ষণের অভিযোগ করেছেন এমন কয়েকটি কেস স্টাডি থেকে তিনি দেখেছেন যে- ওই নারীরা অশিক্ষিত, তথা উচ্চ শিক্ষা নাই। তাই তাদের অভিযোগকে বাতিল করে দিয়েছেন তিনি। আরো ভয়াবহ ব্যাপার হলো, এই যুদ্ধে পাকিস্তানি জান্তাদের কর্তৃক ২৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া গণহত্যা ও ১৪ ডিসেম্বরের বুদ্ধিজীবী হত্যার ঘটনাকে তিনি অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, এসব কোনোটাই গণহত্যা না। এসব রাজনৈতিক কারণে সংঘটিত হয়েছে।

তবে দীর্ঘদিন ধরে আইএসআই-এর অর্থায়ন ও দিকনির্দেশনায় তিনি এসব বিকৃত তথ্যে একটি অপাঠযোগ্য বই লিখলেও কোথাও পাত্তা পাননি। উল্টো ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্বের সংবাদ সংগ্রহ করা আন্তর্জাতিক সাংবাদিকরাও ধিক্কার জানিয়েছেন তাকে। তবে এক দশক পর, বাংলাদেশ থেকে পলাতক তথাকথিত সাংবাদিক তাসনিম খলিল ও যুদ্ধকালে বাংলাদেশের স্বাদীনতার বিরোধিতাকারী আমেরিকার টাকায় পরিচালিত নেত্র নিউজ তার পক্ষে সাফাই গাইতে মাঠে নেমেছে। আর কখনো সাংবাদিকতার শিক্ষা না থাকা এবং মূল ধারার সাংবাদিকতায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা না থাকলেও আমেরিকার এজেন্সি তাসনিম খলিল ও বার্গম্যানের হাতেই তুলে দিয়েছে এই নেত্র নিউজের সম্পাদকের দায়িত্ব। তাই সেই আন্তর্জাতিক চক্র ও তাদের দেশীয় উগ্রবাদী দোসরদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশকে নিয়ে নিয়মিত বিতর্ক সৃষ্টিতে ব্যস্ত রয়েছে তারা। এমনকি সম্প্রতি প্রকাশিত ডেভিড বার্গম্যানের একটি প্রোপাগান্ডা নিউজেও সে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও বাঙালি জাতির মুক্তিদাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়েও নেতিবাচক মন্তব্য করেছে।

জাতীয়

আপনার মতামত লিখুন :