ধর্মের কল বাতাসে নড়ে

adminadmin
  প্রকাশিত হয়েছেঃ   01 June 2021

ধর্মের কল বাতাসে নড়ে ‘কুত্তার বাচ্চা, এই তুই কি বললি,কুত্তার বাচ্চা’ ডায়লগটা কি শোনা শোনা লাগে? কুত্তার বাচ্চা গালি দিয়ে খ্যাত হয়েছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম দূর্ধর্ষ নায়ক মারুফ। এই ডায়লগটি ব্লগে আনার উদ্দেশ্য হচ্ছে আমি আজকে এমন এক ব্যক্তির কথা বলতে যাচ্ছি যার কোন ভিডিও ভুলক্রমেও যদি শুনে থাকি তাহলে আমার কানে মারুফের এই ডায়লগটি অটো বাজতে থাকে –‘কুত্তার বাচ্চা, এই তুই কি বললি,কুত্তার বাচ্চা’
এই লোক এক্স কর্নেল শহীদ উদ্দিন ছাড়া আর কেউই নয়। এই লোকের চামড়া এত মোটা হয়েছে যে হাজার গালি গালাজ খেয়েও এর কিছুই হয় না। মোটা চামড়ায় ভেদ করার বদলে ব্যাক করে চলে যায়। এই সতিবাদী যুধিষ্ঠি মূখোশধারী শহীদ উদ্দিন দেশের সেনাবাহিনীতে কর্মরত একজন অফিসার ছিলেন এবং হেন কোন অপরাধ নেই যা তিনি সেনাবাহিনীতে কর্মরত অবস্থায় করে নি। অতঃপর তার থলের বিড়াল বের হয়ে গেলে সে গোল্ডেন ভিসায় তল্পিতল্পা নিয়ে লন্ডনে পাড়ি জমায়। বিদেশে পাড়ি জমিয়ে সে দুধে ধোয়া তুলসি পাতা হয়ে গেছে। সে দাবি করে তার কোন অপকর্ম নেই সারা জীবনে এবং তার বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। সে প্রতিনিয়ত লাইভ হয়ে দেশ এবং রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে উল্টাপাল্টা মন্তব্য করেই যাচ্ছে ননস্টপ। তার সাথে বিভিন্ন অনলাইন এক্টিভিস্টদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তার মধ্যে তাসনিম খলিল, ড. কনক সরওয়ার, এ কে এম ওয়াহিদজ্জুমান, ইলিয়াস হোসেন উল্লেখযোগ্য। কথায় আছে না চোরে চোরে মাসতুতো ভাই।
ব্যাটা তুই জীবনে যে পরিমাণ অপরাধ করসস তার লিস্ট করতে বসলে পোস্টের ওয়ার্ড লিমিট ফুরায় যাবে তাও লিস্ট শেষ হবে না।
– তুই তিন অর্থবছরে ১৭ কোটি ৬ লাখ ৪০ হাজার ১০৭ টাকা আয়কর ফাঁকি দিয়েছিস।
– মানুষের একটা ব্যাংক মেইন্টেইন করতেই জীবন যায় সেখানে তোর আটটি ব্যাংক হিসাবে জমা ছিল ৪০ কোটি ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৪৬৫ টাকা। কয়জন সৎ লোকের আটটা ব্যাংক একাউন্ট আছে একটু হিসাব দিস তো।
-২০১৯ সালে ১৭ জানুয়ারি রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় তোর বাসায় অভিযান চালিয়ে দুটি পিস্তল, ছয়টি গুলি ও দুটি শটগান উদ্ধার করা হয়।
– ভারত ও বাংলাদেশের বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের পেছনে অর্থলগ্নি করার মতো অভিযোগও রয়েছে তোর বিরুদ্ধে। মধ্যপ্রাচ্য ভিত্তিক অস্ত্র পাচারকারী সংগঠনের মূল হোতা দাউদ ইব্রাহিমের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে অস্ত্র ব্যবসায় প্রায় ১০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছিলি মনে পড়ে?
-তুমি বাবা ভারতে জাল টাকার বাণিজ্যের সঙ্গেও জড়িত।
– আজ থেকে ১৫ বছর পূর্বে মাদক চোরাচালানসহ একাধিক নৈতিক স্খলনজনিত অভিযোগের কারণে তোমাকে যে বরখাস্ত করা হয় তা মনে পড়ে?
– অন্তত ১২টি মামলার কার্যক্রম তোর ও তোর পরিবারের বিরুদ্ধে চলমান রয়েছে।
– সকল উওরাধিকারকে কচু দেখিয়ে নিজে এবং নিজের বউ মিলে ডেসটিনি বন্দিশাহী কোল ষ্টোরেজ লিমিটেডের সব টাকা লুটেপুটে খেয়েছিস আর সবচেয়ে মজার কথা সে তার একটি লাইভে বলছিলো সে কোল্ড স্টোরেজের ব্যবসা এবং মিরপুরে একটি জমি বিক্রির মাধ্যমে ভালো অর্থশালী হয়েছি। কি কোল্ড স্টোরেজের ব্যবসা ছিলো তা তো দেখাই গেল
– ২০০৪ সালের অনুষ্ঠিত একটি কোর্ট মার্শালে বিভিন্ন অনিয়মের প্রেক্ষিতে তার বিরুদ্ধে সর্বমোট ২৮টি অভিযোগে চার্জ গঠন করা হয়।
-এছাড়া বিদেশে তার নিজ স্ত্রী এবং মেয়ের অশালীন অপকর্মের কথা আর উল্লেখ নাই করলাম। নিজ ঘরের চাল চুলার ঠিক নেই যার সে লাইভে চলে আসে পুরো দেশকে ঠিক করতে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয় থেকে ২০০৯ সালের দিকে তার পক্ষে একটি আদেশ আসে যে তাকে বরখাস্তের পরিবর্তে স্বাভাবিক অবসর দেওয়া হোক এবং ২০১০ সালের দিকে তার পদন্নোতিসহ অবসর সংক্রান্ত আরেকটি প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। কিন্তু তার উপরোক্ত অপরাধসহ আরো না জানা অসংখ্য অপরাধের কথা মাথায় রেখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা নাকচ করে দেয় যা যথার্থ কাজ বলে আমি মনে করি।
পরিশেষে বলবো দেশে থাকাকালীন সময়ে কর্নেল শহীদ দেশবিরোধী অনেক অনৈতিক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত ছিলেন, যার ফলশ্রুতিতে তিনি অনেক অবৈধ সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। এখন সে রাজনৈতিক আলোচনার নামে বিদেশে বসে রাষ্ট্র ও সরকারবিরোধী গুজব ছড়িয়ে উস্কানি দিচ্ছেন। আপনারা দেশের শত্রুকে চিনুন এবং এসব উস্কানী এড়িয়ে চলুন।

জাতীয়

আপনার মতামত লিখুন :