করোনার কারণে বিএনপির সব কর্মসূচি স্থগিত

admin2admin2
  প্রকাশিত হয়েছেঃ   25 March 2021

দেশে করোনা পরিস্থিতিতে আগামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত দলের সুবর্ণজয়ন্তীর সকল কর্মসূচি স্থগিত করেছে বিএনপি। বুধবার (২৪ মার্চ) বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এই ঘোষণা দেন। গুলশানের চেয়ারপারসন কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই সময় উপস্থিত ছিলেন।

মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে দেশে করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর ও বিপজ্জনক অবস্থায় উপনীত হয়েছে। চলতি সপ্তাহে করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গতকাল ২৪ ঘণ্টায় শনাক্তের সংখ্যা ছিল ৩৫৫৪ জন, যা গত ৯ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যা।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের সার্বিক করোনা পরিস্থিতি ও বিদেশি মেহমানদের স্বাগত জানানো ও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সংক্রমণের ঝুঁকি যে পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে তার প্রেক্ষাপটে দেশের জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং করোনা সংক্রামণ বৃদ্ধিতে জনমনে আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিএনপির সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচি আগামী ৩০ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করা হলো। করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে আমাদের গৃহীত কর্মসূচিগুলো পুনরায় নতুন তারিখ নির্ধারণ করে বাস্তবায়ন করবো।’

বিএনপির স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানের মধ্যে ২৫ মার্চ আলোচনা সভা, ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর র‌্যালি ও ৩০ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সুবর্ণজয়ন্তীর সমাবেশ ছিল। এসব কর্মসূচির কোনোটিরই ‘এখনও’ অনুমতি পায়নি বলেও জানান খন্দকার মোশাররফ।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘সারাদেশে আমাদের নেতাকর্মীদের প্রতি একটাই অনুরোধ থাকবে- সবাই মাস্ক পরবেন, সবাই নিরাপদ দুরত্ব বজায় রাখবেন এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন। আর কোথাও ভিড় করবেন না, অতিরিক্ত ভিড়ে গিয়ে নিজেকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবেন না।’

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আজকে আমার একজন সিনিয়র ডাক্তারের সঙ্গে কথা হচ্ছিল। উনি তো আমার ওপরে রেগেই গেলেন একরম যে, এখনও কেনও আপনারা এই সমস্ত করছেন, এই মুহূর্তে বন্ধ করেন এগুলো। গোটা জাতি আজকে ঝুঁকির মধ্যে আছে। ভয়াবহ আক্রমণ করছে এই ভাইরাস। তাই সরকারের উচিৎ হবে অবিলম্বে সমস্ত কর্মসূচি স্থগিত করে করোনার দিকে দৃষ্টি দেওয়া এবং করোনা সংক্রমণ কম হয় তার ব্যবস্থা করা।’

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা তো সরকারকে সব কর্মসূচি, সব অনুষ্ঠান বন্ধ করতে বলছি।’

তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বের করোনা সংক্রমণ মোকাবিলাকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন। কিছুদিন আগে আমি সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলাম। সেখানে দেখলাম সবাই মাস্ক পরে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে। সেখানে কিন্তু এরকম প্রবণতা নেই।’

ফখরুল বলেন, ‘প্রথম দিকে আপনাদের মনে আছে প্রচুর আর্মি নামিয়ে দেওয়া হলো, তারপর সব তুলে নেওয়া হলো। এখন এই যে, ভয়ঙ্কর দ্বিতীয় পর্যায়ে আক্রমণ শুরু হয়েছে এই আক্রমণ মনে হচ্ছে যে, আগের মতো দুর্বল না। আরও বেশি শক্তিশালী। আপনারা নিশ্চয় লক্ষ্য করছেন যে, যারা আক্রান্ত হচ্ছেন তাদেরকে অল্প সময়ের মধ্যে হাসপাতালে যেতে হচ্ছে, শ্বাসকষ্ট হচ্ছে এবং সেখানে আইসিইউ না পেয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ঘুরতে হচ্ছে।’

গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব আবদুস সালাম ও প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী উপস্থিত ছিলেন

দেশের খবর

আপনার মতামত লিখুন :