আল জাজিরার প্রতিবেদনটি অসত্য এবং বিভ্রান্তিমূলক

adminadmin
  প্রকাশিত হয়েছেঃ   07 February 2021

নিউজ ডেস্ক : সম্প্রতি বাংলাদেশকে নিয়ে করা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরার একটি প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা এবং সমালোচনা হচ্ছে। মূলত প্রতিবেদনটির কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণেই সৃষ্টি হয়েছে ধূম্রজাল।

প্রতিবেদনটিতে মালয়েশিয়া সফরে সেনাপ্রধান বিমান ভ্রমণে মোবাইল ফোনের গোপন ভিডিও ধারণের অংশটি অত্যন্ত কৌশলে এডিট করা বলে বিবেচিত। কারণ মোবাইল ফোনের নম্বর লিস্টের ক্ষুদ্র বর্ণ ধারণ করার মতো ক্ষমতা সাধারণত স্পাইক্যামের থাকে না।

আল জাজিরার রিপোর্টে সেনাপ্রধানের বিদেশে ভাইদের সাথে দেখা করার বিষয়টির স্বপক্ষে কোন প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি। দেশের বাইরে সেনাপ্রধান এবং তার ভাইদের একসাথে থাকার কোন ছবি কিংবা ভিডিও দেখানো হয়নি।

সেনাপ্রধানের তথাকথিত কথোপকথনের রেকর্ডটি ভুয়া বলে বিবেচিত হয়। যদি মোবাইলে কারও সাথে কথার রেকর্ড হতো তবে উভয় দিকের কণ্ঠ থাকতো। অপরপক্ষ থেকে কোন কণ্ঠ শোনা যায়নি।

সেনাপ্রধান সামিকে যে সমস্ত ই-মেইল পাঠিয়েছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে তার কোনো ওয়েব পেইজ দেখানো হয়নি। শুধু লিখে দেখানো হয়েছে। ফলে এটিও ভুয়া বলে বিবেচিত।

সেনাপ্রধান হাঙ্গেরির একটি পোশাকের দোকান ঘুরে দেখছেন বলে দাবি করেছে আল জাজিরা। তবে সেনাপ্রধান দোকানের ভেতরে অবস্থানকালীন সময়ে দোকানটির নাম দেখানো হয়নি। তিনি বের হওয়ার পর দোকানের নাম দেখানো হয়। যা ষড়যন্ত্র বলে বিবেচিত হয়।

ভিডিওতে মানবাধিকার লঙ্ঘন, গোপন নজরদারির অভিযোগ করা হলেও সেনাপ্রধানের অফিসিয়াল ট্যুর, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের ছবি বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা নিশ্চয়ই শিষ্টাচার বহির্ভূত। গোপনীয়তা রক্ষা নিয়ে কথা বলে নিজেরাই গোপনীয়তা রক্ষা করেনি আল জাজিরা।

ইসরায়েলের কাছ থেকে নজরদারি যন্ত্র কেনার কোনো প্রকৃত ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ দিতে পারেনি আল জাজিরা। খানিকটা গায়ের জোরে হাঙ্গেরির কোম্পানিকে ইসরায়েলি কোম্পানি বানিয়েছে আল জাজিরা।

এমনকি হাঙ্গেরিতে কথিত ডিজিএফআই কর্মকর্তাদের ট্রেনিংয়ের বিষয়ে প্রত্যক্ষ প্রমাণ দিতে পারেনি আল জাজিরা। অন্য মানুষের ছবি ব্যবহার করে সেটি নিয়ে অপপ্রচার করা হয়েছে।

ডেভিড বার্গম্যান যে পাসপোর্ট দেখিয়েছেন, সেটি নকল ও ভুয়া। এটিতে কোনো রাষ্ট্রীয় কোনো মনোগ্রাম নেই। অন্যান্য ডকুমেন্টগুলোও ভুয়া ছিলো তাই ভিডিওতে কাছ থেকে দেখানো হয়নি।

অনুমোদনহীন কোনো ব্যক্তিকে পার্সেল হস্তান্তর করবে ডিএইচএল? অন্তত দায়িত্বশীল কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানের এমনটি করার কথা নয়। কথিত নাম বসিয়ে ডিএইচএল নাম ব্যবহার করে মিথ্যাচার করা হয়েছে আল জাজিরার ভিডিওতে।

২০১৮ সালে বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনে সেনাবাহিনী অযাচিত হস্তক্ষেপের দাবিটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। সেনাবাহিনীকে বিভিন্ন মহলে বিতর্কিত করতে কৌশলে এমন উসকানিমূলক তথ্য প্রচার করা হয়েছে।

ফিলিস্তিন ইস্যুতে ইসরায়েলের প্রতি বাংলাদেশের বেশিরভাগ মুসলমানদের নেতিবাচক ধারনা রয়েছে। তাই ইসরায়েলের কাছ থেকে যন্ত্র কেনার নামে মিথ্যাচার করে সাধারণ মানুষকে সরকারের বিরুদ্ধে উসকানি দিতে কৌশল অবলম্বন করা হয়েছে। বাস্তবিক অর্থে ইসরায়েলের সাথে বাংলাদেশের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই। তাদের কাছ থেকে যন্ত্র কেনার কোনো অর্থই হয় না।

সুতরাং যেকেউ আল জাজিরার প্রচারিত এমন তথ্যচিত্রটি সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করলেই এসব মিথ্যাচার ও গুজবের বিষয়ে বুঝতে পারবে। রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থে বাংলাদেশ বিরোধী মহলের অর্থায়নে এমন বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষপূর্ণ সংবাদ প্রচার করেছে আল জাজিরা। তাই বাস্তবতার নিরিখে আল জাজিরার প্রতিবেদনটি ভুয়া বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

দেশের খবর

আপনার মতামত লিখুন :