ঢাকা, আজ সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০

বাংলাদেশকে আরও বিদ্যুৎ দেবে নেপাল

প্রকাশ: ২০২০-০২-১৯ ১০:২৮:০৩ || আপডেট: ২০২০-০২-১৯ ১০:২৮:০৩

নেপাল থেকে ৫০০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ আমদানি করতে ইতিমধ্যে চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। প্রয়োজনে আরও বিদ্যুৎ দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি।

বাংলাদেশ সফররত দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ কুমার গাওয়ালির সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেনের এক বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় মঙ্গলবার এ বৈঠক হয়।

এছাড়া এদিন দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার করার বিষয়ে একটি সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস)। বিআইআইএসএসের নিজস্ব অডিটোরিয়ামে এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। এতে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয়ে উঠে আসে।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আবদুল মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, দুই দেশের মধ্যকার যোগাযোগব্যবস্থা জোরদারের অংশ হিসেবে সৈয়দপুর বিমানবন্দর ব্যবহারের জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তাব দিয়েছে নেপাল। আমরা এ প্রস্তাবকে স্বাগত জানাই। আমরা বিমানবন্দরটির সম্প্রসারণ করছি।

বর্তমানে ১২-১৪টি ফ্লাইট সৈয়দপুর বিমানবন্দরে যায়। যার ফলে লোকজন সহজে ঢাকায় আসতে পারেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, যোগাযোগ, পর্যটন, জলবায়ু ও রোহিঙ্গা সংকট এবং বাণিজ্যিক বাধা বিশেষ করে অশুল্ক বাধা দূর করার উপায় নিয়ে কথা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দু’দেশ অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) সই করার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রদীপ কুমার সাংবাদিকদের বলেন, দু’দেশের মধ্যে যোগাযোগ, ট্রানজিট, পরিবহন ও বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা উন্নয়নের উপায় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সম্প্রতি ভারতীয় কোম্পানি জিএমআরকে নেপালে জলবিদ্যুতে বিনিয়োগের অনুমতি দিয়েছে। ফলে জিএমআরের মাধ্যমে নেপাল থেকে বাংলাদেশে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার ক্ষেত্রে এটি নতুন এক অধ্যায় খুলে দেবে। এরপর নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাজধানীর বিআইআইএসএস মিলনায়তনে বাংলাদেশ-নেপাল সম্পর্ক নিয়ে এক আলোচনায় অংশ নেন এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। এ সময় নেপালের মন্ত্রী বলেন, আমাদের হাইড্রো-ইলেকট্রিক পাওয়ার রয়েছে। এটি শুধু নেপালের নয়, পুরো অঞ্চলের সম্পদ। এখানে বিনিয়োগ বাড়িয়ে আমরা সবাইকে সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের শুরু থেকেই নেপালের সঙ্গে চমৎকার সম্পর্ক রয়েছে। আর এই সম্পর্ক আরও জোরদার করে উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতায় সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করা যায়। তারা বলেন, দু’দেশের মানুষের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ঐতিহাসিক মিল থাকায় পারস্পরিক সহযোগিতার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এতে উভয় দেশই লাভবান হবে। বাণিজ্যিক দিক থেকে বাংলাদেশ নেপালকে চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দরে ট্রানজিট দিয়েছে।

এ ছাড়া ১৯৯৭ সাল থেকে কাটারভিটা-ফুলবাড়ি বাণিজ্য পথ চালু আছে। কিন্তু দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ খুবই কম। সহযোগিতার আরেকটি ক্ষেত্র জ্বালানি। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দ্রুতবর্ধনশীল অর্থনীতি। ফলে চাহিদা অনুসারে জ্বালানির জোগান খুবই কঠিন। এ অবস্থায় জ্বালানি খাতে দুই দেশই পারস্পরিক সহযোগিতা করতে পারে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের ভ্রমণপিপাসু অনেক মানুষ নেপালে যেতে আগ্রহী। নেপালের অনেক মানুষও বাংলাদেশের ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল ও সমুদ্রসৈকত দেখতে আগ্রহী। আর এসব বিভিন্ন পর্যায়ে কানেকটিভিটি বাড়াতে হবে।

‘বিস’র চেয়ারম্যান এম ফজলুল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রাষ্ট্রদূত ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।