ঢাকা, আজ মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২০

ইসলামপন্থী রাজনীতি কেন সফল হয় না!

প্রকাশ: ২০২০-০২-২৭ ০৭:৪০:৪৩ || আপডেট: ২০২০-০২-২৭ ০৭:৪০:৪৩

গত কয়েক বছর থেকে একটি বিষয় খেয়াল করছি, দেশে এক একটি নির্বাচন হয় এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আলোচনায় উঠে আসে। সংবাদ মাধ্যমগুলো তাদের নিয়ে আলোচনা সমালোচনা করে। আলাদাভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

ঢাকার সিটি নির্বাচনের পরেও ব্যতিক্রম ঘটেনি। দুটি লিডিং পত্রিকাসহ বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম ইসলামী আন্দোলনের রাজনৈতিক উত্থান এবং চোখে পড়ার মতো ভোট সংগ্রহ বিষয়ে বড় প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

সংবাদমাধ্যমগুলো বেশি গুরুত্ব দিয়ে দুটি কথা বলার চেষ্টা করেছে, ইসলামী আন্দোলনের রাজনৈতিক উত্থান বা উল্লেখ করার মতো ভোট পাওয়ার প্রধান কারণ হলো সরকারের আনুকুল্যে থাকা এবং জামায়াতে ইসলামী রাজনীতির মাঠে না থাকা।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, ইসলামী আন্দোলনকে সরকার সব সময় রাজনৈতিক সুবিধা দিয়ে আসছে। ভোটের মাঠে বিএনপি বা অন্য দলের প্রার্থীদের প্রচারনা সরকারপক্ষ সহ্য না করলেও ইসলামী আন্দোলনকে তেমন কোনো বাঁধার মুখে পড়তে হয় না। তারা বেশ জোর দিয়ে হাতপাখার প্রচারণা করতে পারেন।

অপর দিকে ভোটের মাঠে বা দেশের রাজনীতিতে দৃশ্যমান অন্য কোনো ইসলামী দল নেই। যুদ্ধাপরাধী দল জামায়াতে ইসলামী অঘোষিতভাবে নিষিদ্ধের তালিকায় রয়েছে।

ইসলামপন্থী অন্যান্য ছোট দলগুলো ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার বাসনায় নির্বাচনী জোট বেধেছে বড় দুই দলের সঙ্গে। যা তাদের স্বতন্ত্র অস্তিত্বের জন্য মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে।

ইসলামী আন্দোলন বরাবরই এসব কথা বা অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। দলটির গুরুত্বপূর্ণ নেতা গাজী আতাউর রহমান বলেছেন, ইসলামী আন্দোলন হঠাৎ কোনো রাজনৈতিক দল নয়। এই দলের প্রাপ্ত ভোটও হঠাৎ করে আসেনি বা কারো দয়ার ফসল নয়।

তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলন তিন দশক ধরে ধারাবাহিক ও নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি করে আসছে। জনআস্থা অর্জন করতে পেরেছে। সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোর প্রাপ্ত ভোট তারই প্রতিফলন।

আতাউর রহমান বলেন, যদিও এসব ভোটফল দিয়ে ইসলামী আন্দোলনকে মূল্যায়ন করা সঠিক হবে না। কারণ কেয়ারটেকার সরকারের পরে দেশের আর কোনো নির্বাচনে জনগণ স্বাধীন ভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। এসব নির্বাচনে জনরায়ের প্রতিফলন ঘটেনি।

তিনি বলেন, ঢাকার মিডিয়াগুলো ইসলামপন্থীদের ছোট বড় কোনো অর্জনকেই পজেটিভভাবে উপস্থাপন করতে চায় না। তারা ইসলামী আন্দোলনের রাজনৈতিক অগ্রগতি এবং ভোটপ্রাপ্তির কৃতিত্ব কখনোই এর নেতৃত্বকে দেয় না। তিন দশকের রাজনীতির স্বীকৃতি দেয় না। কৌশলে সকল অর্জন ভিন্ন পথে প্রবাহিত করার চেষ্টা করে, যা খুবই দুঃখজনক।

সাবেক ছাত্রনেতা আতাউর রহমান বলেন, আমরা জানি- যতোদিন ইসলামী আন্দোলন আওয়ামীলীগ বা বিএনপির সঙ্গে জোটের রাজনীতিতে নাম না লেখাবে ততদিন এসব কটুকথা, অপবাদ সহ্য করতে হবে। একপক্ষ আমাদের ললাটে অন্যপক্ষের তকমা লাগাবে। মিডিয়াগুলো সঠিক মূল্যায়ন করবে না। আমাদের অর্জনগুলো অন্যপথে প্রবাহিত করার চেষ্টা করবে।

তবে একটা কথা খুব পরিস্কার করে বলতে চাই- অন্যকারো চাপে বা দুই একজন মন্ত্রী এমপির লোভে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তার রাজনৈতিক স্ট্রাটেজি পরিবর্তন করবে না।

দুই

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৭ সালে। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এর নেতৃত্ব দিয়েছেন চরমোনাইর মরহুম পীর সাহেব সৈয়দ ফজলুল করিম। তার অবর্তমানে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সৈয়দ রেজাউল করিম। তিনি ইসলামী আন্দোলনের আমির এবং চরমোনাই তরিকার বর্তমান পীর।

সৈয়দ রেজাউল করিমের আরেক ভাই সৈয়দ ফয়জুল করিমও এই দলের এবং তরিকার গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তিনি ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির এবং তরিকা অর্থাৎ বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটিরও নায়েবে আমির। ইদানিং তার নামের সঙ্গে ‘শায়েখ চরমোনাই’ লিখতে দেখা যায়। কিছু দিন আগে লেখা হতো ‘পীরে কামেল চরমোনাই’।

সৈয়দ রেজাউল করিম রাজনৈতিক দলের আমির এবং ধর্মীয় তরিকার পীর হলেও দৃশ্যত এগুলো চলছে দ্বৈত নেতৃত্বে। ক্ষেত্রবিশেষ দলের আমির থেকে নায়েবে আমিরকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়। দলের নেতাকর্মীদেরও নায়েবে আমিরকে নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকতে দেখা যায়।

বিশেষ করে রাজনীতির মাঠে সৈয়দ ফয়জুল করিম এখন একজন পরিচিত এবং আলোচিত মানুষ। বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে তার গর্জে উঠা, হুংকার দেয়া সচেতন মহলে আলোচিত হয়।

ইসলামী আন্দোলন দেশের জাতীয় নির্বাচন বা অন্য কোনো নির্বাচনে আওয়ামীলীগ, বিএনপির সঙ্গে জোট করে না। অতীতে তারা ইসলামি ঐক্যজোট নামে ইসলামপন্থী দলগুলোর জোটে ছিল। পরে সেখান থেকে বেরিয়ে জাতীয় পার্টির সঙ্গে নির্বাচনী জোট করে।

এসব জোটের অভিজ্ঞতা এবং দেশের ইসলামপন্থী রাজনীতির ভবিষ্যৎ বিবেচনা করে তারা ২০০৬ সালের পরে থেকে একলা চলার নীতি গ্রহণ করে।

এ দলের নেতারা বিভিন্ন সময়ে বলার চেষ্টা করেন, আওয়ামীলীগ বিএনপি তাদের দৃষ্টিতে আলাদা কিছু নয়। দল দুটির সর্বশক্তি, মেধা এবং কৌশল ব্যায় হয় একে অপরকে পরাজিত করার জন্য। দেশের উন্নয়নে তাদের কোনো কৌশল নেই। জাতীর উন্নয়নে তাদের মেধা কাজ করে না।

সুতরাং এসব দলের সঙ্গে জোট করে হয়তো ক্ষমতায় স্বাদ গ্রহণ করা যাবে, কিন্তু দেশের এবং মানুষের কোনো উপকার হবে না।

ইসলামী আন্দোলনের নেতারা বলেন, তারা দেশের ইসলামপন্থী শক্তিকে অন্য কারো ক্ষমতার সিড়ি হতে দিতে চান না। তারা চান রাজনীতিতে ইসলামপন্থীরা স্বতন্ত্ররুপে প্রতিষ্ঠিত হোক।

তারা বলার চেষ্টা করেন, জামায়াত, ইসলামী ঐক্যজোট বিএনপির সঙ্গে জোট করে দীর্ঘ দিন রাজনীতি করেছে, এতে ইসলাম বা ইসলামপন্থীদের কী উপকার হয়েছে?

বরং ইসলামপন্থীরা যে রাজনীতিতে স্বতন্ত্র একটা ধারা তা দেশের জনগণ ভুলে গেছে। সাধারণ মানুষ ইসলামি ধারা এবং প্রচলিত ধারাকে এখন আর আলাদা করতে পারে না। এ দায় তথাকথিত জোট রাজনীতির।

তিন

বাংলাদেশের পীর সংস্কৃতির সঙ্গে যারা পরিচিত তারা সবাই জানেন একজন পীর মানে একজন ছোটখাট রাজা। সম্পদে সম্মানে তারা রাজার মতোই জীবন যাপন করেন। সাধারণত তারা এত বেশি আরামপ্রিয় হন যে আরামকেদারায় বসে এক ঘন্টার ওয়াজ করার সময়ও তাদের পায়ের নিচে নরম তুলতুলে বালিশ দিতে হয়।

পীররা সাধারণত ভক্ত মুরিদদের সেবা যত্ম বা সালাম শ্রদ্ধা পেয়ে অভ্যস্ত হন। তাদের ছেলে মেয়েরাও একই পরিমন্ডলে বড় হয়। তারাও ছোট বেলা থেকে নিজেদেরকে ভক্তি শ্রদ্ধার পাত্র ভাবতে শেখেন। অঢেল সম্পদের মধ্যে বড় হন।

তাদের মধ্যে এক ভিন্ন সংস্কৃতি, ভিন্ন মানসিকতার জন্ম হয় ছোট কাল থেকে। সমাজের সাধারণ মানুষ থেকে তারা নিজেদের আলাদা ভাবতে শেখেন। তারা নিজেদের উচু চেয়ারের মানুষ ভাবতে শেখেন। সুতরাং তাদের দারা রাজনীতি করা, জনতার সেবা করা, জননেতা হওয়া খুব একটা সহজ হয় না।

যেমন ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির সৈয়দ ফয়জুল করিম। তাকে দেশের ইসলামপন্থীরা নতুন নেতা হিসাবে মেনে নিতে শুরু করেছিল। তাকে সামনে রেখে মানুষ স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছিল। কিন্তু তিনি সেই জায়গায় যেতে পারছেন না। জনতার চাহিদা পুরণ করতে পারছেন না।

কিছু কিছু রাজনৈতিক অনুষ্ঠান করে, গর্জে উঠা বক্তৃতা করে আলোচনায় আসতে পারলেও সত্যিকারার্থে জননেতা হতে পারছেন না। বারবার সেখান থেকে সরে যাচ্ছেন।

বাস্তবে জননেতা হতে হলে জনগণের মধ্যে থাকতে হয়। জনগণের ভেতর থেকে উঠে আসতে হয়। নেতাকর্মীদের সুখে দুঃখে পাশে থাকতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশের ইসলামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলোর একজন নেতার মধ্যেও এই গুন দেখা যায় না।

তারা সহজ করে জনগণের সঙ্গে মিশতে পারেন না। সুবিধা অসুবিধায় জনগণ তাদের পাশে পায় না।

বাংলাদেশে একজনও ইসলামপন্থী নেতা পাওয়া যাবে না যার বাসায় প্রতিদিন দুই একশ নেতাকর্মী পেট ভরে ভাত খেতে পারে। এমন একজন নেতাও পাওয়া যাবে না যার দুয়ার নেতাকর্মীদের জন্য সব সময় খোলা থাকে।

গ্রামের অসুস্থ, অসহায় সাহায্য প্রত্যাশীরা বিনাভয়ে নেতার বাড়ি যেতে পারে, থাকতে পারে বা সহযোগিতা পেতে পারে।

কারন একটাই- তাদের বেড়ে ওঠা, তাদের পরিমণ্ডল কখনোই জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়। তারা নিজেদের জনগণের অংশ ভাবতে পারেন না। তারা সব সময় পেয়ে অভ্যস্ত হন, দিয়ে নয়।

ইসলামী আন্দোলনের প্রধান দুই নেতা সারা বছর ওয়াজ মাহফিল নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। নিয়মিত ঢাকায় থাকেন না। ঢাকায় তাদের কোনো ঠিকানা নেই যেখানে নেতাকর্মীরা সুবিধায় অসুবিধায় ছুটে যেতে পারে। প্রয়োজনে সহযোগিতা পেতে পারে। তাদের দলের মহাসচিবও কোনো বিচক্ষণ রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত নন।

ধর্মীয় ইস্যুভিত্তিক কিছু রাজনৈতিক গ্যাদারিং ছাড়া জনগণের কাতারে তাদের দেখা মেলে না। তারা যা করেন তাকে বড় জোর শ্রেণী সংগ্রাম বলা যেতে পারে, জনগণের রাজনীতি নয়।

জননেতা হতে হলে, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে জনতার মাঝে থাকতে হবে। নিয়মিত রাজনৈতিক অফিসে বসতে হবে। রাজনীতির মূল শ্রোতে, মিডিয়ার সঙ্গে, কূটনৈতিক পাড়ায় যোগাযোগ বাড়াতে হবে। নেতাকর্মীর কাছে উচু চেয়ারের মানুষ না হয়ে সহজ হতে হবে। তারা যেনো বিশ্বাস করে বিপদের সময় নেতাকে পাশে পাবে। তারা যেনো নেতাকে ‘ভাই’ ভাবতে পারে।

ইসলামী আন্দোলনের জন্য সব থেকে বড় সম্ভবনা হলো ধর্মীয় এবং আধ্যাত্মিক কারনে দেশের প্রান্তিক মানুষ বা মেহনতি মানুষের মধ্যে দলটির জনপ্রিয়তা আছে। কিন্তু তারা এটাকে সঠক ভাবে কাজে লাগাতে পারছে না।

ঢাকায় তারা বড় কোনো শ্রমিক সমাবেশ করে না। সুখে দুঃখে শ্রমিক শ্রেণির পাশে তাদের দেখা যায় না। অথচ তারা যদি প্রান্তিক মানুষদের নিয়ে শ্রমিক আন্দোলন জোরদার করতো তবে স্বাভাবিকভাবেই রাজনীতির মাঠে আরো ভালো করতে পারতো।

সৈয়দ ফয়জুল করিম তার নির্বাচনী এলাকায় ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর বড় করে, বর্ণাঢ্য করে পালন করেন। কিন্তু ঢাকায় তেমন কোনো কর্মসূচিতে তাকে দেখা যায় না। গতানুগতিক ধারার বাইরে মানুষের দৃষ্টি কাড়ার মতো আলাদা কোনো কর্মসূচি থাকে না।

তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকায় শীতের কম্বল বিলান, কিন্তু ঢাকায় তাকে দেখা যায় না। ঢাকার রাজনীতি তাদের কাছে সব সময় উপেক্ষিত। কারন হতে পারে ঢাকায় রাজনীতি করতে হলে পকেটের টাকা খরচ করতে হয়। আর সারা দেশে ওয়াজ মাহফিল করলে নগদ ইনকাম হয়।

অথচ ইসলামী আন্দোলনের দুই নেতার একজন সব সময় ঢাকায় থাকতে পারতেন। ফুলটাইম রাজনীতি করতে পারতেন। অন্যজন দেশব্যাপী ওয়াজ মাহফিল করে তরিকা ঠিক রাখতে পারতেন। মানুষের কাছে দীনের দাওয়াত পৌছে দিতে পারতেন।

কিন্তু তারা তা করেন না। বরং নিজেরা পরিচয় সংকটে ভোগেন। কদিন লেখেন পীরে কামেল, আবার লেখেন শায়েখ চরমোনাই। অর্থাৎ কোন পরিচয়ে থিতু হবেন তা’ই ঠিক করতে পারেন না।

দেশের সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে, কেনো তিনি শায়েখ বা কামেল হতে চান? দলের নায়েবে আমির বা তরিকার নায়েবে আমির বা খলিফা পরিচয়কে তিনি যথেষ্ঠ মনে করতে পারেন না কেনো?

শায়েখ মানে তো সর্বোচ্চ মুরব্বি। তিনি কী তবে পীর বা আমির থেকেও বড়? কেনো তারা জুমার নামাজের ইমামতি নিয়ে ঠ্যালাঠেলি করেন? এর দারা কী বার্তা যায় সাধারণ মানুষের কাছে?

দেশের রাজনীতি, জনগণের রাজনীতি করতে হলে উচু চেয়ার ছেড়ে জনগণের কাতারে নেমে আসুন। নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি করুন। নেতাকর্মীদের অর্থাৎ দেশের মানুষকে ভালোবাসুন। সুখে দুঃখে তাদের পাশে থাকুন। দেখবেন সংবাদ মাধ্যমগুলো আপনাদের কৃতিত্ব না দিলেও দেশের জনগণ দিতে একতিল কারপণ্য করবে না।

লেখক: প্রবাসী সাংবাদিক ও ধর্মীয় রাজনীতি বিশ্লেষক