ঢাকা, আজ শুক্রবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২০

‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান চান হাইকোর্ট

প্রকাশ: ২০১৯-১২-১১ ০৯:২০:৪১ || আপডেট: ২০১৯-১২-১১ ০৯:২০:৪১

আগামী ১৬ ডিসেম্বর থেকে সর্বস্তরে ‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালতের প্রশ্ন, সর্বস্তরে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ব্যবহারে দ্বিধা কোথায়?

এ স্লোগান আমাদের স্বাধীনতার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। এ সংক্রান্ত একটি রিটের শুনানি শেষে বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ অভিমত ব্যক্ত করেছেন। আদালত বলেছেন, সামনে ১৬ ডিসেম্বর। এছাড়া পরে যেসব জাতীয় দিবস পালিত হবে, প্রত্যেক দিবসে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে শীর্ষ পর্যায় থেকে সর্বস্তরে দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে ভাষণ বা বক্তব্যের শুরু ও শেষে জয় বাংলা স্লোগান বলতে হবে।

হাইকোর্ট বলেছেন, ‘জয় বাংলা’ স্লোগানই ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে সবাইকে একত্রিত করেছিল। ফলে আমরা পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করতে পেরেছি। আগামী ১৪ জানুয়ারি চূড়ান্ত শুনানির পরবর্তী দিন ঠিক করেছেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেছেন, সবার আইনগত বক্তব্য ও ব্যাখ্যা বিচার-বিশ্লেষণ করে আদালত অবশ্যই পরে আদেশ দেবেন।

আদালত এ বিষয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ও আবদুল মতিন খসরু, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এএম আমিন উদ্দিনের বক্তব্য শোনেন। এছাড়া আদালতে রিটকারী পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী বশির আহমেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন পরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘জয় বাংলা’ ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামের মূলমন্ত্র। যে স্লোগান দিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেছেন, জীবন দিয়েছেন, শহীদ হয়েছেন সেটাকে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করে জাতীয় স্লোগান হিসেবে ব্যবহার করা হোক। তিনি বলেন, অনেক দেশেই এ ধরনের জাতীয় স্লোগান আছে। আমাদের আইনজীবী মহলেরও এটা দাবি।

এটা নিয়ে কোনো বিরোধ নেই। সুতরাং জয় বাংলা স্লোগানকে সংবিধানে সন্নিবেশিত করে জাতীয় স্লোগান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য বলেছি। যে দু’জন বিচারপতি শুনেছেন তারা দু’জনই মুক্তিযোদ্ধা। আশা করি তারা পর্যালোচনা করে রায় দেবেন।

সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধে দলমত নির্বিশেষে সবার হৃদয় উৎসারিত স্লোগান ছিল জয় বাংলা। আমরা আশা করি রিট আবেদনকারীর পক্ষে জয় বাংলার পক্ষে আদালত রায় দেবেন।

আইনজীবী সমিতির সভাপতি এএম আমিন উদ্দিন বলেন, আমাদের সংবিধানে ১৫০(২) অনুচ্ছেদ দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে সংবিধানের অংশ করে নেয়া হয়েছে। সেই ভাষণের শেষ অংশ হচ্ছে জয় বাংলা। সুতরাং সংবিধান অনুযায়ী জয় বাংলা আমাদের সংবিধানের অংশ।

রিট আবেদনকারী আইনজীবী বশির আহমেদ বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জয় বাংলা বলে ৭ মার্চের ভাষণ শেষ করেছিলেন। তাই জয় বাংলাকে রাষ্ট্রীয় স্লোগান হিসেবে ঘোষণা করার আবেদন করেছি। প্রজাতন্ত্রের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বক্তব্যে ও শপথের শেষে জয় বাংলা উচ্চারণের নির্দেশনা চেয়েছি রিটে। দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জয় বাংলা উচ্চারণ করে অ্যাসেম্বলি শেষ করার নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। আইনজীবীরা বলেছেন, এই স্লোগান আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণা।

পরে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এবিএম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার সাংবাদিকদের বলেন, শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বলেছি, সংবিধানের ৩ ও ৪ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রভাষা বাংলা, জাতীয় প্রতীক, জাতীয় সঙ্গীত আছে, কিন্তু জাতীয় স্লোগান নেই। সংবিধানে ১৫০(২) অনুচ্ছেদ অনুসারে ৭ মার্চের ভাষণটি যেহেতু অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, ফলে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদনকারীর আবেদনকে লিখিতভাবে সমর্থন করেছে। মঙ্গলবার সিনিয়র আইনজীবীদের মতামত আদালত নিয়েছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সাবমিশন রেখেছেন। সবার আইনগত সাবমিশন এবং ব্যাখ্যা বিচার-বিশ্লেষণ করে আদালত অবশ্যই পরে একটি আদেশ দেবেন।

‘জয় বাংলা’কে জাতীয় স্লোগান ঘোষণার আর্জি জানিয়ে ২০১৭ সালে হাইকোর্টে রিট করেন আইনজীবী বশির আহমেদ। ওই বছরই ৪ ডিসেম্বর রুল জারি করেন আদালত। ‘জয় বাংলা’কে কেন ‘জাতীয় স্লোগান ও মূলমন্ত্র’ হিসেবে ঘোষণা করার নির্দেশ দেয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব এবং শিক্ষা সচিবকে ওই রুলের জবাব দিতে বলা হয়।