ঢাকা, আজ বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৯

রাজনীতিক এরশাদের উত্থান

প্রকাশ: ২০১৯-০৭-১৪ ১৬:১৭:০৪ || আপডেট: ২০১৯-০৭-১৪ ১৬:১৭:০৪

বাংলাদেশের সাবেক সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ১৯৩০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি রংপুর জেলায় দিনহাটায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি রংপুর জেলায় শিক্ষাগ্রহণ করেন এবং ১৯৫০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।১৯৫২ সালে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন। ১৯৬০-১৯৬২ সালে তিনি চট্টগ্রাম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের কেন্দ্রে অ্যাডজুট্যান্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ১৯৬৬ সালে তিনি কোয়েটার স্টাফ কলেজ থেকে স্টাফ কোর্স সম্পন্ন করেন।১৯৬৮ সালে এরশাদ শিয়ালকোটে ৫৪ ব্রিগেডের মেজর ছিলেন। ১৯৬৯ সালে লেফটেন্যান্ট কর্নেল হিসেবে পদোন্নতি লাভের পর ১৯৬৯ -১৯৭০ সালে ৩য় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক এবং ১৯৭১ – ১৯৭২ সালে ৭ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অধিনায়ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।সেনাবাহিনীতে এরশাদ

১৯৭৩ সালে তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে অ্যাডজুটান্ট জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। ১২ ডিসেম্বর ১৯৭৩ সালে তিনি কর্নেল ও ১৯৭৫ সালের জুন মাসে সেনাবাহিনীতে ব্রিগেডিয়ার পদে পদোন্নতি পান।১৯৭৫ সালের ২৪ আগস্ট ভারতে প্রশিক্ষণরত অবস্থায় তিনি মেজর জেনারেল হিসেবে পদোন্নতি পান ও উপসেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ পান।১৫ আগস্ট সামরিক অভ্যুত্থানের পর এরশাদ বাংলাদেশের দিল্লি মিশনের মাধ্যমে দেশে ফেরার আকাঙ্ক্ষা জানিয়ে বার্তা পাঠানসামরিক অভ্যুত্থান ও রাষ্ট্রপতি৩০ মে ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর এরশাদ রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন।

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ রাষ্ট্রপতি আব্দুস সাত্তারের পদত্যাগের পর রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন এরশাদ।১৯৮৩ সালের ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি প্রধান সামরিক প্রশাসক হিসেবে দেশ শাসন করেন।এরশাদ দেশে উপজেলা পদ্ধতি চালু করেন এবং ১৯৮৫ সালে প্রথম উপজেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৮৬ সালে তিনি জাতীয় পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। এই দলের মনোনয়ন নিয়ে ১৯৮৬ সালে এরশাদ পাঁচ বছরের জন্য দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও জামায়াত এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। যদিও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এই নির্বাচন বয়কট করে।সাধারণ নির্বাচনে তার দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। বিরোধী দলের আন্দোলনের মুখে রাষ্ট্রপতি ৭ ডিসেম্বর ১৯৮৭ সালে এ সংসদ বাতিল করেন। ১৯৮৮ সালের সাধারণ নির্বাচন সব দল বয়কট করে। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছেড়ে দেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ১৯৮৬ ১৯৮৬ সালের ১৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়লাভ করেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। এ নির্বাচনে ১৬ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। বাছাই এ কোনো প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাদ না পড়ায় বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১৬ জন। চারজন প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ১২ জন ছিল।

৯১-পরবর্তী দুঃসময় ক্ষমতা ছাড়ার পর এরশাদ গ্রেফতার হন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসা পর্যন্ত কারারুদ্ধ থাকেন।১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে তিনি কারাগার থেকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং রংপুরের পাঁচটি আসন থেকে নির্বাচিত হন।বিএনপি সরকার তার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি দুর্নীতি মামলা দায়ের করে এবং কোনো কোনোটিতে দোষী প্রমাণিত হয়ে তিনি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন।

১৯৯৬ সালের সাধারণ নির্বাচনেও এরশাদ সংসদে পাঁচটি আসনে বিজয়ী হন। ছয় বছর জেলে থাকার পর ১৯৯৭ সালের ৯ জানুয়ারি তিনি জামিনে মুক্ত হন। তবে আদালতের রায়ে দণ্ডিত হওয়ার কারণে সংসদে তার আসন বাতিল হয়ে যায়।তার প্রতিষ্ঠিত জাতীয় পার্টি ২০০০ সালে তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে, যার মধ্যে মূলধারার তিনি চেয়ারম্যান।২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে তার সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং তার স্ত্রী রওশন এরশাদ প্রধান বিরোধী দলীয় নেতা হন।২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৩ আসন থেকে তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি আমৃত্যু সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।