logo
সোমবার , ২ জানুয়ারি ২০২৩ | ১৭ই মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ক্যারিয়ার ভাবনা
  5. খেলা
  6. জাতীয়
  7. টেক নিউজ
  8. দেশের খবর
  9. প্রবাস
  10. ফিচার
  11. বিনোদন
  12. রাজনীতি
  13. লাইফস্টাইল
  14. সম্পাদকীয়
  15. সাফল্য

সুনামগঞ্জে ১১৭ প্রকল্প বাড়ানোর প্রস্তাব

প্রতিবেদক
admin
জানুয়ারি ২, ২০২৩ ৯:২২ পূর্বাহ্ণ

সুনামগঞ্জের হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় অস্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের ক্ষেত্রে আগের বছরের তুলনায় এবার ১১৭টি প্রকল্প বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে উপজেলাগুলো থেকে। দৈর্ঘ্যের হিসাবে ৮৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ বাড়বে এসব প্রকল্পে। অনুমোদন দেওয়া হলে সরকারের খরচ হবে অতিরিক্ত প্রায় ৫৩ কোটি টাকা।

হাওর আন্দোলনের নেতাদের অভিযোগ, যথাযথভাবে যাচাই-বাছাই না করেই বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্প ও বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে চলতি মৌসুমে।

হাওরের প্রকৃত কৃষকদের মতামত না নেওয়া এবং হাওর সম্পর্কে ধারণা নেই এমন সার্ভেয়ার দিয়ে প্রাথমিক জরিপ করায় প্রকল্প ও খরচ বাড়ছে। 

সম্প্রতি ‘কাবিটা স্কিম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত মনিটরিং কমিটি’ ২০২২-২৩ অর্থবছরে হাওরের বোরো ফসল রক্ষায় প্রকল্প ও বরাদ্দ বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। চলতি বোরো মৌসুমে প্রাথমিক প্রাক্কলনে প্রায় ১৭১ কোটি টাকার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকল্প কর্মকর্তারা বলছেন, গত বন্যায় ফসল রক্ষা বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবার প্রকল্প বেড়েছে। তবে গতবারের ৭২৭টি প্রকল্পের মধ্যে কতটি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট সংখ্যা জানাতে পারেননি তাঁরা।

‘কাবিটা স্কিম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত মনিটরিং কমিটি’ সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২২ অর্থবছরে জেলার ছোট-বড় ৪৮টি হাওরে প্রায় ৫৩৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়। এতে বরাদ্দ ছিল ১২৪ কোটি টাকা। আর ২০২২-২৩ অর্থবছরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সার্ভেয়ার ও সেকশন অফিসারদের নেতৃত্বে জরিপ কমিটি হাওরের ১২০০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ জরিপ করে ৬২৫ কিলোমিটারে অস্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে বলে জানিয়েছে। সার্ভেয়ারদের জরিপের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সেকশন অফিসাররা (এসও) মিলে ৯০৪টি পিআইসি জমার প্রস্তাব দিয়েছেন। এরই মধ্যে প্রাথমিকভাবে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ওই সূত্র জানায়, ৬২৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণের লক্ষ্যে ১২টি উপজেলা থেকে ৯০৪টি প্রকল্প জমা হয়েছে। বর্ধিত প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হলে গত বছরের তুলনায় এবার ৪৭ কোটি টাকা বেশি খরচ হবে। সব মিলিয়ে প্রকল্প ও বরাদ্দ বাড়ায় সরকারের প্রায় ৫৩ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ হবে এবার।

সুনামগঞ্জ সদর, শান্তিগঞ্জ, দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর ও দিরাইয়ে অস্বাভাবিক বরাদ্দ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে কমিটি সূত্রে জানা গেছে।

সম্প্রতি কমিটির এক সভায় যেসব প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়েছে তার তথ্য অনুযায়ী, গত বছর সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় চার কোটি ৩১ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৬টি প্রকল্পের মাধ্যমে ১৪ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের কাজ করা হয়। এবার বাড়িয়ে ৭১টি প্রকল্পের মাধ্যমে ৫২ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে। এর প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৪ কোটি টাকা।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় গতবার পাঁচ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৩৫টি প্রকল্পে ২৩ কিলোমিটার কাজ করা হয়েছিল। এ বছর ৫৬টি প্রকল্পে ৩০ কিলোমিটারের জন্য প্রায় ১১ কোটি ৬০ লাখ টাকার প্রাথমিক প্রাক্কলন করা হয়েছে।

তাহিরপুর উপজেলায় গতবার ১৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৮টি প্রকল্পে প্রায় ৬০ কিলোমিটার কাজ করা হয়েছিল। এবার ৭৯টি প্রকল্পে ৫৫ কিলোমিটার কাজের ১৪ কোটি টাকার প্রাক্কলন করা হয়েছে।

ধর্মপাশা উপজেলায় গতবার ৩০ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫৮টি প্রকল্পে ১৭০ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের কাজ করা হয়। এবার ১১১টি প্রকল্পে ১১৫ কিলোমিটার কাজের প্রায় ২৩ কোটি টাকার প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে।

নবগঠিত মধ্যনগর উপজেলায় চলতি বছর ১৪টি প্রকল্পে ২০ কিলোমিটার কাজে দুই কোটি ৬৯ লাখ টাকার প্রাক্কলন তৈরি করা হয়েছে।

জামালগঞ্জ উপজেলায় গতবার ছয় কোটি ৮৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪০টি প্রকল্পে ৪৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এবার ৫৯টি প্রকল্পে ৫৩ কিলোমিটার কাজের জন্য ১০ কোটি টাকার প্রাক্কলন করা হয়েছে।

শান্তিগঞ্জ উপজেলায় সাড়ে আট কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৬টি প্রকল্পে প্রায় ২৮ কিলোমিটার কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। চলতি বছর ৮৭টি প্রকল্পে ৪৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের প্রাক্কলন করা হয়েছে ১৭ কোটি ২০ লাখ টাকায়।

জগন্নাথপুর উপজেলায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ২৮টি প্রকল্পে প্রায় ১৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মিত হয়েছিল। এ বছর ৩৮টি প্রকল্পে ৪৮ কিলোমিটার কাজে সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার প্রাক্কলন করা হয়েছে।

দিরাই উপজেলায় ১৪ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০৪টি প্রকল্পে ৫৪ কিলোমিটার কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। চলতি মৌসুমে ১৬৭টি প্রকল্পে ৯৬ কিলোমিটার কাজের জন্য ২৮ কোটি টাকার প্রাক্কলন করা হয়েছে।

শাল্লা উপজেলায় ২৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩৮টি প্রকল্পে ৮৬ কিলোমিটার কাজ করা হয়। এ বছর ১২৭টি প্রকল্পে ৬৫ কিলোমিটার কাজের জন্য ২৫ কোটি টাকার প্রাক্কলন করা হয়েছে।

ছাতক উপজেলায় তিন কোটি ৯১ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৪টি প্রকল্পে ১৬ কিলোমিটার কাজ করা হয়েছিল। এবার ২৩টি প্রকল্পে ১৮ কিলোমিটার কাজের জন্য প্রাক্কলন করা হয়েছে চার কোটি ৩০ লাখ টাকার।

দোয়ারাবাজার উপজেলায় সাত কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫০টি প্রকল্পে ২৩ কিলোমিটার কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। এ বছর ৭২টি প্রকল্পে প্রায় ৪৯ কিলোমিটার কাজের জন্য ১৫ কোটি টাকার প্রাক্কলন করা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সার্ভেয়ার, সেকশন অফিসার ও উপজেলা কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা মিলে প্রকল্প বাড়িয়েছেন বলে অভিযোগ হাওর আন্দোলনের নেতাদের।

কমিটির বেসরকারি সদস্য ও হাওর বাঁচাও আন্দোলনের সুনামগঞ্জ জেলা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান বলেন, ‘যেসব বাঁধ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেখানে বিবেচনা করা যেতে পারে। কিন্তু গণহারে প্রকল্প অনুমোদন করা যাবে না। ’

হাওরের কৃষি ও কৃষক রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সদস্যসচিব অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, ‘যাঁদের মৌসুমের শুরুতে জরিপের জন্য নিয়ে আসা হয় তাঁরা হাওর সম্পর্কে কিছু জানেন না। বাঁধের বিষয়েও তাঁরা অভিজ্ঞ নন। ’

বাঁধের জরিপকাজে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় নিযুক্ত গৌতম চাকমা চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডে কাজ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রথমবার দুই মাস আগে হাওরে এসে জরিপকাজ করেছি। তখনো পানি ছিল হাওরে। অতীতে সার্ভেয়াররা যে জরিপ করেছেন তাঁদের সেই গাইডলাইন মেনেই আমরা জরিপ করেছি। ’

‘কাবিটা স্কিম প্রণয়ন ও বাস্তবায়নসংক্রান্ত মনিটরিং কমিটি’র সদস্যসচিব ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, ‘উপজেলা থেকে আমাদের কাছে ৯০৪টি প্রকল্প পাঠানো হয়েছে। বলা হয়েছে, গেলবারের বাঁধ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কী পরিমাণ বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেই তথ্য নেই। আমরা তাদের প্রকৃত তথ্য পাঠানোর কথা বলেছি। যেহেতু যাচাই-বাছাই কাজ এখনো চলমান, তাই প্রকল্পগুলো যাচাই-বাছাই করে অনুমোদন দেওয়া হবে। ’

কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী বলেন, কোনো অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প দেওয়া হবে না। উপজেলা থেকে যে বাড়তি প্রকল্প এসেছে তা অধিকতর যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, গত ১৫ ডিসেম্বর কাজ শুরু করে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ শেষ করার কথা। গতকাল রবিবার পর্যন্ত ৫৩টি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ১৯৩টি প্রকল্প।

সর্বশেষ - রাজনীতি