logo
বৃহস্পতিবার , ১৫ ডিসেম্বর ২০২২ | ২৬শে মাঘ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
  1. অন্যান্য
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ক্যারিয়ার ভাবনা
  5. খেলা
  6. জাতীয়
  7. টেক নিউজ
  8. দেশের খবর
  9. প্রবাস
  10. ফিচার
  11. বিনোদন
  12. রাজনীতি
  13. লাইফস্টাইল
  14. সম্পাদকীয়
  15. সাফল্য

ঐক্যবদ্ধ থেকে অপশক্তি রুখে দেওয়ার প্রত্যয়

প্রতিবেদক
admin
ডিসেম্বর ১৫, ২০২২ ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ

ফুলেল শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্বাধীনতার উষালগ্নে হারানো জাতির সূর্যসন্তানদের স্মরণ করেছে সর্বস্তরের মানুষ।

শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে বুধবার স্মৃতিসৌধের বেদি ভরে উঠেছিল ফুলে ফুলে। রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান থেকে শুরু করে জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে গোটা জাতি তাদের আত্মার শান্তি কামনা করেছে। মসজিদ-মন্দিরে হয়েছে দোয়া ও প্রার্থনা। ঢাকার পাশাপাশি সারা দেশে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হয়েছে। এ সময় কর্মসূচি থেকে স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তির ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি স্বাধীনতার শক্তিতে বলীয়ান হয়ে সব অপশক্তিকে রুখে দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের শেষ ভাগে পরাজয় নিশ্চিত জেনে পাকিস্তানি বাহিনী তাদের এ দেশীয় দোসরদের সহযোগিতায় হত্যা করেছিল-শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, সাংবাদিকসহ জাতির হাজারো মেধাবী সন্তানকে। বুধবার সকালে মিরপুরে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে গিয়ে সেই সূর্যসন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। স্মৃতিসৌধের বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল এ সময় সশস্ত্র সালাম জানায়; বিউগলে বাজানো হয় করুণ সুর। যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহিদ বুদ্ধিজীবীদের সন্তানদের সঙ্গে সেখানে কুশল বিনিময় করেন রাষ্ট্রপতি ও সরকারপ্রধান।

পরে আওয়ামী লীগ সভাপতি হিসাবে শেখ হাসিনা দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে আরেকটি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী ধানমন্ডিতে যান এবং বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে স্থাপিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পরে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এরপর শেখ হাসিনা দলীয়প্রধান হিসাবে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আরেকটি পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, দলের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, শাজাহান খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, ড. হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এসএম কামাল হোসেন, আফজাল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এবং প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী। শ্রদ্ধা জানান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষে মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। পরে সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয় স্মৃতিসৌধ এলাকা। জাতীয় পতাকা আর শ্রদ্ধার ফুল হাতে নানা বয়সের হাজারো মানুষ জড়ো হন শহিদ বেদিতে। রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধের শহিদ বেদিও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং সর্বস্তরের মানুষের ফুলে ফুলে ভরে ওঠে।

শ্রদ্ধা জানাতে আসা সংগঠনগুলোর মধ্যে ছিল-বিএনপি, জাতীয় পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি, জাসদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, জাতীয় শ্রমিক লীগ, উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, কেন্দ্রীয় খেলাঘর আসর, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, মুক্তিযোদ্ধা সংহতি পরিষদ, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট প্রমুখ। এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগসহ যুবলীগ, ছাত্রলীগ, মৎস্যজীবী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন শ্রদ্ধা জানায়।

এদিকে ভোরে রায়েরবাজার শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এসময় সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী বলেন, একাত্তরের পরাজিত শক্তি প্রতিশোধ নিতে চাইছে। তাদের এই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তিনি আরও বলেন, হত্যাকান্ডে জড়িত যারা বিদেশে পলাতক, তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে কিছু অগ্রগতি আছে। এ বিষয়ে সরকার খুবই সচেষ্ট। তবে বিদেশে আইনগত কিছু জটিলতা আছে।

এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক ও জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও আফজাল হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সবুর, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও রায়েরবাজার স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ বুদ্ধিজীবীদের পরিবারের সদস্যরা। শ্রদ্ধা জানায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-সংস্থা, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী সংগঠন, শ্রমিক সংগঠন, ছাত্রসংগঠন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ সাধারণ মানুষ। সকাল ৭টার দিকে গ্রাফিক্স আর্টস ইনস্টিটিউটের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান। স্মৃতিসৌধের খালি জায়গা সাজানো হয়েছিল শহিদ বুদ্ধিজীবীদের ছবি দিয়ে।

একাত্তরের গেরিলা যোদ্ধা মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন (বিচ্ছু জালাল) সকাল থেকেই মাইকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি তুলে ধরে বক্তব্য দেন। তিনি বর্ণনা করেন কীভাবে এই দিনটিতে বুদ্ধিজীবীদের ধরে এনে বধ্যভূমিতে হত্যা করা হয়। স্মৃতিসৌধে পতাকা অর্ধনমিত না থাকায় একপর্যায়ে এই মুক্তিযোদ্ধা নিজ হাতে তা অর্ধনমিত করে দেন। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে রায়েরবাজারে শ্রদ্ধা জানাতে আসেন।

শহিদ বুদ্ধিজীবীদের সঠিক তালিকা প্রকাশের দাবি : রায়েরবাজার স্মৃতিসৌধে আসা শহিদদের পরিবারের অনেকেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। শহিদ বুদ্ধিজীবীদের সন্তানদের সংগঠন প্রজন্ম ৭১-এর ব্যানারে রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে আয়োজিত এক মানববন্ধনে অংশ নেন তারা। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও শহিদ কাজী শামসুল হকের সন্তান কাজী সাইফউদ্দীন আব্বাস বলেন, শহিদ বুদ্ধিজীবীদের তালিকা এত বছরেও না হওয়া দুঃখজনক, লজ্জার। দ্রুত শহিদ বুদ্ধিজীবীদের সঠিক তালিকা প্রকাশ করা হোক।

নাটক, কবিতা, প্রতিবাদী সমাবেশ : স্মৃতিসৌধের শহিদ বেদিতে ফুলেল শ্রদ্ধার পাশাপাশি নাটক, কবিতা, প্রতিবাদী সমাবেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হয়। বেদির একপাশে চলতে দেখা যায়, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে কবিতাপাঠ, আবৃত্তি ও দেশের গান পরিবেশন। বেদি এলাকায় মানববন্ধন করেছে সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটি। বুদ্ধিজীবী হত্যা নিয়ে নির্মিত ‘কাদা মাখা মাইক্রোবাস’ শীর্ষক নাটক স্মৃতিসৌধে প্রদর্শন করেন চট্টগ্রামভিত্তিক জয়বাংলা থিয়েটারের সদস্যরা।

এছাড়াও দিনটি উপলক্ষ্যে বুদ্ধিজীবী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ অন্যান্য টিভি চ্যানেল বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করে। সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আয়োজন করা হয় আলোচনা সভাসহ নানা অনুষ্ঠান। শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরেও আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল।

ষড়যন্ত্রের মধ্যেও বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে : ষড়যন্ত্র আর প্রতিকূলতার মধ্যেও বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানো শেষে তিনি এ কথা বলেন। সকাল ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো ব্যাজ ধারণ, সাড়ে ৭টায় মিরপুর শহিদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ও ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বি ব্লকে স্থাপিত বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে পুষ্পাঞ্জলি দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

সর্বশেষ - রাজনীতি

আপনার জন্য নির্বাচিত